মোহীত উল আলম: চবিতে সামুদ্রিক বিজ্ঞান ইন্সটিউটে ননীদা পড়াতেন। অধ্যাপক ড. ননী গোপাল দাশ। খুবই সিম্পল একজন লোক বললেও কম বলা হয়। আমার বছর কয়েকের সিনিয়র হলেও আমার সঙ্গে ভাব ছিল। আমি একসময় স্বেচ্ছাবসর নিয়ে চবি ছাড়ি। ননীদাও স্বাভাবিক সময়ে অবসর নিয়ে দিন গুজরান করছিলেন। তাঁর এক প্রাক্তন ছাত্র থাইল্যান্ডে স্থায়ীভাবে বসবাস করে, সুজিত দাশ নাম। সুজিত একদিন ব্যাংকক থেকে ননীদার রেফারেন্স দিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলে। বলল ননীদা একটা এনজিও খুলছে, ECO Foundation নামে এবং আমাকে ভাইস চেয়্যারম্যান হিসেবে চান। আমি ঢোলে বাড়ি পড়লে নাচতে নামি, সে কিসিমের লোক। রাজি হয়ে গেলাম। কিন্তু বললাম, আমিতো Environment Community and Ocean Development সম্পর্কে বৈজ্ঞানিক অর্থে কিছুই জানি না। এনভাইরনমেন্ট বলতে কিছু গাছপালা, নদীনালা বুঝি, এই। আর Ocean বলতে কোলরিজের ‘wide, wide sea’, কিংবা হেমিংওয়ের The Old Man and the Sea ছাড়া কিচ্ছু জানি না। সে বলল, স্যার, প্রকৃতিবিজ্ঞান, জ্যোতির্বিজ্ঞান এসব নিয়ে আপনার উৎসাহ আছে আমরা জানি।
দেখলাম, সুজিত সহ তার এদেশে বসবাসকারী বন্ধুগুলো খুব তৎপর। ঘনঘন তারা বিভিন্ন জায়গায় প্রকৃতি-সচেতনতামূলক নানান প্রোগ্রাম করে, আমিও যাই, নানান কিছু শিখি। সমুদ্র সম্পদকে যে ব্লু ইকোনোমি বা নীল অর্থনীতি বলে সেটি নিয়ে অনেক কথা জানলাম। এর মধ্যে তারা সমাজসেবা দপ্তরের নিবন্ধনও নিয়ে ফেলেছে। আমার উৎসাহ বাড়তে লাগলো। তো গত ২৭ অক্টোবর ২০২৪ তাদের একটা “বৃক্ষরোপন” বিষয়ক রচনা প্রতিযোগিতার ওপর পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান ছিল। মুরাদপুরস্থ সমাজসেবা দপ্তরের হলঘরে। গেলাম। একসময় আমাকে কিছু বলতে বলা হলো। আমার ইদানীংকার লেখাপড়া শেক্সপিয়ারের ওপর সাম্প্রতিকতম সাহিত্যতত্ত্বগুলি কী কী রকমের আলো ফেলছে তা নিয়ে। মানুষ সচরাচর যা নিয়ে ভাবে, পড়ে বা লেখে তার কথাবার্তায় তার একটা প্রতিফলন থাকে।
আমি কথা বলতে গিয়ে ইকোক্রিটিক্যাল স্টাডিজ নিয়ে কিছু রচনার উল্লেখ করে বললাম, প্রাচীন রোমে খ্রীষ্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীতে মার্কাস ভিট্রুভিয়াস পোলিও (৮০ বিসিই থেকে ১৫ বিসিই) নামক একজন স্থপতিবিদ ছিলেন। তিনি তাঁর ডি আর্কিটেকচার গ্রন্থে মতামত দিয়েছিলেন যে প্রকৃতির মধ্যে মানুষের শরীর হলো সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি উদাহরণ। মানুষের এই সুকৃত দেহসৌষ্ঠবের অনুসরণে তিনি স্থাপত্যরীতিতে সামঞ্জস্য বিধানের পক্ষে ছিলেন। মানুষের অবয়বের এই প্রশংসার আলোকে মানুষকে বলা হলো ‘দ্য ভিট্রুভিয়ান ম্যান’।