বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের লবণ চাষীরা বেশ কয়েক বছর ধরে পুরাতন পদ্ধতি ফেলে নতুন পদ্ধতিতে আগাম লবণ চাষ করছে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই মাঠে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় খুশি স্থানীয় চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আগে থেকে লবণ চাষ শুরু করেছে লবণ চাষীরা। এ জন্য অন্যান্য বছরের চেয়ে আগেই নতুন লবণ বাজারে আসতে শুরু করেছে।এ অবস্থা চলমান থাকলে বেশি লাভের স্বপ্ন দেখছেন লবণ চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তবে মিল মালিকদের একটি অংশ দেশের বাইরে থেকে লবণ আমদানি করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশংকা করছেন লবণ চাষীরা।

পেকুয়ার লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী সিরাজুল মোস্তফা বলেন, বর্তমান আবহাওয়া মৌসুম জুরে থাকলে দেশের চাহিদার চাইতে লবণের বাম্পার ফলন হবে। একটি চক্র বিদেশ থেকে লবণ আমদানির কারণে বেশ কয়েক মৌসুম বিপুল পরিমাণ ফলন হলেও লোকসান গুনতে হয়েছে লবণ চাষীদের। এবার সবকিছু ঠিক থাকলে চাষিদের মুখে হাসি ফুটবে। প্রতিবারের মতো সিন্ডেকেট চক্র শিল্প মন্ত্রাণালয় এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হবে বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করতে মরিয়া হতে না পারে ফলে এদিকে নজর রাখা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন স্থানীয় লবণ চাষীরা।

লবণ চাষিদের দাবি, সরকার যেন সিন্ডিকেট’র চাপের মুখে প্রভাবিত না হয়। চাষীরা আশা করেন বর্তমান সময়ের আবহাওয়া ঠিক থাকলে কোনও ঘাটতি হবে না বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

কুতুবদিয়ার লেমশীখালী এলাকার লবণ চাষী নাজিম উদ্দিন বলেন, নতুন পদ্ধতিতে লবণ চাষ শুরু হওয়াতে এখন লবণ উৎপাদন বেশী হচ্ছে। তাই অন্যান্য বছরের চেয়ে চলতি বছর দ্বিগুণ লবণ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছি আমরা।

কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, কুতুবদিয়ার প্রধান কৃষিখাত হচ্ছে লবণ। এই অঞ্চলের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ লবণ চাষী ও মৎস্যজীবী। এখন লবণ চাষের মৌসুম। এই মৌসুমে লবণ চাষ করতে গিয়ে চাষিরা পড়েছেন বেকায়দায়। বর্তমানে পলিথিন থেকে শুরু করে লবণ উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত সব উপকরণের দাম বেড়েছে। তাই মাঠপর্যায়ে লবণের মূল্য কম হলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবার চাহিদার বিপরীতে লবণের বাম্পার উৎপাদন হবে তা চাহিদার তুলনায় বেশি হবে।
দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদনকেন্দ্রিক এলাকা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজোর কিছু অংশ। এই দুই অঞ্চলের প্রায় ৬৬ হাজারের বেশি একর জমিতে লবণ চাষ করেন চাষিরা।

কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর নভেম্বরের শুরুতে চাষিরা লবণ উৎপাদনে মাঠে নামেন। এ বছর আগে ভাগেই মাঠে নেমেছেন চাষিরা। এবার ৩৭ হাজারের বেশি চাষি লবণ চাষে নিয়োজিত রয়েছেন। মাঠে উৎপাদন কাজে জড়িত আছেন আরও ৭৫ হাজার শ্রমিক। পরিবহন, লোড-আনলোড এবং মিলপর্যায়ে প্যাকেটিং ও বাজারজাত মিলিয়ে লবণ শিল্পে পাঁচ লাখ মানুষ নিয়োজিত। এর মধ্যে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: জাফর ইকবাল ভূঁইয়া এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, চলতি মৌসুমে ২২ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের টার্গেট নিয়ে চাষ শুরু করেছেন চাষিরা। আর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে ৬৬ হাজার ৪২৪ একর জমিতে লবণ চাষ করা হলেও চলতি বছরে এখনো জরিপ শেষ না হওয়ায় বলা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর নভেম্বর মাসে চাষ শুরু হলেও এবার আগে থেকেই লবণ চাষে নেমেছেন চাষিরা। এরই মধ্যে কুতুবদিয়া উপজেলার মাঠ থেকে মৌসুমের লবণ উঠতে শুরু হয়েছে।

বিজন কুমার বিশ্বাস, কক্সবাজার প্রতিনিধিঃ কক্সবাজারের লবণ চাষীরা বেশ কয়েক বছর ধরে পুরাতন পদ্ধতি ফেলে নতুন পদ্ধতিতে আগাম লবণ চাষ করছে। চলতি মৌসুমের শুরুতেই মাঠে ন্যায্যমূল্য পাওয়ায় খুশি স্থানীয় চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার আগে থেকে লবণ চাষ শুরু করেছে লবণ চাষীরা। এ জন্য অন্যান্য বছরের চেয়ে আগেই নতুন লবণ বাজারে আসতে শুরু করেছে।এ অবস্থা চলমান থাকলে বেশি লাভের স্বপ্ন দেখছেন লবণ চাষী ও ব্যবসায়ীরা। তবে মিল মালিকদের একটি অংশ দেশের বাইরে থেকে লবণ আমদানি করলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে আশংকা করছেন লবণ চাষীরা।

