নিজস্ব প্রতিবেদকঃ চট্টগ্রাম মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের কেউ না হলেও গোয়েন্দা বিভাগের নামে বেপরোয়া চাঁদাবাজি করছে বেশ কয়েকজন চাঁদাবাজ।ডবলমুড়িং থানার ১ জন কনষ্টেবলের সহযোগীতায় তারা চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর ও পশ্চিম জোন এলাকায় চাঁদাবাজি করছে। নগর গোয়েন্দা বিভাগের ২/১ জন অসাধু অফিসারেরও এসবে প্রশ্রয় রয়েছে বলে জানা গেছে।
সূত্রে জানা যায়, নগর গোয়েন্দা বিভাগের নামে চাঁদাবাজিতে এসব চাঁদাবাজদের নিয়ন্ত্রণ করছে ডবলমুড়িং থানার ড্রাইভার কনষ্টেবল ইব্রাহীম। আবার কনষ্টেবল ইব্রাহীম জনৈক দারোগা ও ইন্সপেক্টরের সহযোগীতায় এসব করার সাহস পায় বলে জানা গেছে। ইব্রাহীমের ছত্রছায়ায় যারা চাঁদাবাজি করছে তারা সিভিল লোক যথাক্রমে জনৈক বেলাল,অলি,শফি,
সুলতান,মনসুর,ফারুক,বাবলু ও উজ্জ্বল সহ অনেকে।এই বেলাল চাঁদা আদায়কালে নিজেকে ডিবির ক্যাশিয়ার,পুলিশের সোর্স আবার কোথাও কোথাও সাংবাদিক পরিচয় দেয় বলেও জানা গেছে।এসব চাঁদাবাজরা নগরীর আবকর শাহ্, পাহাড়তলী,হালিশহর,ডবলমুরিং,কর্ণফুলী,পতেঙ্গা,বন্দর ও ইপিজেড থানা এলাকায় চষে বেড়াচ্ছে এবং রীতিমতো সিন্ডিকেট করে তারা চাঁদাবাজি করছে।
এলাকার অস্থায়ী/ভাসমান দোকান,মাদকের স্পট,বেশ কয়েকটি জুয়া খেলার আসরের মধ্যে-পান্নাপাড়া এলাকায় ইসলামের জুয়ার বোট,দেওয়ানহাট ব্রীজের নীচে জাহিদের জুয়ার বোট,রঙ্গিপাড়ায় সাবেরের জুয়ার বোট,ছোটপোল সিএনজি পেট্রোল পাম্পের দক্ষিণে আলমগীরের জুয়ার বোট,সবুজবাগে আলতাফের জুয়ার বোট,বিশ্ব কলোনীতে রিপনের জুয়ার বোট এবং মাঝিরঘাটসহ প্রায় ১৫/২০ টি জুয়ার বোট থেকে চাঁদা আদায় করছে। এছাড়া ৪০/৫০ টি আবাসিক পতিতা ব্যবসায়ীর বাসা,৭/৮টি অবৈধ পতিতা ব্যবসায়ীর আবাসিক হোটেল,৪/৫ টি অবৈধ বার,দেশীয় লিকার শপের আঁড়ালে জনৈক জাহেদের অবৈধ বিদেশী মদ বিক্রয়ের দোকান,৪/৫টি অবৈধ মশার কয়েল ফ্যাক্টরি,কদমতলী এলাকায় স্ক্র্যাবের দোকানের আঁড়ালে চোরাই লোহা ব্যবসার দোকান,কদমতলী এলাকায় তামা দিদারের অবৈধ তামা বিক্রির দোকান,গার্মেন্টস চোরা কাপড় কারবারী,গার্মেন্টস চোরা কাপড় পরিবহনের
ট্রান্সপোর্ট,অবৈধ পলিথিন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট,দেওয়ান হাট সিএসডি গোডাউনের চোর/পাচারকারী সিন্ডিকেট,হালিশহর আনন্দ বাজার চৌচালায় এলাকার ট্রাক থেকে সিএসডি গোডাউনের পরিবহনকৃত মালামাল চুরির সিন্ডিকেট,রেলের তেল পাচারকারী সিন্ডিকেট,কদমতলী এলাকায় ভেজাল তেল মোবিলের দোকান,কর্ণফুলী নদীতে জাহাজের তেল চোরাকারবারি ও রশি কাটার চোর,বন্দর,ইপিজেড ও পতেঙ্গা থানা এলাকায় অর্ধশত চোরাই তেলের ভাসমান দোকান।সরকারি শায়িত্বশাসিত প্রতিষ্ঠান পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা থেকে কেনা বিভিন্ন কোম্পানির তেলের ভাউচারের চালকরা মূলত এসব তেল গোপনে বিক্রি করে দেয়।চালকরা ভিআইপি সড়কে গাড়ি থামিয়ে বড়বড় পাইপের মাধ্যমে অল্প সময়ে ভাউচার থেকে নামিয়ে ফেলে তেল।এসব তেলের মধ্যে রয়েছে কেরোসিন, অকটেন, পেট্রোল ও ডিজেল।
ইপিজেড থানার সালাউদ্দিন গেইট,সিমেন্টক্রসিং,নেভি হাসপাতাল ভিআইপি সড়কে রয়েছে প্রায় ১৫টি তেলের দোকান, বন্দর থানার মাইলের মাথা, বন্দরের বাইপাস সড়কের পাশে রয়েছে এরকম প্রায় আরো ৩৫টি অবৈধ তেল বেচাকেনার দোকানসহ বেশ কিছু অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্টান। আর এসব অবৈধ ব্যবসা প্রতিষ্টান বা অবৈধ ব্যবসায়ীরাই হচ্ছে এসব চাঁদাবাজদের চাঁদা আদায়ের ক্ষেত্র।পুলিশের স্ব-ঘোষিত ক্যাশিয়ার পরিচয়ে তারা অবৈধ ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি সাধারণ ব্যবসায়ীদেরও চাঁদার জন্যে হয়রানি করছে।চাঁদা প্রদানে মাসিক চুক্তির আওতায় না আসলে সাধারণ ব্যবসায়ীদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেবে বলেও হুমকি দেয় তারা।এসব চাঁদাবাজদের কারণেই নগরীতে অপরাধীরা নির্দ্বিধায় তাদের অপরাধমূলক কর্মকান্ড ও অবৈধ ব্যবসা-বানিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে।
আবার অন্যদিকে,কিছুদিন পূর্বে অভিযোগের ভিত্তিতে সি এম,পি’র নগর গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ঢাকায় বদলী হওয়া সাবেক কথিত ক্যাশিয়ার জনৈক এ.এস.আই নিজেকে ধরাছোঁয়ার বাইরে রেখে তার নেতৃত্বে দীর্ঘদিন ধরে আরেকটি গ্রুপ উত্তর ও দক্ষিণ জোন তথা কতোয়ালী, চাঁদগাও,বাকলিয়া,খুলশী,বায়েজিদ ও সদরঘাট এলাকায় নগর গোয়েন্দা বিভাগের নামে নিরবে চাঁদাবাজি করে যাচ্ছে। আর এভাবে চলতে থাকলে নগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ার সমুহ আশংকা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞ মহল। (আগামী পর্বে উত্তর ও দক্ষিণ জোনে চাঁদাবাজি নিয়ে সবিস্তারে প্রকাশ করা হবে।)




