তুষার কান্তি বসাক: হিন্দুদের উপর একটা টেক লাগানো আছে হিন্দুরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। কেন হিন্দুরা আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক হলো তার ব্যাখ্যা খোঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ৪৭ পুর্বাপর উপমাদেশের রাজনীতি ও দেশভাগ। পরবর্তী ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তি সংগ্রাম। মুক্তি সংগ্রামের দিনগুলোতে স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি দুই ধারায় বিভক্ত। একদিকে আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি। বিপরীতে ধর্মভিত্তিক দল। ধর্মীয় দিক বিবেচনায় হিন্দুদের অবস্থান ছিল স্বাধীনতাকামীদের পক্ষে। হিন্দুদের বিশাল অবস্থান ছিল বাম ঘরনায়। বাম নেতৃত্বের শীর্ষে ছিলেন হিন্দুরা। অনেক শীর্ষ বাম হিন্দু নেতা স্বাধীনতা পুর্বাকালে ধর্মীয় রোষানল থেকে মুক্তি পেতে মুসলিম নাম ধারন করে বাম রাজনীতির নেতৃত্বও দিয়েছেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে হিন্দু জনগোষ্ঠী হয়ে গেলেন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। কেন আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক হলেন তারও একটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আছে। বিষয়টি ভীরু অত্যাচারিত প্রতিরোধ শক্তিহীন সমাজের কাছে এক ধরনের আত্মসমর্পণ।
এই আত্মসমর্পণ হিন্দুদের একমাত্র অস্তিত্বের কারণে, সমাজ বিজ্ঞানীরা হয়তো তার একটি কারণ খুঁজে পাবেন। কি কারণে বাম রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা হিন্দুরা হয়ে গেলেন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক তার মূল কারণ যে সমাজে বাম শক্তির কোন প্রভাব নেই, বামেরা দুষ্টের দমনে কোন শক্তি অর্জন করতে পারেনি সেখানে অসহায় মানুষ কোথায়ও না কোথায়ও আশ্রয় খোঁজে প্রকৃত শত্রু মিত্রের হিসেব না মিলিয়ে। দুর্বলেরা আত্মরক্ষার জন্য চিরকালই প্রতিপক্ষ সবলের দিকে ছুটে যায়। এদেশে যেহেতু আওয়ামীলীগের ব্যাপক জনগনের মধ্যে প্রভাব রয়েছে এবং তথাকথিত ধর্মনিরপক্ষেতার বুলিও কপচাতে ভালো জানে তারা। তাই হিন্দুরা নির্বোধ বকের মতো বাঘের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে গলার হাড় তুলে আনার জন্য পুরোটা শরীর তার মুখে ঢুকিয়ে বসেছিল এতোদিন। এ ব্যর্থতা হিন্দুদের নয়, এ ব্যার্থতা বামদের যেমন আছে তার পাশাপাশি ৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিরও।

দেশের বৃহত্তর দল হিসেবে বিএনপিরও দায় আছে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টি দেয়ার। আওয়ামী লীগ অন্তত গঠনতন্ত্রে ধর্মনিরপেক্ষতা রেখে অন্যধর্মের মানুষদের জন্য একটু স্পেস রেখেছে। বিএনপি তাও রাখেনি। কাছে টানার চেষ্টা না করে বরং হুমকির উপর রেখেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে, ধরেই নিয়েছে এরা আওয়ামী লীগেরই ভোট ব্যাংক। নির্বাচনের পূর্বাপর হিন্দুরা দেখে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি, নির্বাচনকালীন সাম্প্রদায়িক শ্লোগান হিন্দু জনগোষ্ঠীর মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। নির্বাচনের পর হামলা। ২০০১-এ বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে জেতার পরও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্মম হামলার শিকার হয়েছে, এমনও দেখা গেছে হিন্দুরা বিএনপিকে ভোট দিয়েও আস্তা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেনি। এভাবে হিন্দুদেরকে আওয়ামী লীগের দিকে ঠেলেই দিয়েছে বিএনপি। অবিশ্বাস করেছে, কিন্তু কখনো আন্তরিক উদ্যোগ নেয়নি ব্যাপকভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে আস্থায় আনতে।

