প্রদীপ দাশ, কক্সবাজার সদর প্রতিনিধি: খুলনা থেকে অস্ত্র আসে কক্সবাজার, আর কক্সবাজার থেকে এর বিনিময়ে নিয়ে যাওয়া হয় বিভিন্ন মাদক। মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছে এমনই আন্ত:জেলা যোগাযোগ । বিদেশি অস্ত্রসহ এই সিন্ডিকেটের ৩ সদস্যকে আটকের পর এমন তথ্য জানিয়েছেন র্যাব ১৫, অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন।
আটককৃতারা হলেন,টেকনাফের জাদিমোড়া এলেকার ইমাম হোসেনের ছেলে, ইয়াসিন আরাফাত উরফে কালো (২১), হোয়াইকং এলাকার মোঃ হোসেনের ছেলে, আবুল কাশেম (৩৮) । খুলনা উপজেলার সুতারখালি ইউনিয়নের বাসিন্দা, নওসের মুডেলের ছেলে , নুরুজ্জামান (২৮)। খুলনা সদর উপজেলার আবুল কাশেমের ছেলে , জাকির আহমদ সাগর (২৬) ।
র্যাবের দাবি এবছরের সবচেয়ে বড় ইয়াবার চালান আটক করা হয়েছে। সোমবার টেকনাফের হ্নীলা সীমান্তবর্তী পূর্ব জাদী মোডা এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই লাখ ইয়াবার চালান আটক করে তারা।
মঙ্গলবার ( ১৯ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে র্যাব ১৫,অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন, মিয়ানমারে চলমান অভ্যন্তরীণ সংঘাতের কারণে মাদক আসা কিছুটা কমে এসেছিল গেল মাসে। কিন্তু সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আসা শুরু হয়েছে মাদক পাচার।
র্যাব ১৫ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচএম সাজ্জাদ হোসেন বলেন ,প্রতি সপ্তাহে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পাঁচ থেকে দশ লাখ করে ইয়াবা ডুকছে সীমান্ত দিয়ে যা বিভিন্ন এজেন্টের মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে সারাদেশে।
সীমান্ত দিয়ে এত মাদক আসার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কর্মকর্তা বলেন,আড়ালে সিন্ডিকেট করে এপার -ওপার মাদক আসার কাজটা বেশি হয়ে থাকে। সীমান্তবর্তী পূর্ব জাদি মুডা এলাকায় মাদকের চালান নিয়ে অবস্থান করার খবর পেয়ে উক্ত স্থানে মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে এ সময় ইয়াসির আরাফাত ওরফে কালুকে আটক করা হয়।
আটককৃত ইয়াসির আরাফাত ওরফে কালু, জানান, পাশ্ববর্তী দেশ হ’তে ক্রয়কৃত মাদকের মূল্য বাবদ নগদ প্রদান এবং কখনো কখনো ব্যবসায়ীদের হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পরিশোধ করত। এছাড়াও গ্রেফতারকৃত আবুল কাশেম একজন সন্ত্রাসী। সে তার আধিপত্য বিস্তারের জন্য দেশি-বিদেশি অস্ত্র ,ভয়ভীতি দেখিয়ে, চাঁদা আদায় ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি ও পরিকল্পিত হামলা সহ, বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। একই সাথে সেই দীর্ঘদিন ধরে মাদকের ব্যবসা করে আসছিল।
গ্রেপ্তারকৃত নুরুজ্জামান ও সাকিব আহম্মদ সাগর দু’জনেই অস্ত্র ব্যবসায়ী। খুলনা থেকে অবৈধ দেশি-বিদেশি অস্ত্র ও গোলা-বারুদ দিয়ে কক্সবাজার ওনসিপ্রাং এলাকায় এসে সন্ত্রাসীদের কাছে অস্ত্র বিক্রি করত ।
পৃথক অভিযানে তিন অস্ত্র ব্যবসায়ী ও এক মাদক কারবারিকে আটক করার পর র্যাব জানান, অভিযানে তারা একটি বিদেশী পিস্তল ও দুই রাউন্ড কার্তুজও উদ্ধার করেন।




