দি ক্রাইম ডেস্ক: দেশের বিভিন্ন স্থানে মাঘের কনকনে ঠাণ্ডায় জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। ঘন কুয়াশায় দুপুর পর্যন্ত দেখা মিলছে না সূর্যের। অনেক স্থানে ঘর থেকে বাইরে বের হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে। বেশি কষ্টে আছেন শ্রমজীবী মানুষ। এদিকে কুয়াশায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে বোরো ধানের বীজতলা। আলু খেতে দেখা দিয়েছে মড়ক রোগ। হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগীর সংখ্যা।
তীব্র শীতের সঙ্গে কুয়াশায় নাকাল হয়ে পড়েছে সৈয়দপুরের মানুষ। সরকারি ও বেসরকারিভাবে সেভাবে শীতবস্ত্র বিতরণ না করায় অভাবী ও অসহায় মানুষ বেকায়দায় পড়েছে। সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লোকমান হাকিম জানান, সৈয়দপুরে বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বইছে। আকাশের উপরিভাগে ঘন কুয়াশা থাকায় সূর্যের তাপ ভূপৃষ্ঠে পুরোপুরি আসছে না। এজন্য বেশি শীত অনুভূত হচ্ছে। চলতি সপ্তাহের শেষে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা আরও কমে যেতে পারে বলে জানান তিনি।
ঘন কুয়াশার কারণে রবিবার সিরাজগঞ্জে সূর্যের দেখা মেলেনি। সেই সঙ্গে মাঘ মাসের প্রথম প্রান্তে তীব্র শীতে নাকাল হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের কর্মজীবী মানুষ। নিম্ন আয়ের মানুষের কর্মজীবন যেন স্থবির হয়ে পড়েছে। নির্মাণশ্রমিক আলাউদ্দিন, হাকিম, শহিদুলসহ অনেকেই বলেন, পেটের দায়ে কাজে এসেছি। কিন্তু পানি নাড়ার পর শীতে হাত-পা বাঁকা হয়ে গেছে। তার পরও কষ্ট করে কাজ করতে হচ্ছে।
তাড়াশ কৃষি আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাহিদুল ইসলাম বলেন, রবিবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়ায় উচ্চচাপ বলয়ের কারণে কুয়াশার তীব্রতা বেড়েছে। জানুয়ারি মাস জুড়েই শীত ও কুয়াশা অব্যাহত থাকতে পারে। চলনবিলসহ জেলার সর্বত্র ঘন কুয়াশায় আচ্ছাদিত থাকছে। এতে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
মাঘের তীব্র শীতে পাইকগাছাসহ উপকূল এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত রোগ। কুয়াশার কারণে আলু খেত, পান ও বোরো বীজতলার কিছুটা ক্ষতি হচ্ছে। কৃষি কর্মকর্তা অসিম কুমার দাশ জানান, ঘন কুয়াশায় রোপণকৃত বোরো খেতের চারা সূর্যের আলো ঠিকমতো না পাওয়ায় খাদ্য তৈরি করতে পারছে না। এতে করে চারা হলুদ বর্ণ ধারণ করছে।
নওগাঁর বদলগাছীতে ঘন কুয়াশা আর হিমেল বাতাশে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। দুপুরে তাপমাত্রা একটু বৃদ্ধি পেলেও সন্ধ্যা থেকে শুরু হচ্ছে হাঁড়কাপানো শীত। উপজেলার মথুরাপুর ইউপির জালালপুর গ্রামের বেলাল, নজিবর, আজাহারসহ অনেকে বলেন, অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে আমরা কাজকাম করতে পাড়ছি না। শীতের কারণে ঘর থেকে বেড় হওয়া কষ্টকর হয়ে পড়েছে।
অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে আলু উৎপাদনে দেশের বৃহত্তম জেলা জয়পুরহাটে এবার আলু খেতে ব্যাপক হারে দেখা দিয়েছে লেটব্লাইট (নাবিধসা) রোগ। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আলু খেতে রোগের কথা স্বীকার করে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক রাহেলা পারভীন বলেন, বৈরী আবহাওয়া বিশেষ করে অতিরিক্ত ঠাণ্ডার কারণে এবার আলুখেতে লেটব্লাইট নামক এক প্রকার মড়ক দেখা দিয়েছে।
টানা শৈত্যপ্রবাহে কোল্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত হয়েছে দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার বোরো বীজতলা। রোপণ মৌসুমের আগে বীজতলা ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা পড়েছেন দুশ্চিন্তায়। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুম্মান আক্তার বলেন, মৃদু শৈত্যপ্রবাহের কারণে কোনো কোনো স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে বীজতলা হলদে ভাব দেখা দিয়েছে। বীজতলা রক্ষায় কৃষি বিভাগ থেকে পলিথিন দিয়ে বীজতলা ঢেকে রাখার জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। শৈত্যপ্রবাহ আর না হলে বোরো চারার কোনো সংকট হবে না।




