প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, নারীর চলাফেরা, খেলা ইত্যাদির ওপর আক্রমণ আসছে। এমনকি প্রকাশ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন লেখক শিক্ষককে হত্যার হুমকি দিয়ে তা ব্যাপক প্রচার করার পরও হুমকিদাতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এদিকে আবরার হত্যায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধীর জেল থেকে পালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। কক্সবাজারে সমিতি পাড়ায় নিরস্ত্র জনগণের উপর বিমান বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন স্থানীয় যুবক শিহাব কবির নাহিদ। গায়ের জোরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার স্থানীয় জনগণকে উচ্ছেদের পায়তারার মধ্যে এই ঘটনা স্বাধীন তদন্তের দাবি করে। পোস্ট মর্টেম নিয়ে ইতিমধ্যে রহস্যজনক আচরণ করা হচ্ছে। আমরা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার জবাবদিহি এবং স্বাধীন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি করি। সংবাদ মাধ্যমকে এসব ঘটনা যথাযথভাবে মানুষকে জানানোতে সক্রিয় হবার দাবি জানাই।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতি নিয়েও চিন্তিত। সেখানেও নারীর প্রতি বৈরী আচরণ ও সহিংসতা থেমে নেই৷ সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দলবদ্ধ সহিংসতার প্রতিবাদ করায় ৯ নারী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও তাদের প্রতি প্রক্টরের ঘৃণ্য আচরণ কার্যত যৌন নিপীড়নের পক্ষে প্রশাসনের অবস্থান নির্দেশ করে৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের নাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সক্রিয় নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে রাখাতে আমরা খুবই বিস্মিত। আমরা অবিলম্বে প্রক্টর পরিবর্তন এবং নামকরণ ও ছাত্রী বহিষ্কারের এসব অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বখ্যাত পন্ডিত বিজ্ঞানী দার্শনিক কবিদের নাম বিভিন্ন ভবন থেকে বাদ দেয়ার ঘটনাও আমাদের ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। কাদেরকে সরকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে তা চিন্তা করে আমরা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সত্যেন বসু, জগদীশ চন্দ্র বসু, জীবনানন্দ দাশ, লালন সাঁই, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, জিসিদেব, ডা. আলীম চৌধুরী, তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখ ব্যক্তিদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর সরকারের উচিৎ হবে এই মহান ব্যক্তিদের নামে বড় বড় স্থাপনার নামকরণ করা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যেখানে জনগণের রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার কথা, সেখানে প্রতিনিয়ত জানমালের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে৷ জনগণের নিরাপত্তা বিধানের কথা বলে সেনাবাহিনীর মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতা, কিংবা যৌথ বাহিনীর একের পর এক অভিযান জনগণের নিরাপত্তার বদলে হয়রানি ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বৃদ্ধি করেছে৷ সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী অভ্যুত্থানের প্রথম ছয় মাসে বিশ জনের অধিক ব্যক্তি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যার অধিকাংশ সেনা হেফাজতে, নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ৷ শুধুমাত্র মামলার হিসাবে ডাকাতি ও দস্যুতার সংখ্যা বেড়েছে ৫০ শতাংশ৷ যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে৷ শুধু তাই নয়, নারীর প্রতি সামাজিক, সাংস্কৃতিক আক্রমণও বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের সাথে অমানবিক আচরণের ঘটনা বাড়ছে৷

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিগত কয়েকমাসের কর্মকাণ্ডে এটা স্পষ্ট বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্মবস্তু ধারণ করতে ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আমরা অস্বীকারের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে সরকারের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করছি। ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রতিবাদকারীদের প্রতি সহনশীলতা এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসে নিয়োজিত অপরাধীদের দমনে দৃঢ়তা দাবি করছি।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, সারাদেশে খুন, ধর্ষণ, মব সহিংসতা, হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বিভিন্ন ধরনের সাংস্কৃতিক তৎপরতা বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, নারীর চলাফেরা, খেলা ইত্যাদির ওপর আক্রমণ আসছে। এমনকি প্রকাশ্যে দেশের শীর্ষস্থানীয় কয়েকজন লেখক শিক্ষককে হত্যার হুমকি দিয়ে তা ব্যাপক প্রচার করার পরও হুমকিদাতার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এদিকে আবরার হত্যায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামীসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধীর জেল থেকে পালানোর খবর পাওয়া যাচ্ছে। কক্সবাজারে সমিতি পাড়ায় নিরস্ত্র জনগণের উপর বিমান বাহিনীর গুলিবর্ষণের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। এই ঘটনায় নিহত হয়েছেন স্থানীয় যুবক শিহাব কবির নাহিদ। গায়ের জোরে সরকারের বিভিন্ন সংস্থার স্থানীয় জনগণকে উচ্ছেদের পায়তারার মধ্যে এই ঘটনা স্বাধীন তদন্তের দাবি করে। পোস্ট মর্টেম নিয়ে ইতিমধ্যে রহস্যজনক আচরণ করা হচ্ছে। আমরা এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টার জবাবদিহি এবং স্বাধীন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার দাবি করি। সংবাদ মাধ্যমকে এসব ঘটনা যথাযথভাবে মানুষকে জানানোতে সক্রিয় হবার দাবি জানাই।

আমরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিস্থিতি নিয়েও চিন্তিত। সেখানেও নারীর প্রতি বৈরী আচরণ ও সহিংসতা থেমে নেই৷ সর্বশেষ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে দলবদ্ধ সহিংসতার প্রতিবাদ করায় ৯ নারী শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার ও তাদের প্রতি প্রক্টরের ঘৃণ্য আচরণ কার্যত যৌন নিপীড়নের পক্ষে প্রশাসনের অবস্থান নির্দেশ করে৷ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ভবনের নাম বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সক্রিয় নেতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর নামে রাখাতে আমরা খুবই বিস্মিত। আমরা অবিলম্বে প্রক্টর পরিবর্তন এবং নামকরণ ও ছাত্রী বহিষ্কারের এসব অন্যায় সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানাই। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বখ্যাত পন্ডিত বিজ্ঞানী দার্শনিক কবিদের নাম বিভিন্ন ভবন থেকে বাদ দেয়ার ঘটনাও আমাদের ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ করেছে। কাদেরকে সরকার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব দিয়েছে তা চিন্তা করে আমরা উদ্বিগ্ন। অবিলম্বে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সত্যেন বসু, জগদীশ চন্দ্র বসু, জীবনানন্দ দাশ, লালন সাঁই, প্রফুল্লচন্দ্র রায়, জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, জিসিদেব, ডা. আলীম চৌধুরী, তাজউদ্দীন আহমদ প্রমুখ ব্যক্তিদের প্রতি যথাযথ সম্মান জানানোর জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা। আর সরকারের উচিৎ হবে এই মহান ব্যক্তিদের নামে বড় বড় স্থাপনার নামকরণ করা।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর যেখানে জনগণের রাজনৈতিক, গণতান্ত্রিক, নাগরিক অধিকার সুরক্ষিত হওয়ার কথা, সেখানে প্রতিনিয়ত জানমালের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়ছে৷ জনগণের নিরাপত্তা বিধানের কথা বলে সেনাবাহিনীর মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতা, কিংবা যৌথ বাহিনীর একের পর এক অভিযান জনগণের নিরাপত্তার বদলে হয়রানি ও বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা বৃদ্ধি করেছে৷ সংবাদপত্রের খবর অনুযায়ী অভ্যুত্থানের প্রথম ছয় মাসে বিশ জনের অধিক ব্যক্তি বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন, যার অধিকাংশ সেনা হেফাজতে, নির্যাতনের শিকার হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন ৷ শুধুমাত্র মামলার হিসাবে ডাকাতি ও দস্যুতার সংখ্যা বেড়েছে ৫০ শতাংশ৷ যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে৷ শুধু তাই নয়, নারীর প্রতি সামাজিক, সাংস্কৃতিক আক্রমণও বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ গার্মেন্টসসহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে নারী শ্রমিকের সাথে অমানবিক আচরণের ঘটনা বাড়ছে৷

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর বিগত কয়েকমাসের কর্মকাণ্ডে এটা স্পষ্ট বর্তমান সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মর্মবস্তু ধারণ করতে ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। আমরা অস্বীকারের সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে পরিস্থিতির গুরুত্ব স্বীকার করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকারের পক্ষে সরকারের দায়িত্বশীল ও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করছি। ন্যায্য দাবি নিয়ে প্রতিবাদকারীদের প্রতি সহনশীলতা এবং সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসে নিয়োজিত অপরাধীদের দমনে দৃঢ়তা দাবি করছি।