আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পার্লামেন্টে দাঁড়িয়ে ভারতের কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, মোদির শাসনামলে ভুল পররাষ্ট্রনীতির কারণে পাকিস্তান ও চীন এককাট্টা হয়েছে। এতদিন ভারতের পররাষ্ট্রনীতির মূল লক্ষ্যই ছিল চীন ও পাকিস্তানকে আলাদা রাখা। এখন চীন ও পাকিস্তান এককাট্টা হয়ে গেছে। এতদিন ভারতের দুই সীমান্তে দু’টি লড়াইয়ের ক্ষেত্র থাকলেও এখন সেটাই নিরবচ্ছিন্ন সীমান্তের লড়াই হয়ে উঠেছে। ভারত পররাষ্ট্রনীতিতে একেবারে বিচ্ছিন্ন এবং সে কারণেই প্রজাতন্ত্র দিবসে কোনো বিদেশি রাষ্ট্রনেতাকে অতিথি হিসেবে পাওয়া যায়নি।
বুধবার (২ ফেব্রুয়ারি) সংসদে বাজেট অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার ধন্যবাদ জ্ঞাপন প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কে তিনি এ কথা বলেন। বিজেপি শাসিত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, মোদি শাহেনশাহের মতো দেশ চালাচ্ছেন। তিনি এমন এক রাজা, যিনি কারও কথা কানে তোলেন না, রাজ্যের সমস্যার কথায় কান দেন না। কংগ্রেস ১৯৪৭ সালে রাজার শাসনের ধারণাটাই ভেঙে দিয়েছিল। কিন্তু এখন রাজার শাসন আবার ফিরে এসেছে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগতভাবে ইসরায়েল সফরে গিয়ে পেগাসাস কিনে এনেছেন। এখন বিচারব্যবস্থা, নির্বাচন কমিশন ও পেগাসাসকে হাতিয়ার হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে।
সংসদে বিজেপির সংসদ সদস্যদের বক্তৃতার পরে কংগ্রেসের প্রথম বক্তা হিসেবে তিনি ভাষণ দেন। উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, মণিপুরের ভোটারদেরও বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করেন বক্তব্যে। উত্তরপ্রদেশে দলিতদের নিপীড়ন, পাঞ্জাবে চাষিদের কৃষি আইন নিয়ে আপত্তি না শোনার অভিযোগ তুলে এ কংগ্রেস নেতা বলেন, অমিত শাহ মণিপুরের মানুষদের অপমান করেছেন। মণিপুরের সংসদ সদস্যদের প্রতিনিধি দল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়িতে তাঁর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তাদের বাড়ির বাইরেই জুতো খুলতে হয়েছে। কিন্তু অমিত শাহ নিজে চপ্পল পরে বসেছিলেন।
এ কংগ্রেস নেতার প্রশ্ন, এ কোন সংস্কৃতি? কোন মানসিকতার প্রতিফলন? রাহুল বলেন, দু’ধরনের দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। এক হলো, ভারত রাজ্যসমূহের সংঘ, কোনোও সাম্রাজ্য নয়। আলোচনা না করে, সমঝোতায় না গিয়ে শাসন করা যায় না। অশোক, মৌর্য, গুপ্ত তিন হাজার বছরের ইতিহাসে তা হয়নি। দ্বিতীয় ধারণা হলো, লাঠি হাতে দেশ শাসন। মোদি আমলে তাই হয়েছে।
রাহুল বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সমস্যা, বেকারত্ব নিয়ে রাষ্ট্রপতির বক্তৃতায় কোনো উল্লেখ নেই। ধনী, গরিবের ব্যবধান বাড়ছে। তরুণরা চাকরি খুঁজছেন, সরকার চাকরি দিতে পারছে না। ৫০ বছরে সব থেকে বেশি বেকারত্ব। ২৩ কোটি মানুষকে দারিদ্রে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। সুত্র: এনটিভি



