সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: সাতকানিয়ায় পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মো. ইফতেখার (২৬) নামে এক যুবককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মো. ইফতেখারের ছোট বোন ইফনাত সোলতানা আলিয়া।

ইফনাত সোলতানা আলিয়া বলেন, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে সাতকানিয়া থানার একটি পুলিশ ফোর্স আমাদের বাড়িতে আসেন। এরপর পুলিশ পরিচয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা আমার ভাই ইফতেখারের নাম ধরে ডেকে দরজা খুলতে বলেন। এ সময় আইনের কাজে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে বিলম্ব না করে ইফতেখার নিজেই ঘরের দরজা খুলে দেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা সম্পূর্ণ বাড়ি তল্লাশি করেও কোন ধরনের অস্বাভাবিক কিছুর হদিস পাননি। এমনকি অস্ত্র তো দূরের কথা একটি লাঠিও পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি তারা। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ১২ গজ দূরে ছাগলের খোঁয়াড় থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। যা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না। এ ছাড়াও এটি বাস্তবতার সাথেও সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাই ইফতেখার একজন নিরপরাধী হয়েও ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে । আমার ভাই একজন সাধারণ নাগরিক এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একটি কুচক্রী মহল সাতকানিয়া থানা প্রশাসনকে তাঁর বিষয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যে সরবরাহ করেছে। আমাদের ধারণা ওই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীটি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে থানাকে ভুল তথ্য দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় কোনো ধরনের মামলা বা অভিযোগ ছিল না। এমনকি এলাকাতেও তাঁর বিরুদ্ধে কারও উপর জুলুম, অত্যাচার বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের নজির নেই।

ইফনাত সোলতানা আলিয়া আরও বলেন, গভীর রাতে কোনো ধরনের মামলা ছাড়াই এমন গ্রেপ্তার সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একজন নিরপরাধ মানুষকে এভাবে হয়রানি করা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবিলম্বে এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করে আমার ভাই ইফতেখারকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠন ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।

বর্তমানে কারাগারে থাকা মো. ইফতেখারের ছোট ভাই বিক্রয় প্রতিনিধি মো.আদিল বলেন, পুলিশ আমাদের ঘরে ঢুকে প্রথমেই আমার ভাই ইফতেখারকে কিছু না বলে হ্যান্ড কাপ লাগিয়ে দেয়। ঘরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোন অস্ত্র পায়নি পুলিশ। পুলিশের কাছে হঠাৎ একটা ফোন আসে, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, খামার ঘরে অস্ত্র আছে। পরে খামারে গিয়ে পুলিশ একটা অস্ত্র নিয়ে আসে। খামারটা আমাদের ঘর থেকে ১০০ ফুট দূরে। সকাল ৬ টা থেকে রাত ১০ থেকে ১১ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মূলত আমার ভাইকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এ অস্ত্র উদ্ধারের সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

আদিল আরও বলেন, আমার ভাই ছাগল ও হাঁস-মুরগী পালন করে। এছাড়া ন্যায্য মূল্যের ১০ টাকা দামে চাউল বিক্রির ডিলার। ভাই জামায়াত সমর্থন করে। করোনকালীন সময়ে এলাকায় লোকজনকে অনেক সহায়তা করেছেন, তিনি এলাকায় জনদরদী হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যদি মনে করে বিষয়টি মিথ্যা, তাহলে তারাই প্রমাণ করুক কিভাবে বিষয়টি মিথ্যা হয়। যেখানে গ্রেপ্তারকৃতের স্বীকারোক্তি মতে অস্ত্র উদ্ধার হয়, সেখানে মিথ্যা বলার অবকাশ নাই। তবুও বিষয়টি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

প্রসঙ্গত, গত (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইছামতি আলীনগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরী এলজি, তিন রাউন্ড কার্তুজ ও একটি রামদাসহ মো. ইফতেখারকে গ্রেপ্তার করেন সাতকানিয়া থানা পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: সাতকানিয়ায় পুলিশকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মো. ইফতেখার (২৬) নামে এক যুবককে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানোর অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। আজ মঙ্গলবার (০৬ জানুয়ারি) বিকালে উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, মো. ইফতেখারের ছোট বোন ইফনাত সোলতানা আলিয়া।

