মনির আহমেদ চৌধূরী,নগর প্রতিবেদক: সিএমপির ডিবি (উত্তর) বিভাগ ও পাঁচলাইশ পুলিশের যৌথ অভিযানে আলোচিত ৩৫০ ভরি স্বর্ণ ছিনতাই মামলার মূল আসামিসহ ৬ জন গ্রেফতার ও লুণ্ঠিত ২৯০ ভরি স্বর্ণ(যার আনুমানিক মূল্য পাঁচ কোটি আশি লক্ষ টাকা) এবং ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে।আজ শুক্রবার(০৯ জানুয়ারী)সিএমপি পুলিশ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার(০৮ জানুয়ারী) পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে গাজীপুর জেলার কাশিমপুর থানাধীন মাধবপুর এলাকা হ’তে কাশিমপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে মামলার মূল অভিযুক্ত সুমন চন্দ্র দাস (৪২), মোঃ মাসুদ রানা প্রকাশ বাইক বাবু (৩০) ও রফিকুল ইসলাম প্রকাশ ইমন (২২)-কে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের হেফাজত থেকে ছিনতাইয়ের কাজে ব্যবহৃত ১টি সুজুকি জিক্সার মোটরসাইকেল উদ্ধার করেন।
পুলিশ জানায়,গত ০৪জানুয়ারী ভোরে জনৈক সবুজ দেবনাথ তার সঙ্গে আরও ২ জনকে নিয়ে সিএনজি যোগে কোতোয়ালী থানাধীন সাবেরিয়া এলাকা থেকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন অক্সিজেনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথিমধ্যে আতুরের ডিপো এলাকায় পৌঁছালে ২টি মোটর সাইকেলে থাকা অজ্ঞাতনামা ৪ জন ছিনতাইকারী তাদের পথরোধ করে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মারধর করে। এসময় তাদের কাছ থেকে ৩৫টি স্বর্ণের বার, ব্যবহৃত ৩টি মোবাইল ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায়।
এঘটনায় পাঁচলাইশ মডেল থানার মামলা নং-০১, তারিখ-০৫/০১/২০২৬, ধারা-৩৯৪, পেনাল কোড মামলা রুজু করা হয়। পাঁচলাইশ মডেল থানা ও ডিবি (উত্তর) বিভাগের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস আভিযানিক দল গোপন সূত্র ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান পরিচালনা করেন।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ১নং আসামি সুমন চন্দ্র দাস স্বীকার করেন যে, তার নেতৃত্বে পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা সংঘটিত হয় এবং লুণ্ঠিত স্বর্ণের বারগুলো তার স্ত্রী অর্থাৎ ৫নং আসামি পান্না রানী দাস প্রকাশ দিপালী রানী দাশ (৩৮) অথবা তার চাচাতো ভাই ৪নং আসামি রবি কুমার দাস (৪০)-এর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। আসামির স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে একই দিন সন্ধ্যায় ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানাধীন রায়ের বাজার এলাকা থেকে ৪নং আসামি রবি কুমার দাস (৪০)-কে গ্রেফতার করা হয়।
পরবর্তীতে তারর স্বীকারোক্তিমতে একই দিন রাতে নগরের হালিশহর থানাধীন বড়পুল এলাকা থেকে ৫নং আসামি পান্না রানী দাস প্রকাশ দিপালী রানী দাশ (৩৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।
এছাড়াও ১নং আসামি সুমন চন্দ্র দাসের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের তথ্য বিশ্লেষণ ও স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে মামলার গোপন তথ্যদাতা হিসেবে ৬নং আসামি বিবেক বনিক (৪২)-কে ঘঠনার রাতে কোতোয়ালী থানা এলাকা থেকে গ্রেফাতর করা হয়।
জানা যায়, ছিনতাইকৃত ২৯টি স্বর্ণের বার প্রথমে ৫নং আসামি পান্না রানী দাসের হেফাজতে রাখা হয় এবং পরবর্তীতে তা ৪নং আসামি রবি কুমার দাসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ৪নং আসামি স্বীকার করেন যে, তিনি লুণ্ঠিত স্বর্ণগুলো তার বোন সাক্ষী প্রতিমা দাশের কাছে সরল বিশ্বাসে রেখে যান।
এই তথ্যের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার (০৯জানুয়ারী) ডিএমপির মোহাম্মদপুর থানাধীন বৈশাখী খেলার মাঠ সংলগ্ন সিরাজ মিয়ার বিল্ডিংয়ের ৫ম তলার একটি বাসা থেকে একটি Pure it Classic Germ Kill Kit নামীয় কাগজের বাক্স উদ্ধার করা হয়। এই বাক্সের ভেতর মৌজায় মোড়ানো ও হলুদ রঙের কস্টেপ দ্বারা মোড়ানো অবস্থায় ২৯টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়, যার প্রতিটি বারের ওপর ইংরেজিতে “sam 10 TOLAS GOLD 999.0” লেখা সম্বলিত বারগুলো উদ্ধার করেন। এঘটনায় সন্দীগ্ধ আরও আসামিদের গ্রেফতার ও আলামত উদ্ধারের অভিযান অব্যাহত আছে।
Post Views: 63




