ঢাকা অফিস: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ হাত বদল হয়েছে। আগে আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট বস্তি নিয়ন্ত্রণ করত। এখন বস্তির নিয়ন্ত্রণ বিএনপির হাতে। শুধু এখানে বস্তি থেকে চাঁদা আদায়ই নয়, অবৈধ ভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ এর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে ওই সিন্ডিকেট। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নামে মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছে। রোববার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) এবিএমএ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, কড়াইল বস্তিতে বিএনপি নেতা নজরুল, রুহুল ও মোখলেস ছাত্রলীগের এক কর্মীর ছেলের বাবার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে।

নজরুল কড়াইল বস্তির জামাই বাজার ইউনিট বিএনপির সভাপতি। রুহুল, মোখলেস মূল দলের।

জানা গেছে, কড়াইল বস্তিতে একজন ঘড়ির দোকানদার লাবু। তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করত। বস্তিতে কয়েকটা রুম তুলে ভাড়া দেয়। দুই ছেলে তাদের। বড় ছেলের নাম শরিফ। সে ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আল আমিন এর সাথে ঘুরতো। পরে ওয়ার্ড এর কোন এক পদে ছিল। তাও ২০১৯ সালের আগে। এখন বিএনপির নেতারা তাদের পরিবারের উপর অনেক অত্যাচার করছে। মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করছে।

বস্তি বাসীর সাথে কথা বলে তথ্য পাওয়া যায়, নজরুলরা বস্তির গ্যাসের লাইন, লালচানের বিদ্যুৎ লাইন দখল নিয়েছে। মোখলেস দখল করেছে রাজিবের বিদ্যুৎ ও ডিস-ইন্টারনেটের লাইন। এখান থেকে মাসে কিছু টাকা রাজিবকে দিবে। তাদের এগুলো না দিলে পুলিশের হুমকি-ধামকি দেয়। এবং মামলার ভয় দেখাচ্ছে।

অনুসন্ধানে তাদের সিন্ডিকেটের আরও যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন- রতন কালোন, সেলিম, শুকুর, ইকবাল, শাহজাহান, জসিম, জানু, মফিজ, শাহালম, শাহালমের ছোট ভাই সোহেল, আবুল, সহ আরও কয়েকজন।পুলিশ দিয়ে তারা প্রতিদিন রাতে একেক বাড়িতে হানা দিচ্ছে। এসব যেন দেখার কেউ নাই, বলারও কেউ নাই।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বনানীর টিএন্ডটি ইউনিট বিএনপির সভাপতি খাইরুল এবং সাধারণ সম্পাদক বাবুল এর নেতৃত্বে তারা টিএন্ডটির সব গ্যাস, ডিস, ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন বাড়ি দখল, দোকান দখল, মার্কেট দখল করেছে। যার নেতৃত্ব বাবুল, খাইরুল, শাহিন, সোহেল ফজলু, সাঈদ, নাঈম (ছাত্রদল), মফিজ, আমির, শরিফ চৌধুরী, শিমুল, জাকির, ঈমান আলি সহ আরও কয়েকজন। তারা সম্পূর্ণ কড়াইলটাকে চার ভাগে ভাগ করে দখল নিয়েছে। এর সবকিছুর নেতৃত্বে বাবুল, যুবদলের শাহজাহান, সাঈদ, এবং ছাত্রদল বনানী থানার সভাপতি নাঈমদের মদদে চলছে দখল বানিজ্য।

তারা ৫ আগষ্টের পরে গ্যাস, ডিস, বিদ্যুৎ, পানির লাইন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা উত্তোলন করছে। যার একটা অংশ পৌছায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি আ, ফ, ম, আব্দুল আলিম নকি এবং আরেক নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে। বাকি টাকা সকলে ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়।

জানা যায়, টিএন্ডটি আনসার ক্যাম্পের মুখে ছিল টিএন্ডটি কর্মচারি সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন এর বাসা। ৫ আগষ্টের পর বিএনপি নেতা বাবুল তার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক সে বাড়ি দখল করেন। এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ভাড়া আদায় করছেন। এছাড়া প্রতিদিন রাত হলে টিএন্ডটি এলাকায় কয়েকজন বিএনপি নেতা মদ খেয়ে বিভিন্ন লোককে জিম্মি করে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। এ নিয়ে এলাকাবাসী খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, অন্যায়, অপশাসন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব প্রতিরোধে বিএনপি সর্বশক্তি নিয়োগ করে জনগণের পাশে থাকবে। কোনো চাঁদাবাজ, দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই চাঁদাবাজরা হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন এই নেত্রী।

ইতিমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে বনানী থানাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিস্কার করা হয়েছে।

ঢাকা অফিস: ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিতে চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ হাত বদল হয়েছে। আগে আওয়ামী লীগের সিন্ডিকেট বস্তি নিয়ন্ত্রণ করত। এখন বস্তির নিয়ন্ত্রণ বিএনপির হাতে। শুধু এখানে বস্তি থেকে চাঁদা আদায়ই নয়, অবৈধ ভাবে গ্যাস, পানি ও বিদ্যুৎ এর ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে ওই সিন্ডিকেট। তার সঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদের নামে মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে তাদের পরিবারের কাছ থেকে চাঁদা দাবি করছে। রোববার (১৭ নভেম্বর) ঢাকা উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) এবিএমএ রাজ্জাক স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানা গেছে।