ইফনাত সোলতানা আলিয়া বলেন, চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি রাত ২টার দিকে সাতকানিয়া থানার একটি পুলিশ ফোর্স আমাদের বাড়িতে আসেন। এরপর পুলিশ পরিচয়ে ঘুমন্ত অবস্থায় থাকা আমার ভাই ইফতেখারের নাম ধরে ডেকে দরজা খুলতে বলেন। এ সময় আইনের কাজে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে বিলম্ব না করে ইফতেখার নিজেই ঘরের দরজা খুলে দেন। এরপর পুলিশ সদস্যরা সম্পূর্ণ বাড়ি তল্লাশি করেও কোন ধরনের অস্বাভাবিক কিছুর হদিস পাননি। এমনকি অস্ত্র তো দূরের কথা একটি লাঠিও পর্যন্ত উদ্ধার করতে পারেনি তারা। পরে বাড়ি থেকে প্রায় ১২ গজ দূরে ছাগলের খোঁয়াড় থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছেন বলে মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়। যা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হচ্ছে না। এ ছাড়াও এটি বাস্তবতার সাথেও সম্পূর্ণ সাংঘর্ষিক।

তিনি আরও বলেন, আমার ভাই ইফতেখার একজন নিরপরাধী হয়েও ষড়যন্ত্রমূলক ও মিথ্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বর্তমানে কারাগারে রয়েছে । আমার ভাই একজন সাধারণ নাগরিক এবং আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। একটি কুচক্রী মহল সাতকানিয়া থানা প্রশাসনকে তাঁর বিষয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্যে সরবরাহ করেছে। আমাদের ধারণা ওই স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীটি প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে থানাকে ভুল তথ্য দিয়ে এই ঘটনা ঘটিয়েছে। এর আগে আমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে থানায় কোনো ধরনের মামলা বা অভিযোগ ছিল না। এমনকি এলাকাতেও তাঁর বিরুদ্ধে কারও উপর জুলুম, অত্যাচার বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের নজির নেই।

ইফনাত সোলতানা আলিয়া আরও বলেন, গভীর রাতে কোনো ধরনের মামলা ছাড়াই এমন গ্রেপ্তার সংবিধান স্বীকৃত নাগরিক অধিকার এবং মানবাধিকারের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। একজন নিরপরাধ মানুষকে এভাবে হয়রানি করা শুধু একটি পরিবারের নয়, বরং পুরো সমাজের জন্য উদ্বেগজনক দৃষ্টান্ত। আমরা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে অবিলম্বে এই মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহার করে আমার ভাই ইফতেখারকে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি। এ ছাড়া সংবাদ সম্মেলনে মানবাধিকার সংগঠন ও মানবিক সংগঠনগুলোকেও এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে তাদের পাশে দাঁড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়।

বর্তমানে কারাগারে থাকা মো. ইফতেখারের ছোট ভাই বিক্রয় প্রতিনিধি মো.আদিল বলেন, পুলিশ আমাদের ঘরে ঢুকে প্রথমেই আমার ভাই ইফতেখারকে কিছু না বলে হ্যান্ড কাপ লাগিয়ে দেয়। ঘরে অনেক খোঁজাখুঁজির পরও কোন অস্ত্র পায়নি পুলিশ। পুলিশের কাছে হঠাৎ একটা ফোন আসে, ফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, খামার ঘরে অস্ত্র আছে। পরে খামারে গিয়ে পুলিশ একটা অস্ত্র নিয়ে আসে। খামারটা আমাদের ঘর থেকে ১০০ ফুট দূরে। সকাল ৬ টা থেকে রাত ১০ থেকে ১১ টা পর্যন্ত খোলা থাকে। মূলত আমার ভাইকে অস্ত্র দিয়ে ফাঁসানো হয়েছে। আমরা এ অস্ত্র উদ্ধারের সুষ্ঠু তদন্ত চাই।

আদিল আরও বলেন, আমার ভাই ছাগল ও হাঁস-মুরগী পালন করে। এছাড়া ন্যায্য মূল্যের ১০ টাকা দামে চাউল বিক্রির ডিলার। ভাই জামায়াত সমর্থন করে। করোনকালীন সময়ে এলাকায় লোকজনকে অনেক সহায়তা করেছেন, তিনি এলাকায় জনদরদী হিসেবে পরিচিত।

চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, ভুক্তভোগী পরিবার যদি মনে করে বিষয়টি মিথ্যা, তাহলে তারাই প্রমাণ করুক কিভাবে বিষয়টি মিথ্যা হয়। যেখানে গ্রেপ্তারকৃতের স্বীকারোক্তি মতে অস্ত্র উদ্ধার হয়, সেখানে মিথ্যা বলার অবকাশ নাই। তবুও বিষয়টি অধিকতর তদন্তের মাধ্যমে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।

প্রসঙ্গত, গত (৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ৩টার দিকে সাতকানিয়া উপজেলার পশ্চিম ঢেমশা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইছামতি আলীনগর এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে একটি দেশীয় তৈরী এলজি, তিন রাউন্ড কার্তুজ ও একটি রামদাসহ মো. ইফতেখারকে গ্রেপ্তার করেন সাতকানিয়া থানা পুলিশ। পরে তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।