সোহেল রানা, ঢাকাঃ ক্ষমতায় বসার আগেই কিছু বিএনপি নেতার বেপরোয়া কর্মকান্ডে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জেগেছে ক্ষমতায় বসলে না জানি তারা কী করবে! কিছু সংখ্যক নেতাকর্মী বিএনপির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে। তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া অত্যান্ত জরুরী হলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগে চাঁদাবাজি করতো আওয়ামী লীগের নেতারা। গণঅভ্যুত্থানের পর সেই চাঁদাবাজির দখল নিয়েছে বিএনপি নেতারা। শুধু চাঁদাবাজির দখল নয় আওয়ামী লীগ নেতাদের ঘরবাড়ি ও মালামাল সহ সব কিছুর দখল নিয়েছে। লুটপাট-ও করেছে। লোকমুখে শোনা যায় পুলিশের নিস্ক্রিয়তার সুযোগে বস্তিতে চাঁদাবাজি এখন আগের চেয়েও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। বিএনপির কিছু নেতাকর্মীরা হুংকার দিয়ে বেড়ায় তাদের দল এখন ক্ষমতায়।
কড়াইল বস্তির এরিয়া ভাগাভাগি করে একেক এরিয়া একেক গ্রুপ চাঁদাবাজির দখলে নিয়েছে। তার সঙ্গে প্রকাশ্যে চালাচ্ছে অবৈধ সব ব্যবসা। যারা সবাই বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া বস্তির ঘরবাড়ি মালামাল বেচাবিক্রিতেও হয়েছে কমিটি। নেতারা যেভাবে পারছে লুটেপুটে খাচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো কড়াইল বস্তিতে এখন মাদক ও জুয়া খেলা ভয়াবহ ভাবে বেড়েছে। মাদক ব্যবসায়ীর ছড়াছড়ি। হাত বাড়ালেই মিলছে গাঁজা ও ইয়াবা। বলা চলে প্রকাশ্যে চলছে মাদক ব্যবসা। বেলতলা থেকে কড়াইল বউ বাজার পর্যন্ত রাস্তার পাশের চায়ের দোকান গুলোতে দেখা যায় টিভিতে খেলা দেখাচ্ছে। জুয়াড়িদের ভিড়। চলে অনলাইন বেটিং।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, কড়াইল বউবাজার অনলাইন জুয়া এবং অন্যান্য জোয়ার বোর্ড বসে প্রত্যেকটা চায়ের দোকানে। বেট নামক জুয়া চলে। এগুলো নিয়ন্ত্রণ করছে স্বেচ্ছাসেবক দলের ২নং ইউনিট নেতা ফোড়ন। সে আগে তাঁতী লীগের মুমিনের সহযোগী ছিল। এখন বিএনপির কিছু নেতাকর্মীর ছায়াতলে থেকে রমরমা জুয়ার ব্যবসা চালাচ্ছে।
এটা তো শুধু এক ফোড়নের কথা। এমন শত শত ফোড়ন মিলে কড়াইল বস্তি নিয়ন্ত্রণ করছে। একেক এরিয়ায় একেকজন ফোড়ন।
টিএন্ডটি স্কুল রোড ও বেলতলায় দেখা যায় ভ্রাম্যমাণ হকারদের ভ্যানের কারণে পথচারীদের হাঁটার জায়গা নেই! রাস্তার পাশে অবৈধ দোকানপাটে গিজগিজ অবস্থা! যানচলাচলের ফাঁক দিয়ে পথচারীদের হাঁটাচলা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে গেছে। অথচ কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেই। সাধারণ মানুষ এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে তার জীবন থাকাটাই হুমকি। ব্যবসায়ীরা জানান, পুলিশ, আনসার ও বিএনপি নেতা সবাইকে তারা চাঁদা দিয়েই ব্যবসা করছেন।
টিএন্ডটি মাঠের পাশে এরশাদ নগরে ময়লার ডিপোতে গিয়ে দেখা যায় ময়লা নেওয়ার ট্রাক, লরি সবসময় রাস্তার উপর অপেক্ষা করে যে কারণে যানচলাচলে চরম বিশৃঙ্খলা লেগেই থাকে। এতে জনভোগান্তির শেষ নেই। অথচ ডিপোর আশেপাশে পর্যন্ত জায়গা ছিল ট্রাক লরি সাইড করে রাখার জন্য। কিন্তু সেই যায়গা গুলোতে অবৈধ দোকানপাটে ভরে গেছে।
এদিকে মহাখালী এলাকার একজন সিকিউরিটি গার্ড রহিম বাবু জানান, নাটা বাবু ওরফে নাটা সেলিম বৈশাখী বাস থেকে রাত দশটার পর চাঁদা উঠায়।
স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন নেতা সেলিম সরকার বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় জেল নির্যাতনের শিকার হয়েছে সেই দোহাই দিয়ে চাঁদাবাজি ও অবৈধ কর্মকান্ড কোনো ভাবেই মেনে নেওয়ার মতো না। দলের নীতিনির্ধারকদের তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ।’
তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশের যেখানে চাঁদাবাজি, অবৈধ কর্মকান্ড বন্ধ করতে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা সেখানে বনানী থানার ওসি রাসেল সারোয়ার বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিটিং করে নির্দেশ দিচ্ছেন যা ইচ্ছা তাই করে কালেকশন বাড়াতে। ওসির এমন নির্দেশে অসাধু নেতাকর্মীরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে।’
এছাড়া বনানী থানার ওসির বিরুদ্ধে নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিএনপি নেতাদের নির্দেশ মতে লোককে ফাঁসিয়ে দেওয়া হচ্ছে জুলাই হত্যা মামলায়।




