খাগড়াছড়ি থেকে চাইথোয়াই মারমা: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের মহড়া অব্যাহত, অপারেশন ডেভিল হান্টে জেলাতে আরো ১৯জন আওয়ামীলীগ অঙ্গ-সংগঠনের চিহ্নিত মামলার আসামীকে ৩৭জন নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেলার মহালছড়ি ও গুইমারা উপজেলাধীন এলাকায় সেনাবাহিনী অপারেশন চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রাতের অন্ধকারে সেনা অপারেশনের কারণে এলাকার জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার(১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত ৩টার সময় সেনাবাহিনীর একটি বিশাল দল মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের পাইন্দা পাড়া ও গুইমারা উজেলাধীন পক্ষীমুড়ো এলাকায় অপারেশনে যায়। রাতের অন্ধকারে সেনা সদস্যদের উপস্থিতি দেখে এলাকার জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয়। এ সময় সেনাদের সাথে তাদের সৃষ্ট গোষ্ঠির দু’জন লোকও ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরা হলেন-কলেন চাকমা ও করণ চাকমা। সেনারা পাইন্দা পাড়ায় কয়েকজনের ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালানোর তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পক্ষীমুড়ো এলাকায় এখনো সেনাবাহিনীর একটি দল অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

দেশব্যাপী অপারেশ ডেবিল হান্ট অভিযান ঘোষণার পর পরই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গুইমারা থানা পুলিশ। বুধবার(১২ ফেব্রুয়ারী দুপুরে গুইমারা থানাধীন সিন্দুকছড়ি বাজার এলাকা হইতে সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম(৫০)কে গ্রেফতার করেছে গুইমারা থানা পুলিশ।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এনামুল হক চৌধুরী আটকের বিষয়েটি নিশ্চিত করেছেন। ৫ আগষ্ট পরবর্তী তার নামে ১৯০৩সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে সে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

জেলার মানিকছড়ি উপজেলায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে যুবলীগের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ ফেব্রুুয়ারি) উপজেলার মুসলিমপাড়া থেকে একজন ও দক্ষিণ ডাইনছড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন(৪৮) সদর ইউনিয়নের মুসলিম পাড়ার মৃত শফিউল আলম চৌধুরী ছেলে। বাটনাতলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নুরুল ইসলাম(৪২) দক্ষিণ ডাইনছড়ি এলাকার রেয়াকত আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মানিকছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দুই মামলায় যুবলীগের ২নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জেলার রামগড়ে দেশব্যাপী চলা অপারেশন ডেভিল হান্টের জালে ধরা পড়েছে ভূমিদস্যু ও ধর্ষণ মামলায় জেলখাটা আওয়ামীলীগের দুই নেতা। মঙ্গলবার(১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুবনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- পাতাছড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মন্তাজ মিয়ার ছেলে ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি মো: মহিউদ্দিন মেম্বার(৪২), ৪নং ওয়ার্ডের মাহবুবনগর এলাকার আব্দুর রবের ছেলে যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: বেলাল হোসেন(২৮)। ইউপি মেম্বার মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে রামগড় থানায় ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন জানান, দু’টি মামলায় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের ২জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। এর আগে, সোমবার উপজেলার মাহবুবনগর এলাকা থেকে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইউছুফ পাটোয়ারী ও সদস্য মো: আলমগীর হোসেন(৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে রামগড় থানা পুলিশ।বুধবার(১২ ফেব্রুয়ারী) বিকেল পর্যন্ত এ নিয়ে তিন দিনে ৩২জন গ্রেফতার হয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানা গেছে, খাগড়াছড়িতে গত ২৪ঘণ্টায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত পানছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান,পানছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জাহেদুল আলম অনিক।

মাটিরাঙা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জাফর আহাম্মদ, আবু জাফর, আচালং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো: বিলাল হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মো: হাবিব উল্যা। খাগড়াছড়ির সদর ইসলামপুরের আওয়ামীলীগের নেতা মো: সবুজ ভুইয়া।

রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইউছুফ পাটোয়ারী, সদস্য মো: আলমগির হোসেন সদস্য। দীঘিনালা বোয়ালখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো: করিম, মেরুং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের মো: সুমন গাজী ও কবাখালীর ছাত্রলীগ নেতা মো: আসিফ। গুইমারা উপজেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুল্যাতলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সহ- সভাপতি মো: লোকমান হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া।

মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা মো: নুরুল ইসলাম বাবু। এর আগে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের দীঘিনালায় ডেভিল হান্ট: আটক ৬ জনসহ নেতাকর্মী আটক বেড়ে-১৪জন হয়েছে। ৯টি উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের মহড়া অব্যাহত রয়েছে।

অপারেশন ডেভিল হান্ট-এর আওতায় খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৬জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, দীঘিনালা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আফজাল হোসেন, যুবলীগের নেতা মো: হাসেম, আনোয়ারুল হক, আলী আকবর, হেলাল উদ্দিন।

পুলিশ সূত্র জানায়, নাশকতা সৃষ্টির জন্য প্রস্তুুতির সময় রোববার(৯ ফেব্রুুয়ারি) রাতে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা অভিযানে আটক করা হয়। তারা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নাশকতা ও অরাজগতা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ছাড়াও সোমবার(১০ ফেব্রুুয়ারী) সকালে অপারেশন ডেভিল হান্ট এর উপজেলার বোয়ালখালী নতুন বাজার, কবাখালী বাজার, জামতলী বাজার ও লারমা স্কোয়ার এলাকায় মূল সড়কে যানবাহন তল্লাশি ও মহড়া দিয়ে দীঘিনালা থানা পুলিশ।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: জাকারিয়া বলেন, ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অরাজকতা সৃষ্ঠিকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘জেলা পুলিশের বিশেষ নির্দেশনায় নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টি কারীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যহত থাকবে।’ এর আগে অপারেশন ডেভিল হান্ট-এর আওতায় জেলাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরো ৪নেতাকর্মীকে গ্রেফতার হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৪ঘণ্টায় ৮জনকে গ্রেফতার করা হলো।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অভি দে, দীঘিনালা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আফজাল হোসেন, ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো: আব্দুর রহমান জীবন এবং গুইমারার বড়পিলাক ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ মিয়া, মো: সেলিম, আব্দুর রহিম ও মো: আজিজুল।

পুলিশের দাবি, ছাত্রলীগ নেতা অভি দে-কে নাশকতা সৃষ্টির জন্য প্রস্তুুতির সময় রোববার(৯ ফেব্রুয়ারী) রাতে মহালছড়ির ২৪মাইল এলাকা থেকে আটক করা হয়। সে মহালছড়ি টিলা পাড়ার মৃত সূধীর দের ছেলে। তার বিরুদ্ধে জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবে চট্টগ্রামে ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরাসরি হামলার অভিযোগ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো: আরেফিন জুয়েল জানান, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশ দিন-রাত অভিযান চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় বসানো হয়েছে চেক পোষ্ট। সন্ত্রাসীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে জানান তিনি।

খাগড়াছড়ি থেকে চাইথোয়াই মারমা: খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ৯টি উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের মহড়া অব্যাহত, অপারেশন ডেভিল হান্টে জেলাতে আরো ১৯জন আওয়ামীলীগ অঙ্গ-সংগঠনের চিহ্নিত মামলার আসামীকে ৩৭জন নেতাকর্মী গ্রেফতার করা হয়েছে।

