নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রামে গত বছরের সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল ২৬। আর চলতি সেপ্টেম্বরের প্রথম ১২ দিনেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১০০ জন। আর গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় ২৩ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়। তারা বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।জেলায় হঠাৎ করে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধির বিষয়ে গতকাল স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ ও লাইন ডিরেক্টর, সিডিসি) বরাবরে চিঠি দিয়েছেন চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ ইলিয়াছ চৌধুরী।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের চলতি বছরের ডেঙ্গুর তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, গত জানুয়ারিতে পাঁচজন, ফেব্রুয়ারিতে ১, মার্চ, এপ্রিল ও মে মাসে শূন্য, জুনে ১৭, জুলাইয়ে ৫০, আগস্টে ৭৬ এবং চলতি মাসের প্রথম ১২ দিনে ১০০ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। আর গতকাল সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৩ জন আক্রান্ত হয়। এর আগে ৭ সেপ্টেম্বর একদিনে ১৫ জন আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক (স্বাস্থ্য) কার্যালয়ের তথ্য মতে, গত ২৪ ঘণ্টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে ওই হাসপাতালে চলতি বছর গতকাল পর্যন্ত মোট ১২৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত মাসে একজন ডেঙ্গু রোগী মারা যায়। চলতি বছরে গতকাল পর্যন্ত চমেক হাসপাতালসহ চট্টগ্রাম নগর ও জেলা মিলে সর্বমোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ৩৭৮ জন। এর মধ্যে চমেক হাসপাতালে ১২৯ জন এবং নগর ও জেলায় অন্য হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয় ২৪৯ জন।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক বলেন, চলতি বছরে গতকাল পর্যন্ত চট্টগ্রাম জেলায় (চমেক হাসপাতাল ছাড়া) ২৪৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সবাই চিকিৎসার পর সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে গেছে। তবে জেলায় এখনো ডেঙ্গুতে কেউ মারা যায়নি। আক্রান্তের সংখ্যা আগে থেকে বেড়ে গেছে।
চমেক সূত্রে জানা গেছে, এদিকে চট্টগ্রাম জেলার উপজেলা গুলোর মধ্যে সাতকানিয়া থানা ও নগরীর কর্ণফুলী থানাতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের মধ্যে এই দুই উপজেলার ডেঙ্গু রোগী বেশি।