অভিযোগ উঠেছে, কড়াইল বস্তিতে বিএনপি নেতা নজরুল, রুহুল ও মোখলেস ছাত্রলীগের এক কর্মীর ছেলের বাবার কাছ থেকে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করছে।

নজরুল কড়াইল বস্তির জামাই বাজার ইউনিট বিএনপির সভাপতি। রুহুল, মোখলেস মূল দলের।

জানা গেছে, কড়াইল বস্তিতে একজন ঘড়ির দোকানদার লাবু। তিনি জাতীয় পার্টি করতেন। তার স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করত। বস্তিতে কয়েকটা রুম তুলে ভাড়া দেয়। দুই ছেলে তাদের। বড় ছেলের নাম শরিফ। সে ১৯ নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক আল আমিন এর সাথে ঘুরতো। পরে ওয়ার্ড এর কোন এক পদে ছিল। তাও ২০১৯ সালের আগে। এখন বিএনপির নেতারা তাদের পরিবারের উপর অনেক অত্যাচার করছে। মামলা দেওয়ার হুমকি দিয়ে চাঁদা দাবি করছে।

বস্তি বাসীর সাথে কথা বলে তথ্য পাওয়া যায়, নজরুলরা বস্তির গ্যাসের লাইন, লালচানের বিদ্যুৎ লাইন দখল নিয়েছে। মোখলেস দখল করেছে রাজিবের বিদ্যুৎ ও ডিস-ইন্টারনেটের লাইন। এখান থেকে মাসে কিছু টাকা রাজিবকে দিবে। তাদের এগুলো না দিলে পুলিশের হুমকি-ধামকি দেয়। এবং মামলার ভয় দেখাচ্ছে।

অনুসন্ধানে তাদের সিন্ডিকেটের আরও যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন- রতন কালোন, সেলিম, শুকুর, ইকবাল, শাহজাহান, জসিম, জানু, মফিজ, শাহালম, শাহালমের ছোট ভাই সোহেল, আবুল, সহ আরও কয়েকজন।পুলিশ দিয়ে তারা প্রতিদিন রাতে একেক বাড়িতে হানা দিচ্ছে। এসব যেন দেখার কেউ নাই, বলারও কেউ নাই।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, বনানীর টিএন্ডটি ইউনিট বিএনপির সভাপতি খাইরুল এবং সাধারণ সম্পাদক বাবুল এর নেতৃত্বে তারা টিএন্ডটির সব গ্যাস, ডিস, ইন্টারনেট সহ বিভিন্ন বাড়ি দখল, দোকান দখল, মার্কেট দখল করেছে। যার নেতৃত্ব বাবুল, খাইরুল, শাহিন, সোহেল ফজলু, সাঈদ, নাঈম (ছাত্রদল), মফিজ, আমির, শরিফ চৌধুরী, শিমুল, জাকির, ঈমান আলি সহ আরও কয়েকজন। তারা সম্পূর্ণ কড়াইলটাকে চার ভাগে ভাগ করে দখল নিয়েছে। এর সবকিছুর নেতৃত্বে বাবুল, যুবদলের শাহজাহান, সাঈদ, এবং ছাত্রদল বনানী থানার সভাপতি নাঈমদের মদদে চলছে দখল বানিজ্য।

তারা ৫ আগষ্টের পরে গ্যাস, ডিস, বিদ্যুৎ, পানির লাইন থেকে প্রতি মাসে প্রায় ২ কোটি টাকা উত্তোলন করছে। যার একটা অংশ পৌছায় ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সহ-সভাপতি আ, ফ, ম, আব্দুল আলিম নকি এবং আরেক নেতা আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে। বাকি টাকা সকলে ভাগাভাগি করে নিয়ে যায়।

জানা যায়, টিএন্ডটি আনসার ক্যাম্পের মুখে ছিল টিএন্ডটি কর্মচারি সমিতির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মহিউদ্দিন এর বাসা। ৫ আগষ্টের পর বিএনপি নেতা বাবুল তার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক সে বাড়ি দখল করেন। এবং ভয়ভীতি দেখিয়ে ভাড়াটিয়াদের কাছ থেকে প্রতিমাসে ভাড়া আদায় করছেন। এছাড়া প্রতিদিন রাত হলে টিএন্ডটি এলাকায় কয়েকজন বিএনপি নেতা মদ খেয়ে বিভিন্ন লোককে জিম্মি করে মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করে। এ নিয়ে এলাকাবাসী খুব আতঙ্কের মধ্যে রয়েছে।

ঢাকা জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী বলেন, অন্যায়, অপশাসন, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্ব প্রতিরোধে বিএনপি সর্বশক্তি নিয়োগ করে জনগণের পাশে থাকবে। কোনো চাঁদাবাজ, দখলদারকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই চাঁদাবাজরা হাজারো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত সফলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেন এই নেত্রী।

ইতিমধ্যে দলীয় শৃঙ্খলা, নীতি ও আদর্শ পরিপন্থি অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের ভিত্তিতে বনানী থানাধীন ১৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনকে প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে নির্দেশক্রমে বহিস্কার করা হয়েছে।