জেলার মহালছড়ি ও গুইমারা উপজেলাধীন এলাকায় সেনাবাহিনী অপারেশন চালিয়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। রাতের অন্ধকারে সেনা অপারেশনের কারণে এলাকার জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার(১৩ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত ৩টার সময় সেনাবাহিনীর একটি বিশাল দল মহালছড়ি উপজেলার মাইসছড়ি ইউনিয়নের পাইন্দা পাড়া ও গুইমারা উজেলাধীন পক্ষীমুড়ো এলাকায় অপারেশনে যায়। রাতের অন্ধকারে সেনা সদস্যদের উপস্থিতি দেখে এলাকার জনমনে আতঙ্ক দেখা দেয়। এ সময় সেনাদের সাথে তাদের সৃষ্ট গোষ্ঠির দু’জন লোকও ছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। এ দু’জনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এরা হলেন-কলেন চাকমা ও করণ চাকমা। সেনারা পাইন্দা পাড়ায় কয়েকজনের ঘরবাড়িতে তল্লাশি চালানোর তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত পক্ষীমুড়ো এলাকায় এখনো সেনাবাহিনীর একটি দল অবস্থান করছে বলে জানা গেছে।

দেশব্যাপী অপারেশ ডেবিল হান্ট অভিযান ঘোষণার পর পরই অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে গুইমারা থানা পুলিশ। বুধবার(১২ ফেব্রুয়ারী দুপুরে গুইমারা থানাধীন সিন্দুকছড়ি বাজার এলাকা হইতে সিন্দুকছড়ি ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম(৫০)কে গ্রেফতার করেছে গুইমারা থানা পুলিশ।

গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) এনামুল হক চৌধুরী আটকের বিষয়েটি নিশ্চিত করেছেন। ৫ আগষ্ট পরবর্তী তার নামে ১৯০৩সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা রয়েছে সে মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে তাকে আদালতে পাঠানো হবে।

জেলার মানিকছড়ি উপজেলায় ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট’ অভিযানে যুবলীগের দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ ফেব্রুুয়ারি) উপজেলার মুসলিমপাড়া থেকে একজন ও দক্ষিণ ডাইনছড়ি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক মো: জসিম উদ্দিন(৪৮) সদর ইউনিয়নের মুসলিম পাড়ার মৃত শফিউল আলম চৌধুরী ছেলে। বাটনাতলী ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: নুরুল ইসলাম(৪২) দক্ষিণ ডাইনছড়ি এলাকার রেয়াকত আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মানিকছড়ি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী দুই মামলায় যুবলীগের ২নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

জেলার রামগড়ে দেশব্যাপী চলা অপারেশন ডেভিল হান্টের জালে ধরা পড়েছে ভূমিদস্যু ও ধর্ষণ মামলায় জেলখাটা আওয়ামীলীগের দুই নেতা। মঙ্গলবার(১১ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়নের মাহবুবনগর এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আটককৃতরা হলেন- পাতাছড়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মন্তাজ মিয়ার ছেলে ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ সভাপতি মো: মহিউদ্দিন মেম্বার(৪২), ৪নং ওয়ার্ডের মাহবুবনগর এলাকার আব্দুর রবের ছেলে যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: বেলাল হোসেন(২৮)। ইউপি মেম্বার মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে রামগড় থানায় ধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

রামগড় থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন জানান, দু’টি মামলায় আওয়ামীলীগ ও যুবলীগের ২জন নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিধি মোতাবেক তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। এর আগে, সোমবার উপজেলার মাহবুবনগর এলাকা থেকে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইউছুফ পাটোয়ারী ও সদস্য মো: আলমগীর হোসেন(৪৫)কে গ্রেপ্তার করেছে রামগড় থানা পুলিশ।বুধবার(১২ ফেব্রুয়ারী) বিকেল পর্যন্ত এ নিয়ে তিন দিনে ৩২জন গ্রেফতার হয়েছে।

জেলা পুলিশ সূত্র জানা গেছে, খাগড়াছড়িতে গত ২৪ঘণ্টায় গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত পানছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ সাকিবুর রহমান,পানছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি জাহেদুল আলম অনিক।

মাটিরাঙা উপজেলার বড়নাল ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি জাফর আহাম্মদ, আবু জাফর, আচালং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো: বিলাল হোসাইন, দপ্তর সম্পাদক মো: হাবিব উল্যা। খাগড়াছড়ির সদর ইসলামপুরের আওয়ামীলীগের নেতা মো: সবুজ ভুইয়া।