এখন জামায়াত যদি আশ্বস্ত করে, নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য কমিটি গঠন করে, আস্থার ভিত্তিতে, ভয় দেখিয়ে নয়– এটা তাদের কৃতিত্ব। বিএনপিরও সে সুযোগ রয়েছে। বরং আরো বেশি সুযোগ তাদের। কারণ বিএনপির নেতারাও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া একটি দল। কিন্তু তাদের কিছু স্থানীয় পর্যায়ের নেতা ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের জায়গা দখলের চেষ্টা করেছিল শারিরীক নির্যাতনে অংশ নিয়েছিল। অবশ্য বিএনপির ঊর্ধতন নেতৃত্ব এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে, দল থেকে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আবার চট্টগ্রামে হিন্দুদের জনসভাকে কেন্দ্র করে এক বিএনপির স্থানীয় নেতা হিন্দুদের সাধু সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাকারীকে দল থেকে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এটা একটা কঠিন বার্তা, যা বিএনপির প্রতি হিন্দুদের ভীতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে সহায়ক হবে। যা হিন্দু সমাজকে আশ্বস্ত করতে পারে। এরকম নজির দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রায় একচেটিয়া নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ভোগ করা আওয়ামী লীগ খুব কমই দেখিয়েছে। তাই হুমকির বদলে দায়িত্বশীল আচরণই বিএনপি হিন্দুদেরকে আস্থায় আনতে পারে। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক ভেঙ্গে দিতে পারে।

দীর্ঘ স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৪ বছর আওয়ামী লীগের কাছে হিন্দুদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা যা হোক না কেন হিসেবের খাতাটা বলতে গেলে শূণ্য থেকেই গেল। তাই ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে হিন্দুদের মধ্যেও পরিবর্তনের আবাস দেখা যাচ্ছে। হিন্দু ভোট ব্যাংকেও ফাটল ধরছে। ভোট চলে যাচ্ছে ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতের ঘরে। যাবে, যেতে বাধ্য। যাওয়াটা মুক্তিযুদ্ধের দলগুলোর আদর্শ বিচ্যুতি। এ বিচ্যুতির কারণে যারা যাচ্ছে তারা মনে করে ভারতের মুসলমানদের যদি অধিকার থাকে ভারতে ধর্ম ভিত্তিক দল বিজেপিকে ভোট দেয়ার তবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার রয়েছে জামায়াতকে সমর্থন করার।

অপর দিকে স্বাধীনতাত্তোর অধিকারহীন নির্যাতিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী তাদের স্বগোত্রীয় নেতাদের নতজানু চেহারা প্রতক্ষ্য করেছে বাবরি মসজিদ নিয়া যখন দাঙ্গা হয় তখন হিন্দু মন্ত্রী বলেছিলেন বাংলাদেশে কিছু ঘটেনি। আবার বিগত সরকারের আমলে রামু নাসির নগর অভয় নগরসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতন স্বত্বেও বলতে শোনা গেছে। হিন্দুরা ভালো আছে।

আমরা দেখি রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক সংকটের সময়ে দিল্লীর জামে মসজিদের প্রধান ইমামের কথায় গভীর আস্থা রাখে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমরা। তাঁর কথায় গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয় সে দেশের সরকার। কারণ সেই আস্তা তিনি অর্জন করেছেন, দলীয় লেজুড়বৃত্তি না করে সম্প্রদায়ের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যার ফলে তাঁর কথায় সম্প্রদায়ের মানুষের যেমন আস্থা আছে, ক্ষমতাসীনরাও এড়িয়ে যেতে পারেনা। বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠনগুলো সেই আস্থা ও ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফলে বিগত সরকারের আমলে হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু নেতাদের দাবী ও আন্দোলনে আজকের মতো হিন্দু জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঠিক তেমনিভাবে আমাদের দেশে হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু নেতাদের আপোষকামী মনোভাবের কারনেও আজকের সাধু সন্ন্যাসীদের মতো আস্তা অর্জন করতে পারেননি হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু নেতারা। হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু নেতাদেরও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে এখন, হীনমন্যতা ঝেড়ে ফেলে একক দলনির্ভর অন্ধ সমর্থনের পথ থেকে বেরিয়ে এসে দরকষাকষির মাধ্যমে নিজের দেশে নিজ সম্প্রদায়ের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দৃঢ় নৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করার।

