প্রেস বিজ্ঞপ্তি: দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র আয়োজনে “বাংলাদেশে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আজ শনিবার ৩০ জুলাই সকালে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। সিসিসিআই রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট ট্রেনিং সাব-কমিটির উদ্যোগে বাংলাদেশে ব্লু ইকোনমিতে বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনাসমূহ চিহ্নিতকরণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।

স্বাগতঃ বক্তব্য রাখেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম, প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক নৌ-প্রধান ও বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ এসোসিয়েশন (বিএমএফএ)’র ১ম সহ-সভাপতি ভাইস এডমিরাল (অব.) জহিরুল উদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী (খোকা), চিটাগাং চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মোঃ রুহুল আমিন, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিঃ’র চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ, রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিস্টিক লিঃ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ, প্রান্তিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ গোলাম সারওয়ার, কেএসআরএম গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেম্বার পরিচালক মোঃ শাহরিয়ার জাহান।

আরো বক্তব্য রাখেন সিসিসিআই রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট ট্রেনিং সাব-কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন ও কনভেনর মোঃ সালাউদ্দিন ইউসুফ, মিডিয়া পার্টনার দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’র চট্টগ্রাম ব্যুরো চীফ শামসুদ্দিন ইলিয়াছ ও দৈনিক বণিক বার্তা’র চট্টগ্রাম ব্যুরো চীফ রাশেদ এইচ চৌধুরী।

অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, পরিচালকবৃন্দ মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), অঞ্জন শেখর দাশ, মোঃ ওমর ফারুক, মোঃ ইফতেখার ফয়সাল, মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, তানভীর মোস্তফা চৌধুরী; সাব-কমিটির জয়েন্ট কনভেনর ইঞ্জিনিয়ার এস. এম. শহীদুল আলম, সদস্যবৃন্দ আকিব কামাল, আরিফ ইফতেখার মাহমুদ ও মোঃ আবু হোরায়রাসহ অনেকেই গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-প্রায় ৭১০ কি.মি. দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলসহ ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের বৈচিত্র্য ও সম্পদে পূর্ণ বিশাল জলসীমা বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমিকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। এ সকল সম্ভাবনার অধিকাংশই এখনো উন্মোচিত হয়নি এবং এ বিষয়টি উপলব্ধি করে আমাদের সরকার ভিশন ২০৪১ এ ‘চবৎংঢ়বপঃরাব চষধহ ড়ভ ইধহমষধফবংয ২০২১-২০৪১ (চচ ২০৪১) ড়হ ইষঁব ঊপড়হড়সু’ নামে একটি নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার অন্তর্ভূক্ত করেছে। এই লক্ষ্যে যথাযথ প্রণোদনা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নীতিমালা ও কৌশলগত কাঠামো জরুরী।

চেম্বার সভাপতি ব্লু ইকোনমিতে মেরিন ট্রেড (পোর্ট অপারেশন এবং লজিস্টিকস/ ফ্ল্যাগশিপিং), মেরিন হেভি ইন্ডাষ্ট্রিজ (শিপ বিল্ডিং এন্ড রিস্লাইকিং), মেরিন এনার্জি এক্সপ্লোরেশন এন্ড রিনিউয়েবল এনার্জি, মেরিন ফিশিং (ডীপ সী ফিশিং এন্ড মেরিন এ্যাকুয়াকালচার), সমুদ্রগামী ও উপকূলীয় মেরিন ট্যুরিজম ও মেরিন এগ্রিকালচার (লবণ) ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন-২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রস্তুত করে। এই পরিকল্পনায় ব্লু ইকোনমির কৌশলগত ও সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ অনুযায়ী শিপ বিল্ডিং এন্ড শিপ রিসাইকিøং; সামুদ্রিক মাছের মজুদ জরিপ, উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকার, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মৎস্য শিকার, মেরিন এ্যাকুয়াকালচার ও ম্যারি কালচার এবং দীর্ঘমেয়াদে মাছের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখা; কোস্টাল ট্যুরিজম; নবায়নযোগ্য জ্বালানী; সমুদ্র পৃষ্ঠ বা উপকূলীয় এলাকার ভূমি উদ্ধার; ব্লু ইকোনমির বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা; বাংলাদেশের সমুদ্র এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো; টেকসইভাবে সমুদ্রে জীববৈচিত্র্য ও ভারসাম্য রক্ষার্থে শীঘ্রই গধৎরহব ঝঢ়ধঃরধষ চষধহরহম (গঝচ) প্রণয়ন করা এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমিতে সুশাসন নিশ্চিত করাসহ খাতসমূহকে প্রাধান্য/অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে উল্লেখ করেন। ব্লু ইকোনমিতে বেসরকারি খাতের মূল সম্ভাবনাসমূহ চিহ্নিত করা এবং এ সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর জন্য কি কি ধরণের সহায়ক নীতিমালা ও তথ্য দরকার তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি এখান থেকে উঠে আসা প্রস্তাবনাসমূহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে প্রেরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম সভায় ব্লু ইকোনমির বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ পেশ করেন-১) চিটাগাং চেম্বার ব্লু ইকোনমির উপর একটি আরএন্ডডি সেল গঠন করতে পারে যা ৮ম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনের বাস্তবায়ানযোগ্য প্রকল্পসমূহ চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এই সেল পোর্ট এন্ড শিপিং এর বিভিন্ন সাব গ্রুপের সাথে পোর্ট এন্ড মেরিটাইম সাপ্লাই চেইন এ বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করবে। ২) ব্লু ইকোনমি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বতর্মান শিপিং পলিসিকে আরো যুগোপযোগী করে তুলতে সরকারকে প্রস্তাবনা প্রদান। ৩) মেরিটাইম ট্রেডকে প্রমোট করতে অংশীজনদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে প্রাইভেট পোর্ট পলিসি তৈরিতে চেম্বার সরকারকে প্রস্তাবনা দিতে পারে। ৪) রাজধানীর কাছাকাছি পিপিপি’র আওতায় আইসিডি নির্মাণে চেম্বার প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে পারে। ৫) বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর থেকে বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী বন্দরের সাথে সড়ক, নৌ ও রেলপথ সংযোগ স্থাপন করা। ৬) চট্টগ্রাম বিভাগে চকরিয়ার কাছাকাছি আইসিডি নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা ইত্যাদি।

