ঢাকা অফিস: রাজধানীর বনানী থানাধীন ওয়্যারলেস গেট এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের অত্যাচারে অতিষ্ঠ ‘জ’ ব্লকবাসী। কিশোর গ্যাংয়ের অত্যচারে অতিষ্ট স্থানীয়রা। পাড়ার গলির রাস্তায় প্রকাশ্যে ওদের গাঁজা সেবনের কারণে রাস্তা দিয়ে চলাচলরত মুরব্বিদেরই লজ্জায় মুখ লুকাতে হয়। কেউ কিছু বললে উলটো তাকে ধরে বসে। বলে তুইও গাঁজা খাস! নাহলে জানলি কীভাবে আমরা গাঁজা খাচ্ছি। বাপের বয়সের লোকদেরও তুই তোকারি করে কথা বলে। এই গ্যাং এর নেতৃত্ব দেয় বখাটে সিয়াম ও সোয়েব।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে জহুরা ভিলা, জ- ১১৬/১/২ নাম্বার বাড়ির সামনের গলিতে এই কিশোর গ্যাংয়ের ছেলেদের অবস্থান করতে দেখা যায়। ওদের অভিভাবকের কাছে নালিশ করলে তাদের আচরণে মনে হয় ছেলেদের এমন কর্মকাণ্ডে তারা গর্বিত! যে কারণে এলাকাভিত্তিকভাবে এই কিশোর গ্যাংকে প্রতিরোধ করা যাচ্ছে না। স্থানীয় কাউন্সিলরের কাছে অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা জহুরা ভিলার সামনে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ করে ক্রিকেট খেলার নামে চরম হইচই করে, গ্রুপিং-আড্ডাবাজি করে, সিগারেট টানে, ইভটিজিং করে। ইচ্ছে করে পথচারী মেয়েদের দিকে বল ছুড়ে মারে।স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো এসব ছেলেরা কিছুক্ষণ পরপর আতশবাজি ফোটায়। যে কারণে আশপাশের বিল্ডিংয়ের বাসিন্দাদের খুব অসুবিধা হয়। বিশেষ করে ঘরে গৃহিণীদের নামাজ পড়তে, বাচ্চাদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়ে থাকে। এছাড়া ক্রিকেট খেলার নামে ওদের হইচইয়ে এবং আতশবাজির শব্দে নবজাতক শিশুরা ঘুমাতে পারে না, আবার ঘুম থেকে ভয় পেয়ে আঁতকে উঠে কান্নাকাটি করে।
ওয়্যারলেস গেটের বাসিন্দা মোস্তাফিজ জানান, এসব কিশোর গ্যাংয়ের ছেলেদের বলেও লাভ হয় না, উলটো চরম বেয়াদবি করে। কেউ নিষেধ করলে তাকে সবাই মিলে ঘিরে ধরে, মারতে আসে। প্রায়ই দেখা যায় খেলা ছেড়ে কথা কাটাকাটি-মারামারি করে। তখন হইচই আরো বেড়ে যায়। আশপাশের মানুষজন তাদের হইচই শুনে ভয় পেয়ে যায় যেন কি না কী হয়েছে! আসলে ক্রিকেট খেলাটা ওদের বাহানা মাত্র। আড্ডাবাজি ওদের আসল উদ্দেশ্য।ওয়্যারলেস গেট থেকে মাত্র হেঁটে এক মিনিটের পথ, পাশেই বিশাল টিঅ্যান্ডটি মাঠ। ওরা মাঠে গিয়ে না খেলে গলিতে খেলে। তাও দিনের বেলা না খেলে মধ্যরাত পর্যন্ত খেলে। ক্রিকেট খেলার নামে ওরা এখানে একসঙ্গে ২০/৩০জন আড্ডা দিয়ে ওদের ক্ষমতা অন্য কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের জানান দেয়। মাঝে মাঝেই দেখা যায় ওরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গলিতে মহড়া দেয়। গত ৫ আগষ্ট, এরা দলবদ্ধভাবে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী ওয়্যারলেস গেটে লাঠিসোঁটা নিয়ে স্থানীয় নিরীহ বাসিন্দাদের উপর হামলা করে পিটিয়ে আহত করে।
দেশে চলমান ছাত্রদের বৈষম্য বিরোধী কোটা আন্দোলনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এই কিশোর গ্যাং এর সদস্যরা ঢাকা উত্তরের ২০নং ওয়ার্ড কাউন্সিলরের নির্দেশে মহাখালীর বিভিন্ন স্থানে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও ব্যাপক লুটপাট করেছে। তাদের মধ্যে দু’জন সেতু ভবনে লুটপাট অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছে। সিসি ক্যামেরায় দু’জনের লুটপাটের প্রমাণ পাওয়া যায়।অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছে বনানীর এই কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আকুতি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এখনি এদের লাগাম টেনে না ধরলে ওরা বড় ধরনের অঘটন ঘটিয়ে ফেলতে পারে।
এদের কয়েকজনের সাথে কথা হলে তাদের বিরুদ্ধে সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেন। এরা রেড ক্রিসেন্টে জব করেন এবং অবসর সময়ে মোবাইলে গেমস খেলেন বলে জানান। তবে তারা রেড ক্রিসেন্টের কোনো পরিচয়পত্র দেখাতে পারেনি।
রেড ক্রিসেন্টের একটি সূত্রে জানা যায়, এদের মধ্যে ২/৩ জন মাঝে প্রয়োজনে রেড ক্রিসেন্টে ভলেন্টিয়ার হিসেবে কাজ করে। এটা স্থায়ী কোনো পেশা নয়।




