নগর প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম মহানগরীতে ব্যটারী চালিত অটোরিকশার নিবন্ধন চেয়ে মহা সম্মেলনের ডাক দিয়েছেন সম্মিলিত অটোরিকশার মালিক ও চালকগণ।গত বুধবার (০৭ জানুয়ারী) নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন উত্তর চান্দগাঁও বোর্ড স্কুল সংলগ্ন অটোরিকশার একটি গ্যারেজ থেকে ৫ দফা দাবি জানিয়ে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মহানগর ব্যাটারী চালিত অটোরিক্সা ও ইজিবাইক মালিক-চালক সম্মিলিত আন্দোলনের সভাপতি ওয়াজিউল্লা।
সভা সঞ্চালনা করেন মোহাম্মদ ইমতিয়াজ আহমেদ।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তঃজেলা পরিবহন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ শাহ্ আলম।
উপস্থিত ছিলেন মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রুবেল, নয়ন দেব, চান্দগাঁও থানা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ নেওয়াজ সহ আরও অনেকে।
এসময় বাংলাদেশ পুলিশ এবং সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করে বক্তব্য রাখেন বক্তারা।
তারা বলেন,ব্যাটারী চালিত অটোরিকশার ব্যাটারী-সহ সকল প্রকার যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় এবং পণ্যটি শো-রুমে তুলে বিক্রি করা পর্যন্ত লাভবান হয় সরকার, এবং পণ্যটি বাজারজাত করে প্রচুর পরিমাণ রাজস্ব আদায় করেন সরকার। কিন্তু সড়কে চলাচলের সময়ে বিপত্তি কেন? এমন প্রশ্ন রেখে বক্তব্য দেওয়া হয় সম্মেলনে। তবে অদৃশ্য কারণে ব্যাটারীচালিত অটোরিকশার নিবন্ধন সহ রুট পারমিট দিতে ব্যর্থ সরকার।
এসময় ৫ দাবির বিষয় পড়ে শোনান সংগঠনের সভাপতি ওয়াজিউল্লা, এবং লিফলেট বিতরণ করা হয়। এতে সামাজিক মর্যাদাহীন ও অমানবিক প্যাডেল চালিত রিকশার পেশার শান্তিপূর্ণ অবসানের লক্ষ্যে চট্টগ্রাম মহানগর এলাকায় “পরিবেশ ও যাত্রী-বান্ধব ব্যাটারী-চালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইক” চলাচলের বৈধতা নিশ্চিতকরণে রাজশাহী ও রংপুর সিটি কর্পোরেশন এবং অন্যান্য পৌরসভার মতো অবিলম্বে লাইসেন্স ইস্যু করতে হবে।
চট্টগ্রাম মহানগরে ব্যাটারী চালিত রিকশা প্রতি এককালীন অনূর্ধ্ব ২ হাজার টাকা, লাইসেন্স ফি বাবদ বছরে ১ হাজার টাকা ফি ধার্য করে প্রস্তাব রাখা হয়।
চট্টগ্রাম নগরীর ১৬ থানায় কমপক্ষে ৩২ হাজার ব্যাটারী চালিত অটোরিকশার নিবন্ধন বা লাইসেন্স দিতে দাবি জানানো হয়। এতে প্রায় এককালীন ৬ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা রাজস্ব আদায় করতে পারবে সরকার। এছাড়া বছরে রি-নিউ আদায় হবে ৩কোটি ২০ লক্ষ টাকা।
বক্তারা আরো বলেন, একটি মহল সরকারকে বৈধ আয়ের পথ থেকে দুরে সরিয়ে ট্রাফিক পুলিশ দিয়ে টো করার অজুহাতে ৩ হাজার টাকা আদায় করে অটোরিকশা মালিক চালকদের কাছ থেকে। এছাড়া টো’র কবল থেকে বাঁচতে হলে নগদে ২ হাজার টাকা এনে দিলে অটোরিকশা ছেড়ে দেয় পুলিশ। প্রতিদিন এ রকম জুলুম নির্যাতনের শিকার হচ্ছে শত-শত চালক-মালিকগণ।
বৈধভাবে আমদানি করা ব্যাটারী চালিত রিকশা গুলোকে অবৈধ ঘোষণা দিয়ে অবৈধভাবে অর্থ উপার্জন করছে দুর্নীতিবাজ পুলিশ কর্মকর্তাগণ।
অবিলম্বে দেশের গরীব অসহায় মানুষের উপর জুলুম নির্যাতন বন্ধ করে ব্যাটারী চালিত অটোরিকশার নিবন্ধনসহ চালকদের লাইসেন্স প্রদান করে সরকারের রাজস্ব আয়ের সুযোগ করে দেওয়ার দাবি জানানো হয়।