সাবেক নৌ-প্রধান ও বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ এসোসিয়েশন (বিএমএফএ)’র ১ম সহ-সভাপতি ভাইস এডমিরাল (অব.) জহিরুল উদ্দিন আহমেদ বলেন-সিঙ্গাপুর, আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলো সমুদ্রকে ব্যবহার করে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বে এখনো গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য বিনিয়োগে উৎসাহী হয়ে উঠছি না। কারণ পর্যাপ্ত তথ্য ও গবেষণা না থাকায় এ খাতে কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে তা বিক্রয় করার ক্ষেত্রেও ভ্যালুয়েশন করা যাচ্ছে না। তাই এ সেক্টরে কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করলে তা রিটার্ন আসবে সেই বিষয়ে নেই কোন উল্লেখযোগ্য গবেষণা। এছাড়া টুনা মাছ বিশ্বব্যাপী চাহিদা থাকলেও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত কোন তথ্য নেই আমাদের কাছে। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই মাছ আহরণে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী (খোকা) উপকূলীয় অঞ্চল নির্ভর মাল্টিডাইমেনশনাল ট্যুরিজম উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের জন্য অনবোট ফিশ প্রিজার্ভেশন ও অর্গানিক ড্রাইফিশ প্রসেসিং এর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, কোস্টাল লাইনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করা, ৬০-৭০ নটিকেল মাইলের অধিক গভীরে গিয়ে মাছ শিকারের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জেলেদের ভর্তুকি প্রদান করা, খাতওয়্যারী নীতিমালা ও ৩-৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ব্লু ডাটা ব্যাংক ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্ট চালু করার সুপারিশ করেন।

চিটাগাং চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মোঃ রুহুল আমিন বলেন-বাংলাদেশ থেকে গত ১০ বছরে ফ্রেইট ও অন্যান্য চার্জ বাবদ প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে গেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তহবিল প্রয়োজন। তাই ব্লু ইকোনমিতে বিনিয়োগের অর্থ সংস্থানের জন্যও নীতিমালা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথ রয়েছে। এই নৌপথকে নেভিগেশনের আওতায় আনা গেলে সড়ক পরিবহনের উপর যেমন চাপ কমবে তেমন সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। একটি মাত্র সেল দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এজন্য একটি মন্ত্রণালয় গঠন করে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে কাজগুলো করতে হবে। বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ব্লু ইকোনমির ফসল। কিন্তু বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের সব কাজ দেওয়া হচ্ছে বিদেশীদের। যদি এসব কাজ দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে করা যেত তাহলে সব টাকা দেশেই থাকত। এসব বিষয়গুলো সরাসরি ব্লু ইকোনমির সাথে জড়িত। আমাদের ব্লু ইকোনমিকে কাজে লাগাতে হলে ৫-১০ বছরের প্রায়রিটি প্রজেক্ট গ্রহণ করতে হবে।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিঃ’র চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ বলেন-বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় সমপরিমাণ জলসীমা থাকলেও এর জন্য আলাদা কোন কর্তৃপক্ষ নেই। সমুদ্রপথে ভ্রমণ বা পর্যটনকে সম্প্রসারিত করার মত পর্যাপ্ত অবকাঠামো আমরা নিশ্চিত করতে পারি নাই। যদি কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় জেটি নির্মাণ করা যায় তবে সমুদ্রপথে ভ্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মেরিন ট্যুরিজমকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। তিনি সমুদ্রপথে হজ্ব যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনার কথাও জানান।

রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিস্টিক লিঃ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ বর্তমানে ১৯টি আইসিডি রয়েছে যা কমপক্ষে ২৫টিতে উন্নীত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশপথ সম্প্রসারিত যানজট করা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মেরিন এ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার এবং ইমার্জিন্সী উদ্ধারকারী দল সংযোজন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

প্রান্তিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ গোলাম সারওয়ার বলেন-জাহাজ নির্মাণ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে বর্তমানে আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি জাহাজের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট এর সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে। তিনি সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাষ্ট্রি নেই উল্লেখ করে এ বিষয়ে উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

চেম্বার পরিচালক মোঃ শাহরিয়ার জাহান বলেন-দেশের ফরেন কারেন্সী রিজার্ভ মেইনটেইন করার জন্য পোশাকশিল্প ও জনশক্তি রপ্তানির উপর নির্ভর না করে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে সক্ষম সরকার এমন খাতগুলো খুঁজে বের করতে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র পণ্য আমদানি রপ্তানির জাহাজ ভাড়া বাবদ বাৎসরিক প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার এর মতো খরচ হয়। যার মাত্র ৮-১০% দেশীয় জাহাজ আয় করে। সেই হিসেবে আমাদের রিজার্ভ থেকে প্রতি বছর শুধুমাত্র জাহাজ ভাড়াতেই প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। দেশে বর্তমানে ৮০টির মত জাহাজ রয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে এইসব জাহাজ থেকে গত বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। যদি নিজেদের এক হাজার জাহাজ তৈরি করতে পারি তাহলে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হতে পারে। সরকার সম্প্রতি ফ্রেইট আর্নিং এর উপর যে ৩% কর ছিল তা অব্যাহতি দিয়েছে, যা এই শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং এ খাতে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব তা আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

চেম্বার পরিচালক ও সিসিসিআই রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট ট্রেনিং সাব-কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন জানান সাব-কমিটির বিভিন্ন সভায় ব্যবসায়ী সদস্যদের মূল্যবান মতামতের উপর ভিত্তি করে এই আয়োজন। আমরা পোর্ট অপারেশন, শিপিং ও লজিস্টিকস, শিপ ব্রেকিং ও রিসাইক্লিং, ডীপ সী ফিশিং, লবণ উৎপাদন, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পর্যটনের মতো কয়েকটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাতের উপর আমরা বিশেষ আলোকপাত করতে যাচ্ছি। এই কারণে এসব খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীবৃন্দকে আমরা এই প্যানেল আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছি। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্লু ইকোনমিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো ব্লু ইকোনমিতে এ সকল খাতের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করা এবং সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য কি ধরণের নীতিমালাগত তথ্য ও আর্থিক প্রণোদনা প্রয়োজন সেই বিষয়ে আলোচনা করা।

সিসিসিআই রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট ট্রেনিং সাব-কমিটির কনভেনর মোঃ সালাউদ্দিন ইউসুফ ব্লু ইকোনমি ও এ সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরের সাথে গ্যাপ দূরীভূত করে মিনিস্ট্রিতে এড্রেস করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি: দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র আয়োজনে “বাংলাদেশে ব্লু ইকোনমির সম্ভাবনা” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক আজ শনিবার ৩০ জুলাই সকালে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হয়। সিসিসিআই রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট ট্রেনিং সাব-কমিটির উদ্যোগে বাংলাদেশে ব্লু ইকোনমিতে বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনাসমূহ চিহ্নিতকরণ ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ আলোচনার আয়োজন করা হয়।

স্বাগতঃ বক্তব্য রাখেন চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম, প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক নৌ-প্রধান ও বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ এসোসিয়েশন (বিএমএফএ)’র ১ম সহ-সভাপতি ভাইস এডমিরাল (অব.) জহিরুল উদ্দিন আহমেদ, কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী (খোকা), চিটাগাং চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মোঃ রুহুল আমিন, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিঃ’র চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ, রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিস্টিক লিঃ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ, প্রান্তিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ গোলাম সারওয়ার, কেএসআরএম গ্রুপের উপ ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেম্বার পরিচালক মোঃ শাহরিয়ার জাহান।