এর প্রায় দেড় হাজার বছর পর, ১৪৯০ সালে, পৃথিবী বিখ্যাত ইতালীয় শিল্পী লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চি ভিট্রুভিয়াসের অনুকরণে মানুষের নগ্ন শারীরিক অবয়বের একটি ড্রয়িং আঁকলেন। ছবিটিতে একটি শরীর কিন্তু দুই জোড়া হাত পা, একটার ওপর আরেকটা সুপারইম্পোজড করা। এক জোড়া হাত পা একটি চতুর্ভুজের মধ্যে, আরেক জোড়া একটি বৃত্তের মধ্যে। কিন্তু দুই ক্ষেত্রেই, চর্তুভুজের মধ্যে এবং বৃত্তের মধ্যে মানুষটির সামঞ্জস্যপূর্ণতা অবয়ব দৃশ্যমান।
রেনেসাঁ যুগে দ্য ভিঞ্চির এই প্রতিকৃতি আদর্শ মানুষের প্রতীক হিসেবে আদৃত হলো। ১৬০০ সালে শেক্সপিয়ারের ‘হ্যামলেট’ বলছেন, “ওয়াট আ পিস অব ওয়র্ক ইজ আ ম্যান! কী মহৎ তার যুক্তিধারা, কী অপরিসীম তার গুণাবলী, আকৃতিতে এবং নড়াচড়ায় কী সুন্দর প্রকাশ, কর্মে কীরকম দেবতার মতো, বোধিতে ঈশ্বরের মতো। পৃথিবীর একক সৌন্দর্য, জীবদের মধ্যে সেরা।” (২.২.৩০৫-৩০৯; তর্জমা আমার।) ইউরোপিয় রেনেসাঁ মানবতাবাদের কেন্দ্রে তাই রইল এই মানুষটি। হ্যামলেট মানুষের যুক্তিবাদী ক্ষমতার কথা বলেছেন, আর ইউরোপ যখন অষ্টাদশ শতাব্দীতে যুক্তিবাদের যুগে প্রবেশ করল, তখন ধারণা দেওয়া হলো যে মানুষের জন্য যুক্তিজ্ঞানই পরম লক্ষ্য। ফলে জ্ঞান বা এপিস্টেমোলোজি এবং শরীর বা অন্টোলজি (সরল অর্থে)-র মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ফারাক তৈরি হলো, যেখানে মনের গুরুত্ব শরীরের চাইতে বেশি ভাবা হলো। মন হচ্ছে নির্বাধ, মুক্ত, আর শরীর হচ্ছে হ্যামলেটের ভাষায়, আগের উক্তির প্রলম্বতায়, পতনশীল: একবিন্দু ধুলিকণা, ‘কুইন্টিশেন্স অব ডাস্ট’ (২.২.৩১০)। আর আরেকটু পরে তার বিখ্যাত “টু বি অর নট টু বি” স্বগতোক্তিতে বলছেন, মানুষের শরীর হচ্ছে রোগ-শোকের উত্তরাধিকারী: ‘দ্যাট ফ্লেশ ইজ এয়ার টু’ (৩.১.৬৩)। অর্থাৎ, ভিট্রুভিয়ান স্ট্রং ম্যান থেকে মানুষ হয়ে গেল ভিট্রুভিয়ান স্ট্র ম্যান।
