বিজন কুমার বিশ্বাস, নিজস্ব প্রতিনিধি: পর্যটন নগরী কক্সবাজারের একমাত্র বিমানবন্দরের রানওয়েতে বেওয়ারিশ কুকুরের অবাধ বিচরণ এখন ভয়াবহ নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পরিণত হয়েছে। গত পাঁচ মাসে উড্ডয়নের ঠিক আগমুহূর্তে অন্তত দু’টি যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে কুকুরের ধাক্কা লাগার ঘটনাও ঘটেছে। পাইলটদের দক্ষতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো গেলেও যাত্রী ও এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিমানবন্দর সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২ আগস্ট ও ৬ নভেম্বর রানওয়েতে উড্ডয়নের প্রস্তুতিকালে যাত্রীবাহী বিমানের সঙ্গে কুকুরের ধাক্কা লাগে। এতে দু’টি কুকুর মারা যায় এবং বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ০৭ জানুয়ারি কক্সবাজার বিমানবন্দরে প্রথমবারের মতো একটি বিশেষ নিরাপত্তা মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। মহড়াটি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)-এর চেয়ারম্যান। তবে ওই মহড়ার মধ্যেই রানওয়ে ও আশপাশের এলাকায় কুকুরের অবাধ বিচরণ চোখে পড়ে, যা নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা আরও স্পষ্ট করে তোলে। এ সময় একটি যাত্রীবাহী বিমান উড্ডয়ন করলেও কুকুরগুলো সরাতে কার্যকর কোনো তাৎক্ষণিক উদ্যোগ দেখা যায়নি।
বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলোর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কার্যকর সমাধান এখনো পাওয়া যায়নি।
নভোএয়ারের কক্সবাজার স্টেশন ইনচার্জ মো. সরওয়ার-উল-কাদের বলেন,‘বিষয়টি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। আমরা একাধিকবার সিভিল এভিয়েশনকে জানিয়েছি। আমাদের বলা হয়েছে, বিমানবন্দর ও রানওয়ে এখনো নির্মাণাধীন। রানওয়ের দৈর্ঘ্য ৯ হাজার ফুট থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার ৭০০ ফুট করা হচ্ছে। বাউন্ডারি নির্মাণ শেষ হলে ঝুঁকি কমবে। ততদিন অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।’
ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের স্টেশন ইনচার্জ আহমদ মুসা বলেন,‘এয়ারক্রাফটের নিরাপত্তা কোনো একক প্রতিষ্ঠানের বিষয় নয়, এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতে হবে।’
এদিকে যাত্রী ও পর্যটকরাও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঢাকাগামী যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন,‘রানওয়েতে কোনো প্রাণী ঢুকে পড়লে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এটা সরাসরি কর্তৃপক্ষের তদারকির ঘাটতির প্রমাণ।’
আরেক যাত্রী জসিম উদ্দিন জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল বলেন, ‘পেরিমিটারের ভেতরে কুকুর বা অন্য প্রাণী প্রবেশ ফ্লাইট সেফটির জন্য বড় হুমকি। আমরা জনবল নিয়োজিত করেছি, বার্ড হ্যাজার্ড ও ওয়াইল্ডলাইফ নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিয়েছি। তবে কিছু এলাকায় এখনো সীমানা প্রাচীর নির্মাণাধীন।’
তিনি আরও জানান, বিষয়টি চেয়ারম্যানসহ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানে উন্নীতকরণ ও পূর্ণাঙ্গ পেরিমিটার সিকিউরিটি সম্পন্ন হলে এ সমস্যা থাকবে না।
বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্মাণকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প ও তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার না করলে যেকোনো সময় অপূরণীয় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কক্সবাজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন নগরীর বিমানবন্দরে এমন ঝুঁকি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।