রামগড় উপজেলার পাতাছড়া ইউনিয়ন ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো: ইউছুফ পাটোয়ারী, সদস্য মো: আলমগির হোসেন সদস্য। দীঘিনালা বোয়ালখালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক মো: করিম, মেরুং ইউনিয়ন ছাত্রলীগের মো: সুমন গাজী ও কবাখালীর ছাত্রলীগ নেতা মো: আসিফ। গুইমারা উপজেলা যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক হারুনুর রশিদ।

লক্ষ্মীছড়ি উপজেলার দুল্যাতলী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাবেক সহ- সভাপতি মো: লোকমান হোসেন নিষিদ্ধ ঘোষিত উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদশা মিয়া।

মহালছড়ি সদর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা মো: নুরুল ইসলাম বাবু। এর আগে আওয়ামীলীগ ও সহযোগি সংগঠনের দীঘিনালায় ডেভিল হান্ট: আটক ৬ জনসহ নেতাকর্মী আটক বেড়ে-১৪জন হয়েছে। ৯টি উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের মহড়া অব্যাহত রয়েছে।

অপারেশন ডেভিল হান্ট-এর আওতায় খাগড়াছড়ি দীঘিনালায় যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৬জন নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছেন। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, দীঘিনালা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আফজাল হোসেন, যুবলীগের নেতা মো: হাসেম, আনোয়ারুল হক, আলী আকবর, হেলাল উদ্দিন।

পুলিশ সূত্র জানায়, নাশকতা সৃষ্টির জন্য প্রস্তুুতির সময় রোববার(৯ ফেব্রুুয়ারি) রাতে উপজেলার মেরুং ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা অভিযানে আটক করা হয়। তারা আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত নাশকতা ও অরাজগতা সৃষ্টির অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

এ ছাড়াও সোমবার(১০ ফেব্রুুয়ারী) সকালে অপারেশন ডেভিল হান্ট এর উপজেলার বোয়ালখালী নতুন বাজার, কবাখালী বাজার, জামতলী বাজার ও লারমা স্কোয়ার এলাকায় মূল সড়কে যানবাহন তল্লাশি ও মহড়া দিয়ে দীঘিনালা থানা পুলিশ।

দীঘিনালা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো: জাকারিয়া বলেন, ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি প্রতিরোধে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অরাজকতা সৃষ্ঠিকারীদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘জেলা পুলিশের বিশেষ নির্দেশনায় নাশকতা ও অরাজকতা সৃষ্টি কারীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যহত থাকবে।’ এর আগে অপারেশন ডেভিল হান্ট-এর আওতায় জেলাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের আরো ৪নেতাকর্মীকে গ্রেফতার হয়েছে। এ নিয়ে গত ২৪ঘণ্টায় ৮জনকে গ্রেফতার করা হলো।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত চট্টগ্রাম মহসিন কলেজ ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও মহালছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি অভি দে, দীঘিনালা উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা আওয়ামীলীগের সদস্য আফজাল হোসেন, ভাইবোনছড়া ইউনিয়ন যুবলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক মো: আব্দুর রহমান জীবন এবং গুইমারার বড়পিলাক ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি সোহাগ মিয়া, মো: সেলিম, আব্দুর রহিম ও মো: আজিজুল।

পুলিশের দাবি, ছাত্রলীগ নেতা অভি দে-কে নাশকতা সৃষ্টির জন্য প্রস্তুুতির সময় রোববার(৯ ফেব্রুয়ারী) রাতে মহালছড়ির ২৪মাইল এলাকা থেকে আটক করা হয়। সে মহালছড়ি টিলা পাড়ার মৃত সূধীর দের ছেলে। তার বিরুদ্ধে জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবে চট্টগ্রামে ছাত্র জনতার আন্দোলনে সরাসরি হামলার অভিযোগ রয়েছে।

খাগড়াছড়ি পুলিশ সুপার মো: আরেফিন জুয়েল জানান, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে পুলিশ দিন-রাত অভিযান চালাচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। রাস্তায় রাস্তায় বসানো হয়েছে চেক পোষ্ট। সন্ত্রাসীদের নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান চলবে জানান তিনি।