মানুষের এই দ্বৈতসত্তা, একদিকে সে ঈশ্বরের মতো প্রতিভাসম্পন্ন, অন্যদিকে সে খড় বা ধুলিকণার চেয়েও নগন্য ক্রিস্টাফার মার্লো তাঁর বিখ্যাত নাটক ড. ফাউস্টাস-এ (১৫৮৮-১৫৯২) ফুটিয়ে তুললেন। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দী পার হয়ে যখন ইংরেজি সাহিত্য রোম্যান্টিক যুগে প্রবেশ করল, তখন কবি ওয়ার্ডসওয়ার্থ, কোলরিজ, বাইরন, শেলী, কিটস প্রমুখ একদিকে প্রকৃতির বন্দনামূলক কবিতা রচনা করে এবং চিত্রকরদের মধ্যে টমাস গেইনসবরো এবং জন কনস্টেবল তাঁদের ছবিতে প্রকৃতির বন্দনাসহ ল্যনস্কেপের ছবি এঁকে দেখিয়ে দিলেন যে প্রাকৃতিক জীবনের অস্তিত্বই প্রকৃতভাবে মানুষের সার্বিক অস্তিত্বকে প্রকাশ করে।
কাজেই পূর্বে যে শরীরের ইতরায়ন করা হয়েছিল, এবার সেটা উল্টে গিয়ে এই ধারণা পথ পেল যে প্রকৃতি হচ্ছে মানুষ সহ হাজার কোটি জীবন্ত প্রাণির বাসগৃহ। আগে হিউম্যানিজম বলতে মানুষের কৌলীন্য স্বীকার করে যে গীত গাওয়া হতো, নারীবাদী ও বর্ণবাদী সমালোচকেরা বললেন, ভিঞ্চির মানুষটা ইউরোপিয় শ্বেতাঙ্গ পুরুষের অবয়ব মাত্র, এটি নারী এবং অন্য বর্ণের লোকদের স্বীকার করে না। আর সামাজিক প্রত্নতত্ত্ববিদেরা আরেকটি প্রশ্ন তুললেন। লুই আলথুসার, মিশেল ফুকো প্রমুখ দার্শনিকরা বললেন যে মানুষকে বিশ্লিষ্ট করলে দেখা যাবে যে সে প্রকৃতি, রাজনীতি, সমাজ এবং যন্ত্রপাতির দ্বারা প্রভাবান্বিত হয়ে এক একটি রূপ নিয়েছে, যে মতবাদকে বলা হয় এ্যান্টিহিউম্যানিজম। আর এই ধারণাকে আরও খানিকটা বিস্তৃত করে ব্রুনো ল্যাটুর (১৯৪৭-২০২২) নামক ফরাসী প্রত্নতত্ত্ববিদ তাঁর উই হ্যাভ নেভার বিন মর্ডান (১৯৯১) গ্রন্থে বললেন যে অন্য সব কিছুকে বাদ দিয়ে শুধু মানুষকে সর্বশ্রেষ্ঠ বলে যে আধুনিক ধারণার প্রচলন হয়েছে সেটি রূপকথা ছাড়া আর কিছু নয়। মানুষের সর্বাত্মক রূপ পরিগ্রহ করার বেলায় প্রকৃতি, রাজনীতি, সমাজ, টেকনোলোজি এমনকি এআই পর্যন্ত তিনি আলোচনায় এনে বললেন যে সবকিছুর দ্বারা প্রভাবিত হয়ে মানুষ মনে ও শরীরে বিকশিত হয়। তাই মানুষের সামগ্রিক রূপ প্রকৃতি সহ সকল উপাদানের সঙ্গে সাযুজ্যপূর্ণ একটি রূপ। ফুকো যেখানে বিশ্লিষ্ট করার ওপর জোর দিয়েছিলেন সেখানে তিনি বৃহত্তর একটি সমন্বয়ের কথা বললেন।
