বশির আহমেদ, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি: প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞা ও পরিবেশগত বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর এলাকায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম চলছে। পার্বত্য অঞ্চলে ইটভাটা পরিচালনায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তির মালিকানায় এসব ভাটা নির্বিঘ্নে কাজ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।পরিবেশ অধিদপ্তরের কোনো অনুমোদন ছাড়াই গড়ে ওঠা এই ভাটায় জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে বনজ কাঠ। পাশাপাশি, ইট তৈরির কাঁচামাল সংগ্রহের জন্য নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। এতে করে স্থানীয় পরিবেশ মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় দূষিত হচ্ছে বাতাস, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বিদ্যালয়সহ আশপাশের পরিবেশ। ভাটার ধোঁয়ায় স্কুল প্রাঙ্গণ আচ্ছন্ন থাকে বলে ক্লাসরুমে আলো-বাতাস প্রবেশে বিঘ্ন ঘটে এবং শিক্ষার্থীদের শ্বাসকষ্টসহ স্বাস্থ্যগত সমস্যা দেখা দিচ্ছে। এছাড়া, ইটবোঝাই ভারী যানবাহনের চলাচলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইটভাটার কারণে শিশু ও বয়স্করা শ্বাসকষ্ট, কাশি ও চোখ জ্বালাপোড়ায় ভুগছেন। পাহাড় কাটা ও বন উজাড়ের ফলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস হচ্ছে। আর অবৈধ এই ভাটায় কম মজুরিতে শিশু ও রোহিঙ্গা শরণার্থী শ্রমিক নিয়োগ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে ভাটাটি চালানো হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। মাঝেমধ্যে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান হলেও তা কেবল সাময়িক; কিছুদিন পর আবারও চালু হয় এর কার্যক্রম।
এ বিষয়ে বান্দরবান পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম বলেন, ‘লামার আজিজনগর এলাকায় ‘এসবিএম’ নামে একটি ইটভাটা চালুর বিষয়টি আমরা জেনেছি। শিগগিরই অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
বান্দরবানের জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি বলেন,‘পরিবেশের ক্ষতি করে পার্বত্য এলাকায় কোনোভাবেই ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালিত হতে দেওয়া হবে না। পরিবেশ অধিদপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে এসব অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করা হবে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কেবল আজিজনগর নয়, লামা উপজেলার সদর, ফাইতং, সরই, ফাঁসিয়াখালী, ইয়াংছা এবং নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে একাধিক অবৈধ ইটভাটা সক্রিয় রয়েছে। এসব ভাটা বন্ধে প্রশাসনের বিশেষ কোনো উদ্যোগ না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
পরিবেশবিদরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকায় ইটভাটা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। পাহাড় ধ্বংস, বন উজাড় ও বায়ুদূষণের মাধ্যমে এটি পরিবেশের ভারসাম্য সম্পূর্ণ নষ্ট করে দিতে পারে। তারা অবিলম্বে অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করে পরিবেশবান্ধব বিকল্প নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারে জোর দিচ্ছেন।




