নিজস্ব প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধন যেন আর সেবা নয়,একটি নিয়ন্ত্রিত ‘দালাল-নির্ভর বাণিজ্য’। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন নেই বরং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরেজমিন অভিযানেও অটুট রয়েছে একই সিন্ডিকেট। প্রশ্ন উঠছে,দুদকের হাতে ‘ধরা খাওয়া’ অফিসে কেন বহাল রয়েছেন সেই বিতর্কিত কর্মকর্তারাই?

সরেজমিনে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিসিটিভি থাকলেও সাধারণ সেবা প্রার্থীদের সরাসরি প্রবেশ কার্যত বন্ধ। ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড টানিয়ে তৈরি করা হয়েছে দালালনির্ভর কৃত্রিম জট।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালাল ছাড়া কোনো ফাইল এগোয় না, আর ‘ম্যানেজ’ না করলে দলিল নিবন্ধনও আটকে যায়।

উখিয়া সদরের এক ভুক্তভোগী বলেন,“সরকারি ফি দিয়েও কয়েকদিন ঘুরতে হয়েছে। শেষে বলা হলো—ম্যানেজ না করলে দলিল নামবে না। ০.৫ শতাংশ ঘুষ, কোটি টাকায় ৫০ হাজার টাকা ‘নজরানা’।

স্থানীয় দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জমির ঘোষিত মূল্যের প্রায় ০.৫ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অর্থাৎ এক কোটি টাকার জমি রেজিস্ট্রিতে দিতে হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঘুষ। এই অর্থ সরাসরি নয়,দালাল ও দলিল লেখকদের মাধ্যমে আদায় করা হয় যাতে লেনদেন থাকে আড়ালে।

সিন্ডিকেটের মূল স্তম্ভ কারা?

অভিযোগের তীর ছুটছে অফিস সহকারী বেবী রাণী দে, মোহরার সৃদুল দাশ ও রবিউল্লাহ রবি–এর দিকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই তিনজনকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট, যারা অফিসের প্রতিটি ধাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

দুদকের অভিযানে ‘নগদ সরানোর’ অভিযোগ

গত বছরের ১৬ এপ্রিল দুদকের জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায়।

এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“দুদক আসার খবর আগেই সাব-রেজিস্ট্রার জেনে যান। সেদিন সকালেই অফিসে এসে ভেতরের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা সরিয়ে ফেলা হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক গোলসান আনোয়ার সেদিন গণমাধ্যমকে জানান,“ছদ্মবেশে অভিযানে দলিলের খরচ ও পদ্ধতি যাচাই করা হয়। সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এতকিছুর পরও কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

বহাল আছেন সাব-রেজিস্ট্রার

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম–কে ঘিরে। পতিত সরকার আমল থেকে দীর্ঘদিন একই অফিসে বহাল থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও তিনি রয়ে গেছেন অটুট।

এক প্রবীণ দলিল লেখক বলেন, “দীর্ঘদিন একই কর্মকর্তা থাকলে এমন সিন্ডিকেট গড়ে ওঠাই স্বাভাবিক।

রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতির অভিযোগ

ঘুষ বাণিজ্যের পাশাপাশি আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—জমির শ্রেণি পরিবর্তন, প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে দলিল করা সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি এই প্রক্রিয়ায় একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

কি বলছেন অভিযুক্তরা?

রবিউল্লাহ রবি বলেন,“আমি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

অফিস সহকারী বেবী রাণী দে ও মোহরার সৃদুল দাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন,“অফিসে প্রবেশে কোনো বাধা নেই। সবকিছু সিসিটিভির আওতায়। অবৈধ লেনদেনের সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন,“সরকার বদলেছে, কিন্তু মাঠের চিত্র বদলায়নি। এখনই ব্যবস্থা না নিলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিমত,শুধু অভিযান নয়, দরকার প্রশাসনিক জবাবদিহি, সংশ্লিষ্টদের বদলি, এবং স্বাধীন তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

উখিয়ার মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন করছে—দুদকের অভিযানের পরও এই দুর্নীতির দুর্গ কেন অক্ষত? আমাদের ভবিষ্যৎ কি এভাবেই চলবে?

নিজস্ব প্রতিনিধি: কক্সবাজারের উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে জমি নিবন্ধন যেন আর সেবা নয়,একটি নিয়ন্ত্রিত ‘দালাল-নির্ভর বাণিজ্য’। বছরের পর বছর ধরে চলে আসা অনিয়ম, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমলেও বাস্তবে কোনো পরিবর্তন নেই বরং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সরেজমিন অভিযানেও অটুট রয়েছে একই সিন্ডিকেট। প্রশ্ন উঠছে,দুদকের হাতে ‘ধরা খাওয়া’ অফিসে কেন বহাল রয়েছেন সেই বিতর্কিত কর্মকর্তারাই?