এই সমন্বয়বাদী চিন্তা থেকে প্রকৃত অর্থে আধুনিক পরিবেশবাদী চিন্তার বিকাশ হয়। যেমন চট্টগ্রামে যখন শিরীষতলা উচ্ছেদ করে হাসপাতাল নির্মাণের কথা উঠেছিল, তখন চট্টগ্রামবাসী এর বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেমে স্লোগান তুলে বলেছিল যে শিরীষতলা হচ্ছে চট্টগ্রাম শহরের ফুসফুস। এই স্লোগানটা যথার্থ অর্থে পোস্টহিউম্যানিজম থেকে এন্ভাইরনমেন্টালিজমে উপনীত হবার সেতু। দেহের ভিতরের ফুসফুস দেহ থেকে বের হয়ে প্রকৃতির মধ্যে বিরাজ করতে লাগলো। এই দিক থেকে ননীদার ইকো ফাউন্ডেশন কর্মসূচি বাংলাদেশের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি উদ্যোগ।
কেন প্রয়োজনীয় তার একটা ফিরিস্তি দিয়ে লেখাটি শেষ করব।
গুজবালয়ে (ফেবু) হরদম সত্যমিথ্যা নানান খবর আসে। কিছুদিন আগে পিলে-চমকানো একটি খবর দেখলাম। কোন একটি আর্ন্তজাতিক জরীপ সংস্থা বলছে বাংলাদেশের লোকসংখ্যা এখন ৪০ কোটি। তারা এর ব্যাখ্যা স্বরূপ বলছে, ১৯৯৭ সালের পর থেকে লোকসংখ্যার ক্রমবৃদ্ধির হারে ব্যাপক তথ্য চাপা দেয়া হয়েছিল রাজনৈতিক কারণে, ও আর্ন্তজাতিক দাতা সংস্থার কাছ থেকে ফায়দা লোটার জন্য। এই দীর্ঘ আড়াই দশক লোকসংখ্যার বৃদ্ধির হার চাপা দিয়ে দিয়ে বর্তমানে সতেরো কোটির মতো দেখানো হচ্ছে। তারা গড়পরতা বৃদ্ধির হার হিসাব করে বলছে, তথ্য চাপা দিয়ে না রাখলে প্রকৃত জনসংখ্যা পাওয়া যেত চল্লিশ কোটি।
মারহাবা!
যা হোক, ২০২১ সালের একটি জরীপ অনুযায়ী পৃথিবীতে প্রতি বর্গ কিমিতে জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে বাংলাদেশ দশম স্থান অধিকার করে আছে। এর আগের নয়টি দেশ হলো ম্যাকাও, মোনাকো, সিঙ্গাপুর, হংকং, জিব্রাল্টার, বাহরাইন, মালদ্বীপ, মাল্টা ও বারমুডা। এগুলি বেশিরভাগই দ্বীপাঞ্চল ও এক শহর এক দেশ। সে হিসেবে প্রকৃত রাষ্ট্রীয় সংজ্ঞা সবগুলো একত্রে পূরণ করে এমন দেশগুলির মধ্যে জনসংখ্যার ঘনত্বের দিক থেকে বাংলাদেশই প্রথম। অর্থাৎ প্রতি বর্গকিলোমিটারে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি লোক বসবাস করে, ১২৭৭ জন।
অর্থনীতিবিদ টমাস ম্যালথাসের (১৭৬৬-১৮৩৪) জনসংখ্যা সম্পর্কিত ধারণা এখন বর্জিত। তাঁর ১৭৯৮ সালে প্রকাশিত এ্যান এসে অন দ্য প্রিন্সিপ্যাল অব পপুলেশন গ্রন্থে তিনি জনসংখ্যাকে সংকট হিসেবে দেখে বলেছিলেন মানুষ বৃদ্ধি পায় জ্যামিতিক হারে, ১, ২, ৪, ৮, ১৬ এই ধারাবাহিকতায়, কিন্তু খাদ্য বৃদ্ধি পায় গাণিতিক হারে ১, ২, ৩, ৪, ৫ এই ক্রমে। ফলে খাদ্য সংকট দেখা দেবে। তাই, দুর্ভিক্ষ, যুদ্ধ, মহামারী এইসবকে তিনি ক্রমবৃদ্ধিমান জনসংখ্যার বিরুদ্ধে প্রাকৃতিক ও মানবিক ইতিবাচক সংশোধনী হিসেবে দেখেছিলেন, এবং নাগরিকদের নৈতিকভাবে উন্নত জীবন যাপন, বিলম্বিত বিবাহ, পরিবার পরিকল্পনা ইত্যাদিকে প্রতিকারী বিধান হিসেবে প্রবর্তনের প্রস্তাব করেছিলেন ।