তুষার কান্তি বসাক: হিন্দুদের উপর একটা টেক লাগানো আছে হিন্দুরা আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। কেন হিন্দুরা আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক হলো তার ব্যাখ্যা খোঁজতে হলে ফিরে যেতে হবে ৪৭ পুর্বাপর উপমাদেশের রাজনীতি ও দেশভাগ। পরবর্তী ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তি সংগ্রাম। মুক্তি সংগ্রামের দিনগুলোতে স্বাধীনতার পক্ষ শক্তি দুই ধারায় বিভক্ত। একদিকে আওয়ামী লীগ, ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি। বিপরীতে ধর্মভিত্তিক দল। ধর্মীয় দিক বিবেচনায় হিন্দুদের অবস্থান ছিল স্বাধীনতাকামীদের পক্ষে। হিন্দুদের বিশাল অবস্থান ছিল বাম ঘরনায়। বাম নেতৃত্বের শীর্ষে ছিলেন হিন্দুরা। অনেক শীর্ষ বাম হিন্দু নেতা স্বাধীনতা পুর্বাকালে ধর্মীয় রোষানল থেকে মুক্তি পেতে মুসলিম নাম ধারন করে বাম রাজনীতির নেতৃত্বও দিয়েছেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে হিন্দু জনগোষ্ঠী হয়ে গেলেন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক। কেন আওয়ামীলীগের ভোট ব্যাংক হলেন তারও একটি মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা আছে। বিষয়টি ভীরু অত্যাচারিত প্রতিরোধ শক্তিহীন সমাজের কাছে এক ধরনের আত্মসমর্পণ।
এই আত্মসমর্পণ হিন্দুদের একমাত্র অস্তিত্বের কারণে, সমাজ বিজ্ঞানীরা হয়তো তার একটি কারণ খুঁজে পাবেন। কি কারণে বাম রাজনীতির শীর্ষ নেতৃত্বে থাকা হিন্দুরা হয়ে গেলেন আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক তার মূল কারণ যে সমাজে বাম শক্তির কোন প্রভাব নেই, বামেরা দুষ্টের দমনে কোন শক্তি অর্জন করতে পারেনি সেখানে অসহায় মানুষ কোথায়ও না কোথায়ও আশ্রয় খোঁজে প্রকৃত শত্রু মিত্রের হিসেব না মিলিয়ে। দুর্বলেরা আত্মরক্ষার জন্য চিরকালই প্রতিপক্ষ সবলের দিকে ছুটে যায়। এদেশে যেহেতু আওয়ামীলীগের ব্যাপক জনগনের মধ্যে প্রভাব রয়েছে এবং তথাকথিত ধর্মনিরপক্ষেতার বুলিও কপচাতে ভালো জানে তারা। তাই হিন্দুরা নির্বোধ বকের মতো বাঘের কথায় বিশ্বাস স্থাপন করে গলার হাড় তুলে আনার জন্য পুরোটা শরীর তার মুখে ঢুকিয়ে বসেছিল এতোদিন। এ ব্যর্থতা হিন্দুদের নয়, এ ব্যার্থতা বামদের যেমন আছে তার পাশাপাশি ৭৫ পরবর্তী রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিরও।

দেশের বৃহত্তর দল হিসেবে বিএনপিরও দায় আছে সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর প্রতি দৃষ্টি দেয়ার। আওয়ামী লীগ অন্তত গঠনতন্ত্রে ধর্মনিরপেক্ষতা রেখে অন্যধর্মের মানুষদের জন্য একটু স্পেস রেখেছে। বিএনপি তাও রাখেনি। কাছে টানার চেষ্টা না করে বরং হুমকির উপর রেখেছে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে, ধরেই নিয়েছে এরা আওয়ামী লীগেরই ভোট ব্যাংক। নির্বাচনের পূর্বাপর হিন্দুরা দেখে ভোট কেন্দ্রে না যাওয়ার হুমকি, নির্বাচনকালীন সাম্প্রদায়িক শ্লোগান হিন্দু জনগোষ্ঠীর মাঝে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। নির্বাচনের পর হামলা। ২০০১-এ বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে জেতার পরও ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্মম হামলার শিকার হয়েছে, এমনও দেখা গেছে হিন্দুরা বিএনপিকে ভোট দিয়েও আস্তা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে পারেনি। এভাবে হিন্দুদেরকে আওয়ামী লীগের দিকে ঠেলেই দিয়েছে বিএনপি। অবিশ্বাস করেছে, কিন্তু কখনো আন্তরিক উদ্যোগ নেয়নি ব্যাপকভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদেরকে আস্থায় আনতে।

