দি ক্রাইম ডেস্ক: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে সাড়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘কাটাগড় দেওয়ান শাগির শাহ’ গ্রামীণ মেলা এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মেলার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন।

স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ থেকে মেলা আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করায় কোনও পক্ষকেই অনুমোদন দেয়নি প্রশাসন। তবে মেলা না হলেও ওরশের জন্য অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হাসান চৌধুরী।

ইউএনও বলেন, ‘মেলা মিলানোর জন্য দুই গ্রুপে দুইটি কমিটির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তাদেরকে বলা হয়েছে, দুই গ্রুপ যদি এক হতে পারেন তাহলে মেলা মিলান। কারণ ওই এলাকায় মেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই গ্রুপেরই মামলা হয়। স্থানীয় দুটি পক্ষের হানাহানির কারণে মেলা নিয়ে নেগেটিভ প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় পক্ষগুলোই চায় না মেলা হোক। আমরা কি করতে পারি? তবে সেখানে ওরশ শরীফ করতে কোনো বাধা নেই।’

প্রতিবছর বাংলা পঞ্জিকার ১২ চৈত্র ধর্মীয় সাধক শাগির শাহের (রহ.) ওফাত (মৃত্যু) দিবসে বোয়ালমারী উপজেলার রূপপাত ইউনিয়নের কাটাগড় গ্রামে মেলাটি শুরু হয়ে চলে প্রায় মাসব্যাপী। মেলাটি আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। এলাকাবাসী বলছেন, চলতি বছর ৩৫১ বারের মতো এ মেলার আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কারণেই মেলাটি বন্ধ হয়নি। এমনকি করোনা মহামারির সময়েও স্বল্প পরিসরে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, কাটাগড়ের এ মেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে রূপাপাত ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আক্কাস মন্টু ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আনিচুর রহমান টিটোসহ একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৫ মার্চ আবেদন করেন। তারা বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-১ আসনের (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শামচুউদ্দিন মিয়া ওরফে ঝুনুর সমর্থক।

অপরদিকে ১৬ মার্চ সাতদিনের অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন কাটাগড় দেওয়ান শাগির শা’র মাজারের খাদেম ইরাদত ফকির। তাকে দিয়ে আবেদন করান বোয়ালমারী বিএনপির অপর অংশ রূপাপাত ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওরফে সোনা মিয়া, ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি শাহীন মোল্লা, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকরাম শেখ, আজাদ মোল্যা, হাফিজুর মোল্যা ও আহাদ মোল্যাসহ অপর একটি পক্ষ। এ পক্ষটি কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি ও আগামী সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক।

দুপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাটাগড় মেলার আয়োজন নিয়ে গত ১৫ মার্চ বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির বিবাদমান দুই নেতার অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের বিষয় নিয়ে স্থানীয় থানায় দুপক্ষের পাল্টপাল্টি মামলা হয়। এ নিয়ে দুটি পক্ষ মানববন্ধনও করে। যার কারণে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসন মেলার অনুমতি দেননি।

কাটাগড় দেওয়ান শাগির শাহ (রহ.) এর মাজারের ৯ম তম খাদেম সিদ্দিক ফকির বলেন, ‘দেওয়ান শাগির শাহের ওফাত (মৃত্যু) দিবস উপলক্ষে ওরশকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করা হয়। সাড়ে তিনশ বছর ধরে কাটাগড় গ্রামে মেলা চলছে। মেলাটি কোনদিন বন্ধের কথা শুনি নাই। এ বছর কি কারণে বন্ধ হলো জানি না। আমরা চাই এখানে আবার মেলাটি শুরু হোক।’

বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামচুউদ্দিন মিয়া ওরফে ঝুনু বলেন, ‘এ মেলা আয়োজনের জন্য ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে মেলা আয়োজনের জন্য অনুমতি চান। এ সময় ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ একটি অংশ, যারা খন্দকার নাসিরুলের অনুসারী হিসেবে পাল্টা আবেদন জমা দেয়। পাশাপাশি নাসিরুলের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে বিএনপির কর্মী সমর্থকদের উপর নিযাতন করেছে।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপির কোনো দ্বন্দ্ব বা কোন্দলের কারণে মেলা বন্ধ হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে, মেলা উপলক্ষে যে টাকা পয়সা ওঠে তার ভাগাভাগি নিয়ে। এতো দিন আওয়ামী লীগরা টাকা খেত, এখন অন্যরা খেতে চাচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপির লোক যে নেই তা বলা যাবে না।’

কাটাগড় মেলা এলাকায় তার কোন পক্ষ নেই দাবি করে খন্দকার নাসির বলেন, ‘নিজের স্বর্থের জন্য সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকে ‘অমুকের লোক’, ‘তমুকের লোক’ পরিচয় দিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।’

বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘মেলা নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। দুইপক্ষের মামলা আছে। অনেকে আহত আছে। মেলার আগেই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে মেলার সময় বা পরে আরো খারাপ অবস্থা হতে পারে। এই আশঙ্কায় মেলার অনুমোদন না দেওয়ার জন্য ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’

দি ক্রাইম ডেস্ক: ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে বিএনপির দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে সাড়ে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী ‘কাটাগড় দেওয়ান শাগির শাহ’ গ্রামীণ মেলা এ বছর অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় মেলার অনুমতি দেয়নি প্রশাসন।

স্থানীয় বিএনপির দুটি পক্ষ থেকে মেলা আয়োজনের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করায় কোনও পক্ষকেই অনুমোদন দেয়নি প্রশাসন। তবে মেলা না হলেও ওরশের জন্য অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. তানভীর হাসান চৌধুরী।

ইউএনও বলেন, ‘মেলা মিলানোর জন্য দুই গ্রুপে দুইটি কমিটির অনুমোদন চেয়ে আবেদন করেছিলেন। তাদেরকে বলা হয়েছে, দুই গ্রুপ যদি এক হতে পারেন তাহলে মেলা মিলান। কারণ ওই এলাকায় মেলাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের ঘটনায় দুই গ্রুপেরই মামলা হয়। স্থানীয় দুটি পক্ষের হানাহানির কারণে মেলা নিয়ে নেগেটিভ প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় পক্ষগুলোই চায় না মেলা হোক। আমরা কি করতে পারি? তবে সেখানে ওরশ শরীফ করতে কোনো বাধা নেই।’

প্রতিবছর বাংলা পঞ্জিকার ১২ চৈত্র ধর্মীয় সাধক শাগির শাহের (রহ.) ওফাত (মৃত্যু) দিবসে বোয়ালমারী উপজেলার রূপপাত ইউনিয়নের কাটাগড় গ্রামে মেলাটি শুরু হয়ে চলে প্রায় মাসব্যাপী। মেলাটি আগামী ২৬ মার্চ থেকে শুরু হওয়ার কথা ছিল। এলাকাবাসী বলছেন, চলতি বছর ৩৫১ বারের মতো এ মেলার আয়োজন হওয়ার কথা ছিল। শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো কারণেই মেলাটি বন্ধ হয়নি। এমনকি করোনা মহামারির সময়েও স্বল্প পরিসরে এ মেলার আয়োজন করা হয়েছিল।

এলাকাবাসী ও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, কাটাগড়ের এ মেলা আয়োজনের অনুমতি চেয়ে রূপাপাত ইউনিয়নের বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আক্কাস মন্টু ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মো. আনিচুর রহমান টিটোসহ একটি পক্ষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ৫ মার্চ আবেদন করেন। তারা বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও ফরিদপুর-১ আসনের (বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলা) বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী শামচুউদ্দিন মিয়া ওরফে ঝুনুর সমর্থক।