পেকুয়ার লবণ চাষি ও ব্যবসায়ী সিরাজুল মোস্তফা বলেন, বর্তমান আবহাওয়া মৌসুম জুরে থাকলে দেশের চাহিদার চাইতে লবণের বাম্পার ফলন হবে। একটি চক্র বিদেশ থেকে লবণ আমদানির কারণে বেশ কয়েক মৌসুম বিপুল পরিমাণ ফলন হলেও লোকসান গুনতে হয়েছে লবণ চাষীদের। এবার সবকিছু ঠিক থাকলে চাষিদের মুখে হাসি ফুটবে। প্রতিবারের মতো সিন্ডেকেট চক্র শিল্প মন্ত্রাণালয় এবং বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের কাছে চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন কম হবে বলে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিদেশ থেকে লবণ আমদানি করতে মরিয়া হতে না পারে ফলে এদিকে নজর রাখা জরুরি বলে মত প্রকাশ করেন স্থানীয় লবণ চাষীরা।

লবণ চাষিদের দাবি, সরকার যেন সিন্ডিকেট’র চাপের মুখে প্রভাবিত না হয়। চাষীরা আশা করেন বর্তমান সময়ের আবহাওয়া ঠিক থাকলে কোনও ঘাটতি হবে না বরং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

কুতুবদিয়ার লেমশীখালী এলাকার লবণ চাষী নাজিম উদ্দিন বলেন, নতুন পদ্ধতিতে লবণ চাষ শুরু হওয়াতে এখন লবণ উৎপাদন বেশী হচ্ছে। তাই অন্যান্য বছরের চেয়ে চলতি বছর দ্বিগুণ লবণ উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছি আমরা।

কুতুবদিয়ার দক্ষিণ ধুরুং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলাউদ্দিন আল আজাদ বলেন, কুতুবদিয়ার প্রধান কৃষিখাত হচ্ছে লবণ। এই অঞ্চলের শতকরা ৮০ ভাগ মানুষ লবণ চাষী ও মৎস্যজীবী। এখন লবণ চাষের মৌসুম। এই মৌসুমে লবণ চাষ করতে গিয়ে চাষিরা পড়েছেন বেকায়দায়। বর্তমানে পলিথিন থেকে শুরু করে লবণ উৎপাদন কাজে ব্যবহৃত সব উপকরণের দাম বেড়েছে। তাই মাঠপর্যায়ে লবণের মূল্য কম হলে চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

তিনি আরো বলেন, আবহাওয়া ঠিক থাকলে এবার চাহিদার বিপরীতে লবণের বাম্পার উৎপাদন হবে তা চাহিদার তুলনায় বেশি হবে।
দেশের একমাত্র লবণ উৎপাদনকেন্দ্রিক এলাকা কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজোর কিছু অংশ। এই দুই অঞ্চলের প্রায় ৬৬ হাজারের বেশি একর জমিতে লবণ চাষ করেন চাষিরা।

কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রতি বছর নভেম্বরের শুরুতে চাষিরা লবণ উৎপাদনে মাঠে নামেন। এ বছর আগে ভাগেই মাঠে নেমেছেন চাষিরা। এবার ৩৭ হাজারের বেশি চাষি লবণ চাষে নিয়োজিত রয়েছেন। মাঠে উৎপাদন কাজে জড়িত আছেন আরও ৭৫ হাজার শ্রমিক। পরিবহন, লোড-আনলোড এবং মিলপর্যায়ে প্যাকেটিং ও বাজারজাত মিলিয়ে লবণ শিল্পে পাঁচ লাখ মানুষ নিয়োজিত। এর মধ্যে চকরিয়া, পেকুয়া, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, কক্সবাজার সদর ও টেকনাফ উপজেলা এবং চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলা থেকে ২৫ লাখ মেট্রিক লবণ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

কক্সবাজার লবণ শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো: জাফর ইকবাল ভূঁইয়া এর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিনিধিকে বলেন, চলতি মৌসুমে ২২ লাখ ৩৩ হাজার মেট্রিক টন লবণ উৎপাদনের টার্গেট নিয়ে চাষ শুরু করেছেন চাষিরা। আর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ২০২৩ সালে ৬৬ হাজার ৪২৪ একর জমিতে লবণ চাষ করা হলেও চলতি বছরে এখনো জরিপ শেষ না হওয়ায় বলা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর নভেম্বর মাসে চাষ শুরু হলেও এবার আগে থেকেই লবণ চাষে নেমেছেন চাষিরা। এরই মধ্যে কুতুবদিয়া উপজেলার মাঠ থেকে মৌসুমের লবণ উঠতে শুরু হয়েছে।