দি ক্রাইম ডেস্ক: কক্সবাজার শহর সংলগ্ন বাঁকখালী নদীর তীরের আলোচিত কস্তুরাঘাট এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া জমিতে আবারও ঘরসহ স্থাপনা তৈরি করছে অভিযুক্ত দখলদাররা। আগে চুপিসারে কিছু স্থাপনা তৈরি হলেও ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের রাত থেকেই ব্যাপকহারে শুরু হয় এই দখল কার্যক্রম। নির্বাচনের পরে সেখানে টিন দিয়ে তৈরি হয়েছে অন্তত ৩০টি ঘর। অন্যদিকে নতুন করে উচ্ছেদ ঠেকাতে ১৫ দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, কস্তুরাঘাট এলাকার নদী বন্দরের সীমানাধীন বাঁকখালী নদী ও নদীর তীরভূমিতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক জেলা প্রশাসন এবং আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সময় অবৈধ দখলে থাকা নদী এবং নদীর তীর ভূমির ৬৩ একর জায়গা উদ্ধার করা হয় এবং ৪৯৬টি কাঁচা–পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু নানা আইনি নিষেধাজ্ঞার পরও উচ্ছেদের পর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে সেখানে আবারো ঘর তৈরি করে আসছে দখলদাররা।

খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার পর ওই দিন রাত থেকে দখলদারি একটি বড় চক্র তড়িঘড়ি করে টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ শুরু করে। এরপর দুই দিনে ৩০টি মতো ঘর তৈরি করা হয়েছে। দেখা গেছে, তৈরি একটি ঘরে কক্সবাজার–৩ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজলের ছবি সম্বলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেয় দখলদাররা। আরো অনেকে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ঘরগুলো তৈরি করে। এই ঘটনা জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবনির্বাচিত সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল। এরপর ছাত্রদল নেতা শেফায়েত মুন্নার নেতৃত্বে গত শনিবার রাতে সাংসদের সাইনবোর্ড টাঙানো ওই ঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। তবে অন্যান্য ঘরগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল জানান, নদী বন্দরের সীমানা চিহ্নিত করে পিলার স্থাপন করতে তৎকালীন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে উক্ত বন্দরের যৌথ জরিপ করা হয়। কিন্তু সীমানা পিলার স্থাপনকালে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করা হলে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষে তিনটি এবং পুলিশের পক্ষ থেকে একটিসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে। যেখানে এজাহারে ৪০ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আবারও দখল শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার অনেক টাকা খরচ করে বহু চেষ্টায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদী বন্দরের জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আবারো দখলযজ্ঞ শুরু করেছে। এটা কোনোভাবে হতে দেয়া যাবে না। এই দখল কার্যক্রম বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৫টি দফতরে চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

দপ্তরগুলো হলো, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিআইডব্লিউটিএ শাখার সচিব, বিআইডব্লিউটিএ’র প্রশাসন ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক, কঙবাজার জেলা প্রশাসক, কঙবাজারের পুলিশ সুপার, জেলা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি’র পিএস, কঙবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কঙবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ–পরিচালক (প্রশাসন), কঙবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের সমন্বয় কর্মকর্তা, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বিআইডব্লিউটি’র পরিকল্পনার ও পরিচালনা সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী।

নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন, আগে যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তারাই আবার এই দখল কার্যক্রম করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

দি ক্রাইম ডেস্ক: কক্সবাজার শহর সংলগ্ন বাঁকখালী নদীর তীরের আলোচিত কস্তুরাঘাট এলাকায় উচ্ছেদ হওয়া জমিতে আবারও ঘরসহ স্থাপনা তৈরি করছে অভিযুক্ত দখলদাররা। আগে চুপিসারে কিছু স্থাপনা তৈরি হলেও ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের রাত থেকেই ব্যাপকহারে শুরু হয় এই দখল কার্যক্রম। নির্বাচনের পরে সেখানে টিন দিয়ে তৈরি হয়েছে অন্তত ৩০টি ঘর। অন্যদিকে নতুন করে উচ্ছেদ ঠেকাতে ১৫ দপ্তরে চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ।

বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, কস্তুরাঘাট এলাকার নদী বন্দরের সীমানাধীন বাঁকখালী নদী ও নদীর তীরভূমিতে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃক জেলা প্রশাসন এবং আইন–শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় গত বছরের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ওই সময় অবৈধ দখলে থাকা নদী এবং নদীর তীর ভূমির ৬৩ একর জায়গা উদ্ধার করা হয় এবং ৪৯৬টি কাঁচা–পাকা স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়। কিন্তু নানা আইনি নিষেধাজ্ঞার পরও উচ্ছেদের পর থেকে বিচ্ছিন্নভাবে সেখানে আবারো ঘর তৈরি করে আসছে দখলদাররা।

খোঁজ নিয়ে ও সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হওয়ার পর ওই দিন রাত থেকে দখলদারি একটি বড় চক্র তড়িঘড়ি করে টিন দিয়ে ঘর নির্মাণ শুরু করে। এরপর দুই দিনে ৩০টি মতো ঘর তৈরি করা হয়েছে। দেখা গেছে, তৈরি একটি ঘরে কক্সবাজার–৩ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজলের ছবি সম্বলিত ব্যানার টাঙিয়ে দেয় দখলদাররা। আরো অনেকে বিএনপির নাম ভাঙিয়ে ঘরগুলো তৈরি করে। এই ঘটনা জানাজানি হলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এর প্রেক্ষিতে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নবনির্বাচিত সাংসদ লুৎফুর রহমান কাজল। এরপর ছাত্রদল নেতা শেফায়েত মুন্নার নেতৃত্বে গত শনিবার রাতে সাংসদের সাইনবোর্ড টাঙানো ওই ঘর গুঁড়িয়ে দেয়া হয়। তবে অন্যান্য ঘরগুলো এখনো অক্ষত রয়েছে।

এ ব্যাপারে কক্সবাজার (কস্তুরাঘাট) নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল জানান, নদী বন্দরের সীমানা চিহ্নিত করে পিলার স্থাপন করতে তৎকালীন সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে উক্ত বন্দরের যৌথ জরিপ করা হয়। কিন্তু সীমানা পিলার স্থাপনকালে সরকারি কাজে বাধা প্রদান করা হলে বিআইডব্লিউটিএ’র পক্ষে তিনটি এবং পুলিশের পক্ষ থেকে একটিসহ মোট চারটি মামলা হয়েছে। যেখানে এজাহারে ৪০ জনসহ অজ্ঞাতনামা ১৬০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে আবারও দখল শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার অনেক টাকা খরচ করে বহু চেষ্টায় অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করে নদী বন্দরের জমি সরকারের নিয়ন্ত্রণে নেয়। কিন্তু রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে আবারো দখলযজ্ঞ শুরু করেছে। এটা কোনোভাবে হতে দেয়া যাবে না। এই দখল কার্যক্রম বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ১৫টি দফতরে চিঠি দিয়েছে বিআইডব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ।

দপ্তরগুলো হলো, নৌ পরিবহন মন্ত্রণালয়ের বিআইডব্লিউটিএ শাখার সচিব, বিআইডব্লিউটিএ’র প্রশাসন ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক, বিআইডব্লিউটিএ’র বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক, কঙবাজার জেলা প্রশাসক, কঙবাজারের পুলিশ সুপার, জেলা পরিবেশ অধিদফতরের পরিচালক, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনারের একান্ত সচিব, বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি’র পিএস, কঙবাজার সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, কঙবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের উপ–পরিচালক (প্রশাসন), কঙবাজার সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের সমন্বয় কর্মকর্তা, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালকের ব্যক্তিগত সহকারী এবং বিআইডব্লিউটি’র পরিকল্পনার ও পরিচালনা সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী।

নদী বন্দরের পোর্ট অফিসার মো. আব্দুল ওয়াকিল বলেন, আগে যাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তারাই আবার এই দখল কার্যক্রম করে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।