এখন জামায়াত যদি আশ্বস্ত করে, নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়ে হিন্দুসহ অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের জন্য কমিটি গঠন করে, আস্থার ভিত্তিতে, ভয় দেখিয়ে নয়– এটা তাদের কৃতিত্ব। বিএনপিরও সে সুযোগ রয়েছে। বরং আরো বেশি সুযোগ তাদের। কারণ বিএনপির নেতারাও মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেয়া একটি দল। কিন্তু তাদের কিছু স্থানীয় পর্যায়ের নেতা ৫ আগস্ট পট পরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে হিন্দুদের জায়গা দখলের চেষ্টা করেছিল শারিরীক নির্যাতনে অংশ নিয়েছিল। অবশ্য বিএনপির ঊর্ধতন নেতৃত্ব এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে, দল থেকে সাংগঠনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আবার চট্টগ্রামে হিন্দুদের জনসভাকে কেন্দ্র করে এক বিএনপির স্থানীয় নেতা হিন্দুদের সাধু সন্ন্যাসীদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলাকারীকে দল থেকে বহিষ্কার করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন এটা একটা কঠিন বার্তা, যা বিএনপির প্রতি হিন্দুদের ভীতি থেকে উত্তরণ ঘটাতে সহায়ক হবে। যা হিন্দু সমাজকে আশ্বস্ত করতে পারে। এরকম নজির দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের প্রায় একচেটিয়া নিরবচ্ছিন্ন সমর্থন ভোগ করা আওয়ামী লীগ খুব কমই দেখিয়েছে। তাই হুমকির বদলে দায়িত্বশীল আচরণই বিএনপি হিন্দুদেরকে আস্থায় আনতে পারে। আওয়ামী লীগের ভোট ব্যাংক ভেঙ্গে দিতে পারে।

দীর্ঘ স্বাধীনতা পরবর্তী ৫৪ বছর আওয়ামী লীগের কাছে হিন্দুদের প্রাপ্তি ও প্রত্যাশা যা হোক না কেন হিসেবের খাতাটা বলতে গেলে শূণ্য থেকেই গেল। তাই ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনে হিন্দুদের মধ্যেও পরিবর্তনের আবাস দেখা যাচ্ছে। হিন্দু ভোট ব্যাংকেও ফাটল ধরছে। ভোট চলে যাচ্ছে ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতের ঘরে। যাবে, যেতে বাধ্য। যাওয়াটা মুক্তিযুদ্ধের দলগুলোর আদর্শ বিচ্যুতি। এ বিচ্যুতির কারণে যারা যাচ্ছে তারা মনে করে ভারতের মুসলমানদের যদি অধিকার থাকে ভারতে ধর্ম ভিত্তিক দল বিজেপিকে ভোট দেয়ার তবে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের অধিকার রয়েছে জামায়াতকে সমর্থন করার।

অপর দিকে স্বাধীনতাত্তোর অধিকারহীন নির্যাতিত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী তাদের স্বগোত্রীয় নেতাদের নতজানু চেহারা প্রতক্ষ্য করেছে বাবরি মসজিদ নিয়া যখন দাঙ্গা হয় তখন হিন্দু মন্ত্রী বলেছিলেন বাংলাদেশে কিছু ঘটেনি। আবার বিগত সরকারের আমলে রামু নাসির নগর অভয় নগরসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু নির্যাতন স্বত্বেও বলতে শোনা গেছে। হিন্দুরা ভালো আছে।

আমরা দেখি রাজনৈতিক বা সাম্প্রদায়িক সংকটের সময়ে দিল্লীর জামে মসজিদের প্রধান ইমামের কথায় গভীর আস্থা রাখে ভারতের সংখ্যালঘু মুসলিমরা। তাঁর কথায় গুরুত্ব দিতে বাধ্য হয় সে দেশের সরকার। কারণ সেই আস্তা তিনি অর্জন করেছেন, দলীয় লেজুড়বৃত্তি না করে সম্প্রদায়ের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়েছেন, যার ফলে তাঁর কথায় সম্প্রদায়ের মানুষের যেমন আস্থা আছে, ক্ষমতাসীনরাও এড়িয়ে যেতে পারেনা। বাংলাদেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সামাজিক বা প্রাতিষ্ঠানিক সংগঠনগুলো সেই আস্থা ও ব্যক্তিত্বের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। ফলে বিগত সরকারের আমলে হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু নেতাদের দাবী ও আন্দোলনে আজকের মতো হিন্দু জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

ঠিক তেমনিভাবে আমাদের দেশে হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু নেতাদের আপোষকামী মনোভাবের কারনেও আজকের সাধু সন্ন্যাসীদের মতো আস্তা অর্জন করতে পারেননি হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু নেতারা। হিন্দু সংগঠন ও হিন্দু নেতাদেরও নতুন করে ভাবার সময় এসেছে এখন, হীনমন্যতা ঝেড়ে ফেলে একক দলনির্ভর অন্ধ সমর্থনের পথ থেকে বেরিয়ে এসে দরকষাকষির মাধ্যমে নিজের দেশে নিজ সম্প্রদায়ের ন্যায্য হিস্যা আদায়ে দৃঢ় নৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি অর্জন করার।