অপরদিকে ১৬ মার্চ সাতদিনের অনুমোদনের জন্য জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন কাটাগড় দেওয়ান শাগির শা’র মাজারের খাদেম ইরাদত ফকির। তাকে দিয়ে আবেদন করান বোয়ালমারী বিএনপির অপর অংশ রূপাপাত ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ওরফে সোনা মিয়া, ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি শাহীন মোল্লা, ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আকরাম শেখ, আজাদ মোল্যা, হাফিজুর মোল্যা ও আহাদ মোল্যাসহ অপর একটি পক্ষ। এ পক্ষটি কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি ও আগামী সংসদ নির্বাচনে ফরিদপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী খন্দকার নাসিরুল ইসলামের সমর্থক।

দুপক্ষের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কাটাগড় মেলার আয়োজন নিয়ে গত ১৫ মার্চ বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির বিবাদমান দুই নেতার অনুসারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। সংঘর্ষের বিষয় নিয়ে স্থানীয় থানায় দুপক্ষের পাল্টপাল্টি মামলা হয়। এ নিয়ে দুটি পক্ষ মানববন্ধনও করে। যার কারণে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে প্রশাসন মেলার অনুমতি দেননি।

কাটাগড় দেওয়ান শাগির শাহ (রহ.) এর মাজারের ৯ম তম খাদেম সিদ্দিক ফকির বলেন, ‘দেওয়ান শাগির শাহের ওফাত (মৃত্যু) দিবস উপলক্ষে ওরশকে কেন্দ্র করে প্রতিবছর এ মেলার আয়োজন করা হয়। সাড়ে তিনশ বছর ধরে কাটাগড় গ্রামে মেলা চলছে। মেলাটি কোনদিন বন্ধের কথা শুনি নাই। এ বছর কি কারণে বন্ধ হলো জানি না। আমরা চাই এখানে আবার মেলাটি শুরু হোক।’

বোয়ালমারী উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শামচুউদ্দিন মিয়া ওরফে ঝুনু বলেন, ‘এ মেলা আয়োজনের জন্য ওই ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক একটি পরিচালনা কমিটি গঠন করে মেলা আয়োজনের জন্য অনুমতি চান। এ সময় ‘আওয়ামী লীগ সমর্থিত’ একটি অংশ, যারা খন্দকার নাসিরুলের অনুসারী হিসেবে পাল্টা আবেদন জমা দেয়। পাশাপাশি নাসিরুলের সমর্থকরা হামলা চালিয়ে বিএনপির কর্মী সমর্থকদের উপর নিযাতন করেছে।’

এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সহসভাপতি সাবেক এমপি খন্দকার নাসিরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘বিএনপির কোনো দ্বন্দ্ব বা কোন্দলের কারণে মেলা বন্ধ হয়নি। মূল সমস্যা হচ্ছে, মেলা উপলক্ষে যে টাকা পয়সা ওঠে তার ভাগাভাগি নিয়ে। এতো দিন আওয়ামী লীগরা টাকা খেত, এখন অন্যরা খেতে চাচ্ছে। এর মধ্যে বিএনপির লোক যে নেই তা বলা যাবে না।’

কাটাগড় মেলা এলাকায় তার কোন পক্ষ নেই দাবি করে খন্দকার নাসির বলেন, ‘নিজের স্বর্থের জন্য সুবিধা পাওয়ার জন্য অনেকে ‘অমুকের লোক’, ‘তমুকের লোক’ পরিচয় দিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করছে।’

বোয়ালমারী থানার ওসি মো. মাহামুদুল হাসান বলেন, ‘মেলা নিয়ে স্থানীয় দুটি পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়েছে। দুইপক্ষের মামলা আছে। অনেকে আহত আছে। মেলার আগেই যদি এই অবস্থা হয় তাহলে মেলার সময় বা পরে আরো খারাপ অবস্থা হতে পারে। এই আশঙ্কায় মেলার অনুমোদন না দেওয়ার জন্য ঊর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’