প্রেস বিজ্ঞপ্তি: জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল মঙ্গলবার (২৯ আগস্ট)বিকাল ৫টায় নগরীর লালদিঘির পাড়স্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক দল চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনা সভা চট্টগ্রাম মহানগর সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর সাংস্কৃতিক দলের সাবেক সভাপতি এডভোকেট আবু তাহের।
প্রধান অতিথি তার বক্তব্য বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল তার কবিতার মাধ্যমে আমাদের মাঝে সাম্য বিদ্রোহের যে প্রেরণা জুগিয়েছেন তা বর্তমানে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গণ আন্দোলনের একটি মাইল ফলক দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। বর্তমান অগণতান্ত্রিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে দুর্বার গণ-আন্দোলন একটি শিক্ষণীয় বিষয়। তাই আমরা এ মহান কবিকে স্মরণ করি। কবির কবিতার আলো থেকে আলোকিত হয়ে বর্তমান অবৈধ অগণতান্ত্রিক মানবাধিকার হরণকারী আইনের শাসন ভূলণ্ঠনের বিরুদ্ধে নজরুলের চেতনা ধারণ করে গণতন্ত্র মুক্তি আন্দোলনকে বেগবান করার প্রত্যাশা করছি।
সাংস্কৃতিক দলের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম বলেন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম সকল শ্রেণী পেশার ধর্ম কর্মের অবিস্মরণীয় কবি ছিলেন। তাই আজকে কবির ৪৭ তম মৃত্যুবার্ষিকীতে লেখনীর তার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলতে চাই-বাংলাদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোটের অধিকার, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা পুন:দ্ধারের জন্য চলমান এক দফা আন্দোলনকে গতিশীল করতে উৎসাহ ও প্রেরণা যোগায়। বর্তমানে আমাদের দেশের স্বাধীনতা হুমকির সম্মুখীন। আজ দেশের গরীব মানুষ, খেটে খাওয়া মানুষ অনাহারে অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছে। এর একমাত্র কারণ সরকারের ছত্রছায়ায় এক শ্রেণির দুর্নীতিবাজদের দুর্নীতির দ্রব্যমূল্য উর্ধ্বগতি হচ্ছে- যা সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। আমরা পরাধীন হয়ে অন্যায়ের কাছে মাথা নত করতে পারি না। কবি তার লেখনীর মাধ্যমে আমাদের শিখিয়ে গেছেন- এই ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
বিশেষ অতিথি কবি ওসমান জাহাঙ্গীর বলেন, কবি নজরুল শুধু কবি নয়, তিনি একজন ইতিহাসবিদও বটে। তাই নজরুলের দর্শনকে উপলব্ধি করে বর্তমান দেশের দুরবস্থার অবসান ঘটানো অনেকটা সহজ হবে। এইজন্য দেশের মানুষের মাঝে কবি নজরুলের সাহিত্য চর্চা করা একান্ত জরুরী।
বক্তারা বলেন, জাতীয় কবির অনেক স্মৃতি চট্টগ্রামে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। এসব রাষ্ট্রীয়ভাবে সংরক্ষণ করার দাবি জানান। তার সাথে সাথে আগামী ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সফল ও সার্থক করার জন্য র্যালিতে অংশগ্রহণ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। বিএনপি’র প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ষোলশহর বিপ্লব উদ্যানে ১ই সেপ্টেম্বর সকাল দশটার সময় পুষ্পমাল্য অর্পণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
বক্তব্য রাখেন, সাংস্কৃতিক দলের যুগ্ন সম্পাদক মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন, সাংস্কৃতিক দলের নেতা কবি সাহিত্যিক মানবাধিকার সংগঠক ওসমান জাহাঙ্গীর, আমিনুল হক লিটন, বিশিষ্ট সাংবাদিক সাংস্কৃতিক সংগঠক কাশেম, রাজনীতিবিদ মোঃ রিপন, আব্দু শুক্কুর, মমতাজ সরদার প্রমুখ।




