মো. আয়ুব মিয়াজী, চন্দনাইশ: চন্দনাইশ পৌরসভায় বিশ্ব ব্যাংক ও এআইআইবি এর অর্থায়নে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে পৌর পানি শোধনাগারের কাজ চলছে জোড়া-তালি দিয়ে। প্রায় ১২৫ কোটি টাকার এই প্রকল্পটি গত ২২ নভেম্বর ২০২০ইং তারিখে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন চট্টগ্রাম-১৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী এমপি।
এরপর মেয়র মু. মাহাবুবুল আলম খোকার বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্যে গত ৫ জুন ২০২১ সালে তিনি এটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতায় দেশের ৩০টি পৌরসভায় বাস্তবায়ন হচ্ছে এই প্রকল্পের কাজ।
বিশ্ব ব্যাংকের প্রতিনিধি দল পরিদর্শনে আসলে নির্মাণ কাজে ত্রুটির কথা উঠে আসে বলে জানা যায়। তাই সময় বাড়িয়ে এসব ত্রুটি সারিয়ে চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রকল্পটি পৌরসভাকে হস্তান্তর করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে নির্মাণে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। তদারকি বিহীন ও ঠিকাদারের অতিরিক্ত লাভের কারণে নিম্নমানের কাজের কথা বলেন এলাকাবাসী।
এ ব্যাপারে সরজমিনে পরিদর্শন করে দেখা যায়, পানির ট্যাংকির কয়েকটি ভাগে বাহির থেকে ছিদ্রের ভিতর ছোট ছোট পাইপ ঢুকিয়ে আটকিয়ে দেয়া হয়। তড়িগড়ি করে তার উপর সিমেন্টের আস্তর দিয়ে রং করে কাজ সারছেন নির্মাণ শ্রমিকরা। মেকানিক্যাল কাজ এগিয়ে গেলেও বিদ্যুৎ লাইনের কাজসহ কনস্ট্রাকশনের আরোও কিছু কাজ এখনো বাকী রয়েছে।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দায়িত্বরত প্রকল্পটির সাইড ইঞ্জিনিয়ার এনায়েত উল্লাহ বলেন, ট্যাংকের ভিতর তিন মাস পানি মজুদ করে মেডিসিন দিয়ে প্রেসার দেয়ায় কিছু জায়গায় লিকেজ হচ্ছে। এগুলো কনস্ট্রাকশনের অংশ তার কাজ করছেন তারা। নির্মাণ শেষে ৬ মাস টেস্টিং করে ফাইনালী বুঝিয়ে দেয়া হবে। এটি এমনভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে যার স্থায়িত্ব হবে প্রায় ১০০ বছর বলে জোর গলায় বলেন তিনি।
চন্দনাইশ উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ফরহাদ উদ্দিন জানান, জানুয়ারিতে তাদের অফিসের উধ্বর্তন তদন্ত টিম টেস্ট করে অ্যাডভান্স ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে গ্রাউন্টিং ইনফেকশন চিহ্নিত করে কিছু কাজ ট্রিটমেন্ট করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। আন্ডার কনস্ট্রাকশানে থাকা প্রকল্প কনসালটেন্ট দিয়ে টেস্ট করে ঠিকাদারের কাছ থেকে কাজ আদায় করে নিতে হয়। এই কাজগুলো তারই অংশ। এর বেশি কিছু করার সুযোগ নেয় বলে জানান তিনি।
পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মহসিন জানান, পানি শোধনাগার প্রকল্পটি পৌরসভা সরকার থেকে অনুদান হিসেবে পেয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের ঋণের টাকায় সরকার এটি নির্মাণ করছে ও তদারকি করছেন। পৌরসভা শুধু জমি অধিগ্রহণ করে দিয়েছে ও ডিস্ট্রিবিউটর পানির পাইপ লাইনের কাজ করবে। এই প্রকল্পে সরাসরি তদারকি করার এখতিয়ার নেই তাদের।
মেয়র মু. মাহাবুবুল আলম খোকা বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের তদন্ত টিম পরিদর্শন করে লাল চিহ্ন দেয়া অংশ তারা ট্রিটমেন্ট করে দিচ্ছে বলে স্বীকার করেন। প্রকল্পটি নয়-ছয় করে বুঝিয়ে দিতে সুযোগ দিবেন না বলেন। বুঝিয়ে নেওয়ার আগে তৃতীয় পক্ষ বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে যাচাই-বাছাই ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বুঝিয়ে নিবেন। তারা বুঝিয়ে দিলে স্থানীয় সরকারে অধীনে তদারকি ও পরিচালিত হবে। এর আগে অপারেশনের সমস্ত লোক নিয়োগ দিবে ওয়ার্ল্ড ব্যাংক।
তিনি আরোও জানান, চুক্তি অনুসারে বুঝিয়ে দেওয়ার পর আরোও ৩ বছর এটির রক্ষণাবেক্ষণে দায়িত্ব থাকবে বিশ্ব ব্যাংকের হাতে।