সরেজমিনে দেখা যায়, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সিসিটিভি থাকলেও সাধারণ সেবা প্রার্থীদের সরাসরি প্রবেশ কার্যত বন্ধ। ‘বিনা অনুমতিতে প্রবেশ নিষেধ’ লেখা সাইনবোর্ড টানিয়ে তৈরি করা হয়েছে দালালনির্ভর কৃত্রিম জট।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, দালাল ছাড়া কোনো ফাইল এগোয় না, আর ‘ম্যানেজ’ না করলে দলিল নিবন্ধনও আটকে যায়।

উখিয়া সদরের এক ভুক্তভোগী বলেন,“সরকারি ফি দিয়েও কয়েকদিন ঘুরতে হয়েছে। শেষে বলা হলো—ম্যানেজ না করলে দলিল নামবে না। ০.৫ শতাংশ ঘুষ, কোটি টাকায় ৫০ হাজার টাকা ‘নজরানা’।

স্থানীয় দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, জমির ঘোষিত মূল্যের প্রায় ০.৫ শতাংশ অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। অর্থাৎ এক কোটি টাকার জমি রেজিস্ট্রিতে দিতে হয় প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঘুষ। এই অর্থ সরাসরি নয়,দালাল ও দলিল লেখকদের মাধ্যমে আদায় করা হয় যাতে লেনদেন থাকে আড়ালে।

সিন্ডিকেটের মূল স্তম্ভ কারা?

অভিযোগের তীর ছুটছে অফিস সহকারী বেবী রাণী দে, মোহরার সৃদুল দাশ ও রবিউল্লাহ রবি–এর দিকে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, এই তিনজনকে ঘিরেই গড়ে উঠেছে শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট, যারা অফিসের প্রতিটি ধাপ নিয়ন্ত্রণ করে।

দুদকের অভিযানে ‘নগদ সরানোর’ অভিযোগ

গত বছরের ১৬ এপ্রিল দুদকের জেলা কার্যালয়ের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম উখিয়া সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অভিযান চালায়।

এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,“দুদক আসার খবর আগেই সাব-রেজিস্ট্রার জেনে যান। সেদিন সকালেই অফিসে এসে ভেতরের প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা সরিয়ে ফেলা হয়।

দুদকের উপ-পরিচালক গোলসান আনোয়ার সেদিন গণমাধ্যমকে জানান,“ছদ্মবেশে অভিযানে দলিলের খরচ ও পদ্ধতি যাচাই করা হয়। সেবা গ্রহীতাদের হয়রানি ও অনৈতিকভাবে অর্থ আদায়ের সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে এতকিছুর পরও কোনো দৃশ্যমান শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে।

বহাল আছেন সাব-রেজিস্ট্রার

সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম–কে ঘিরে। পতিত সরকার আমল থেকে দীর্ঘদিন একই অফিসে বহাল থাকা এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একাধিকবার অভিযোগ উঠলেও তিনি রয়ে গেছেন অটুট।

এক প্রবীণ দলিল লেখক বলেন, “দীর্ঘদিন একই কর্মকর্তা থাকলে এমন সিন্ডিকেট গড়ে ওঠাই স্বাভাবিক।

রাজস্ব ফাঁকি ও জালিয়াতির অভিযোগ

ঘুষ বাণিজ্যের পাশাপাশি আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে—জমির শ্রেণি পরিবর্তন, প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে কম দাম দেখিয়ে দলিল করা সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি এই প্রক্রিয়ায় একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

কি বলছেন অভিযুক্তরা?

রবিউল্লাহ রবি বলেন,“আমি এসব বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাই না।”

অফিস সহকারী বেবী রাণী দে ও মোহরার সৃদুল দাশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সাব-রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ মোরশেদ আলম বলেন,“অফিসে প্রবেশে কোনো বাধা নেই। সবকিছু সিসিটিভির আওতায়। অবৈধ লেনদেনের সুযোগ নেই। অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী নুরুল আমিন বলেন,“সরকার বদলেছে, কিন্তু মাঠের চিত্র বদলায়নি। এখনই ব্যবস্থা না নিলে মানুষের আস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়বে।

স্থানীয়দের অভিমত,শুধু অভিযান নয়, দরকার প্রশাসনিক জবাবদিহি, সংশ্লিষ্টদের বদলি, এবং স্বাধীন তদন্ত ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা।

উখিয়ার মানুষ এখন একটাই প্রশ্ন করছে—দুদকের অভিযানের পরও এই দুর্নীতির দুর্গ কেন অক্ষত? আমাদের ভবিষ্যৎ কি এভাবেই চলবে?