ঢাকা ব্যুরো: সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি প্রকল্প’র এল.এ কেস-৩/২০১৮-১৯ এর অধিগ্রহণকৃত কিছু তথ্য গত বিষয় ও অনিয়ম আইন বহিভূর্ত ভাবে ভূমি, বিল্ডিং ও মেশিনারীজের ক্ষতিপূরণ বাবদ সরকারি ১৮০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে রেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ ও ভুয়া নামসর্বস্ব ভাড়াটে কারখানা।
এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক ও ভূমি মন্ত্রণালয় বরাবরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে বলা হয়, কেস নং ৩.১৫.০৩/২০১৮-১৯ জে.এল নং-৬ অধিগ্রহণকৃত দাগ নং-৭৭২১ আবেদনের ক্রমিক নং-০০০২৩৮, তেজগাঁও শি/এ, ঢাকা। ভূমিটি লিজকৃত এবং সরকারের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট।
দীর্ঘদিন খাজনা ও ভূমি কর নেওয়া বন্ধ ছিল। উর্ধ্বতন কর্মকর্তার কোন আদেশ না থাকলেও ভূমি অফিস হাবিব মোঃ সাইফুল্লাহ সাহেবের নিকট থেকে ভূমি কর গ্রহণ করে লিজকৃত ব্যক্তি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান অন্যের নিকট হস্তান্তর করতে পারে কিন্তু ভূমি হস্তান্তর করতে পারে না। যার ফলে ভূমি, বিল্ডিং, মেশিনারীজ, কারখানা ও গোডাউন এর ক্ষতিপূরণ পায় না হাবিব মোঃ সাইফুল্লাহ গং।
পুরো বিল্ডিংটি বিভিন্ন মালিককে কারখানা ও গোডাউন ভাড়া দেওয়া ছিল। কারখানাগুলো পুরাতন মেশিনারিজ দ্বারা চালিত হওয়ায় বেশ কয়েক বৎসর যাবৎ বন্ধ ছিল। অধিগ্রহণের সময় অন্যত্র থেকে বেশ কিছু পুরাতন মেশিনারিজ নিয়ে বিল্ডিং এ ঢুকায় এবং সেগুলোর ভুয়া কাগজপত্র তৈয়ার করে পিডব্লিউডিকে দেখায় এবং ক্ষতিপূরণের মূল্য নির্ধারণ করে।
উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক মনে করেছিল কার্যক্রম শেষ হয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ঠ জেলা প্রশাসক বিষয়টি অসংগতি মনে করলে বিটাককে দায়িত্ব দেয়। বিটাক পিডব্লিউডি এর তালিকা অনুযায়ী মেশিনারিজ সমূহ দেখতে চাইলে কয়েকটি ভাংগাচুড়া মেশিন ছাড়া বাকি কোন মেশিন দেখাতে পারে নাই। এ জন্য বিটাক রিপোর্ট প্রদান করে মেশিনারিজ কমিটির দৃষ্টি গোচর হয় নাই। যে কয়েকটি তাদের দেখাতে সক্ষম হয়েছে সেগুলোর মূল্য ধরেছে বাকি মেশিন কেন দেখাতে পারল না মালিক পক্ষ বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা অতিব জরুরী। তার মানে যেখানে থেকে মিশন বিল্ডিং এ ঢুকিয়েছিল সেখানে পুনরায় ফেরত প্রদান করেছে।
পরবর্তী সময় জেলা প্রশাসক বুয়েটকে দায়িত্ব দেয় আবারো ওই বিল্ডিং এ অন্যত্র থেকে মেশিনারীজ ঢুকায় এবং বুয়েটকে দেখায়।
ভূমি অধিগ্রহণে স্থানান্তরের বিষয়ে ব্যয় নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় কিন্তু স্থানান্তরের ব্যয়ের বাড়তি কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা অধিগ্রহণ আইনে উল্লেখ নাই। কিন্তু এক্ষেত্রে মেশিনারীজ স্থানান্তর ব্যয়ের ১০০ ভাগ ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়েছে। তাদের চাতুরতার কারণে সরকারকে ১০ হাজার মার্কিন ডলার জরিমানা দিতে হয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানকে।
এখাতে রাষ্ট্রের বেআইনীভাবে ব্যাপক অর্থ অপচয় করেছে। সর্বোপরি যেহেতু ভূমিটি লিজ ও লিজের মালিকানা নিয়ে প্রশ্ন আছে সরকারি ভূমির উপর বিল্ডিং নির্মিত বিধায় ভূমি ও বিল্ডিং এর কোন ক্ষতিপূরণ পায় না। সরকারের অগ্রাধিকার প্রকল্প কাজে জালিয়াতি ও রেক্স ইন্ডাষ্ট্রির মালিক এর অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে প্রকল্প কাজের বিলম্ব করণ রাষ্ট্রের অর্থ অপচয়ের দায় রেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজের উপর বর্তায়। এ যাবত প্রায় ১ শত ৮০ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, কে কে ফুডস, ওয়েস্ট্রার্ন হেলথ কেয়ার প্রোডাক্ট লিঃ, রেভেন ফুডস প্রডাক্ট এবং রেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান যাদের অস্তিত্ব মার্কেটে নাই শুধুমাত্র নামে মাত্র কাগজ কলমে আছে। যার দৃষ্টান্ত তাদের পূর্ববর্তী বছরগুলোর কোন হালনাগাদ কাগজপত্র ছিল না। সদ্য কাগজপত্র হালনাগাদ করে ভুয়া অডিট দেখিয়ে শুধু অর্থ গ্রহণ করে, আলাদা আলাদা চেক প্রদান ও গ্রহণ করেন।
ভূমি অধিগ্রহণ আইনে কোন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান নেই। সর্বশেষ মন্ত্রণলায় রেক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ এর চেয়ারম্যানকে ভূমি মন্ত্রণালয় ২৮ কোটি ৮৮ লক্ষ (কমবেশি) মেশিনারীজের টাকা চারটি কোম্পানীকে চেক প্রদান করেন। ক্ষতিপূরণের নির্দেশনা দিলেও পরবর্তী আরেকটি চান্স নেওয়ার জন্য চারটি কোম্পানীকে চেক প্রদান করে ডিসি, ঢাকা যাহা মন্ত্রণালয়ের অর্থাৎ মন্ত্রী মহোদয় ও সচিব মহোদয়ের অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য ছিল।
যেহেতু প্রতিষ্ঠানটি জয়েন্ট স্টক থেকে নিবন্ধিত না সেহেতু অত্র প্রতিষ্ঠানের কোন চেয়ারম্যান বা পরিচালক থাকার কথা নয়। কিন্তু বিগত দিনে রেক্স এর প্যাডে চেয়ারম্যান হিসেবে হাবিব মোঃ সাইফুল্লাহ স্বাক্ষরিত চিঠিপত্র আদান-প্রদান করেন। বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কতৃর্পক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হচ্ছে।