অচিরেই ম্যালথাস বিপরীত প্রতিক্রিয়ার সম্মুখীন হলেন। কারণ ততদিনে ইংল্যান্ড সহ ইউরোপের অন্যান্য দেশে শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়ে গেছে। কৃষিকে শিল্পায়ন করার পদ্ধতিও জায়গা পেতে লাগলো। অর্থাৎ আমেরিকান সাহিত্য সমালোচক লিও মার্ক্সের ভাষায় ”মেশিন ইন দ্য গার্ডেন” চলে আসছে। ম্যালথাস এই যন্ত্রযুগের বিস্ফোরণকে অনুমান করতে পারেন নি। তাঁর সমালোচেকেরা বললেন, মানুষ শুধু পেট আর মুখ নিয়ে জন্মগ্রহণ করে না, সে মগজ, একজোড়া হাত আর একজোড়া পা নিয়েও জন্মগ্রহণ করে। অর্থাৎ আধুনিক বাজার অর্থনীতির ব্যবস্থাপনায় মানুষকে যে হিউম্যান রিজোর্স বা মানবসম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, ম্যালথাসের চিন্তাটা তার থেকে একটু পেছনের ছিল।
তবে, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, যদি জনসংখ্যা ৪০ কোটি না হয়ে ১৮ কোটিও হয়ে থাকে, বলা যাবে যে ম্যালথুসিয় সূত্র এখনও কার্যকর। ঢাকা ট্রিবিউনের ২২ জানুয়ারি ২০২৩ সংখ্যায় ২০২২ সালের বাংলাদেশ পোভার্টি ওয়াচ রিপোর্ট অনুযায়ী বলছে যে বাংলাদেশের ৩.৫ কোটি লোক এখনও হতদরীদ্র, যার অর্থ হলো এরা তিন বেলা খেতে পায় না, অনাহারে বা অর্ধাহারে থাকে। আর ৪০ কোটি ধরলে যে কত কোটি লোক না খেয়ে আছে বলা যাবে না।
একটা তুলনামূলক অনুচ্ছেদ লিখলে বাংলাদেশের জনসংখ্যার অবস্থানটা বোঝা যাবে। এখন দক্ষিণ আফ্রিকা খেলতে এসেছে। প্রথম টেস্টে তারা জিতেছেও, দ্বিতীয় টেস্টও জিততে যাচ্ছে। এই দক্ষিণ আফ্রিকা ভৌগোলিক আয়তনে বাংলাদেশের আট গুণ হলেও এর লোকসংখ্যা ৬.৫ কোটি, অর্থাৎ বাংলাদেশের এক তৃতীয়াংশের একটু কম। প্রতি বর্গ কিমিতে মাত্র ৪৯ জন বাস করে। ফলে দক্ষিণ আফ্রিকা তুলনামূলকভাবে প্রকৃতির যে সংগম পায়, বাংলাদেশ তার কিছুই পায় না। বাংলাদেশের মানুষ বন, পাহাড় উজাড় করে থাকছে, নদী দখল করে সমুদ্র দখলের প্রচেষ্টায় আছে। আমাদের অক্সিজেনের অভাব প্রকট।তা হলে, গ্রিন ও ব্লু ইকোনমি জোরদার করতে আমাদের পরিবেশসংরক্ষণবাদী হওয়া ছাড়া উপায় নেই।
লেখকঃ মোহীত উল আলম,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাসক, প্রাবন্ধিক ও কলামিস্ট।
Post Views: 334




