নিজস্ব প্রতিবেদক: বর্তমান সরকার নগর ও গ্রামাঞ্চলের জীবনমানের বৈষম্য দূরীকরণে নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে দেশের কোন মানুষ যাতে গৃহহীন না থাকে সেজন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিভিন্ন ওয়ার্ডে গৃহহীনদের গৃহ নির্মাণ করে দেয়ার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি বেসরকারি সেবা সংস্থা ব্র্যাক, ইউএনডিপিও নগরের নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আজ সোমবার (০৩ অক্ঠোবর) সকালে টাইগারপাসস্থ চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আরবান ডেভেলাপমেন্ট প্রোগ্রামের উদ্যোগে ইউএনডিপি ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সার্বিক সহযোগিতায় বিশ্ব বসতি দিবস-২২ পালনোপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আফরোজা কালাম একথাগুলো বলেন।
তিনি বলেন, করোনার জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব ও দ্রুত নগরায়নের ফলে সৃষ্ট আর্থসামাজিক বৈষম্য হ্রাসের জন্য “আর নয় বৈষম্য, পরিকল্পনা হোক সবার জন্য” সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ এ প্রতিপাদ্যের সফল বাস্তবায়নই হবে বিশ^ বসতি দিবসের অঙ্গীকার।
চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলমের সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন-ইউএনডিপির টাউন ম্যানেজার মোঃ সরোয়ার হোসেন খান, বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা মাইনুল ইসলাম চৌধুরী জয় সহ উপকার ভোগীগণ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-মেয়র এর একান্ত সচিব ও প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ আবুল হাশেম, ব্র্যাকের কর্মকর্তা, ইউডিপি সদস্যবৃন্দ।
ভারপ্রাপ্ত মেয়র আরো বলেন, প্রাধামন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সারা বিশ্বে রোল মডেলে পরিণত হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, করোনা অতিমারি মোকাবেলা ও সংঘাতময় বিশ্ব পরিস্থিতিতেও প্রধানমন্ত্রীর সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আজ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় ঊর্ধ্বমুখী। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, বিশাল উপকূলীঞ্চল এবং দেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে থাকা নদ-নদীর কারণে প্রতিনিয়ত ভূমিহীন ও গৃহহীন হওয়া বিশাল জনগোষ্ঠীকে সরকার পুনর্বাসন করছে যা ছিন্নমূল ও অসহায় মানুষের দারিদ্র্য বিমোচনে নতুন দ্বার উন্মোচিত হচ্ছে।
সভাপতি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শহীদুল আলম বলেন, সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী নগরীর প্রতিটি ক্ষেত্রে উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করতে হবে। বাংলাদেশ বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে তথাপি সরকারের যুগোপযোগী পদক্ষেপে নাগরিকদের জীবনমানের উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে। চট্টগ্রামকে নগরীকে বাসযোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে নগরীতে বসবাসরত সকল জনগণের জন্য নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
ইউএনডিপির টাউন ম্যানেজার মোঃ সরোয়ার হোসেন খান বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে টেকসই উন্নয়নের লক্ষমাত্রা অর্জনে জাতীয়, স্থানীয় সরকারগুলো এবং বিভিন্ন স্টেকহোল্ডারদের অংশগ্রহণে শহরের বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নত করণ এবং ক্রমবর্ধমান বৈষম্য দূরীকরণে একযোগে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে ইউএনডিপি তিন কোটি টাকা অর্থ বরাদ্দ দেবে। ব্রাক আরবান ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম ও ইউএনডিপি সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছে।