আরো বক্তব্য রাখেন সিসিসিআই রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট ট্রেনিং সাব-কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন ও কনভেনর মোঃ সালাউদ্দিন ইউসুফ, মিডিয়া পার্টনার দি বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড’র চট্টগ্রাম ব্যুরো চীফ শামসুদ্দিন ইলিয়াছ ও দৈনিক বণিক বার্তা’র চট্টগ্রাম ব্যুরো চীফ রাশেদ এইচ চৌধুরী।

অন্যান্যদের মধ্যে চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ তানভীর, পরিচালকবৃন্দ মোঃ অহীদ সিরাজ চৌধুরী (স্বপন), অঞ্জন শেখর দাশ, মোঃ ওমর ফারুক, মোঃ ইফতেখার ফয়সাল, মোহাম্মদ আদনানুল ইসলাম, তানভীর মোস্তফা চৌধুরী; সাব-কমিটির জয়েন্ট কনভেনর ইঞ্জিনিয়ার এস. এম. শহীদুল আলম, সদস্যবৃন্দ আকিব কামাল, আরিফ ইফতেখার মাহমুদ ও মোঃ আবু হোরায়রাসহ অনেকেই গোলটেবিল বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন।

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম বলেন-প্রায় ৭১০ কি.মি. দীর্ঘ উপকূলীয় অঞ্চলসহ ১ লক্ষ ১৮ হাজার ৮১৩ বর্গ কিলোমিটারের বৈচিত্র্য ও সম্পদে পূর্ণ বিশাল জলসীমা বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমিকে অত্যন্ত সম্ভাবনাময় করে তুলেছে। এ সকল সম্ভাবনার অধিকাংশই এখনো উন্মোচিত হয়নি এবং এ বিষয়টি উপলব্ধি করে আমাদের সরকার ভিশন ২০৪১ এ ‘চবৎংঢ়বপঃরাব চষধহ ড়ভ ইধহমষধফবংয ২০২১-২০৪১ (চচ ২০৪১) ড়হ ইষঁব ঊপড়হড়সু’ নামে একটি নির্দিষ্ট চ্যাপ্টার অন্তর্ভূক্ত করেছে। এই লক্ষ্যে যথাযথ প্রণোদনা ও আইন প্রণয়নের মাধ্যমে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে নীতিমালা ও কৌশলগত কাঠামো জরুরী।

চেম্বার সভাপতি ব্লু ইকোনমিতে মেরিন ট্রেড (পোর্ট অপারেশন এবং লজিস্টিকস/ ফ্ল্যাগশিপিং), মেরিন হেভি ইন্ডাষ্ট্রিজ (শিপ বিল্ডিং এন্ড রিস্লাইকিং), মেরিন এনার্জি এক্সপ্লোরেশন এন্ড রিনিউয়েবল এনার্জি, মেরিন ফিশিং (ডীপ সী ফিশিং এন্ড মেরিন এ্যাকুয়াকালচার), সমুদ্রগামী ও উপকূলীয় মেরিন ট্যুরিজম ও মেরিন এগ্রিকালচার (লবণ) ইত্যাদি খাতে বিনিয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন-২০১৮ সালে বাংলাদেশ সরকার ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ প্রস্তুত করে। এই পরিকল্পনায় ব্লু ইকোনমির কৌশলগত ও সমুদ্র সম্পদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন পদ্ধতি সম্পর্কে দিক নির্দেশনা দেয়া হয়েছে এবং ডেল্টা প্ল্যান-২১০০ অনুযায়ী শিপ বিল্ডিং এন্ড শিপ রিসাইকিøং; সামুদ্রিক মাছের মজুদ জরিপ, উপকূলীয় ও গভীর সমুদ্রে মৎস্য শিকার, আন্তর্জাতিক জলসীমায় মৎস্য শিকার, মেরিন এ্যাকুয়াকালচার ও ম্যারি কালচার এবং দীর্ঘমেয়াদে মাছের প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখা; কোস্টাল ট্যুরিজম; নবায়নযোগ্য জ্বালানী; সমুদ্র পৃষ্ঠ বা উপকূলীয় এলাকার ভূমি উদ্ধার; ব্লু ইকোনমির বিভিন্ন খাতে উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত গবেষণা এবং দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা; বাংলাদেশের সমুদ্র এবং উপকূলীয় অঞ্চলের বিনিয়োগ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো; টেকসইভাবে সমুদ্রে জীববৈচিত্র্য ও ভারসাম্য রক্ষার্থে শীঘ্রই গধৎরহব ঝঢ়ধঃরধষ চষধহরহম (গঝচ) প্রণয়ন করা এবং এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ব্লু ইকোনমিতে সুশাসন নিশ্চিত করাসহ খাতসমূহকে প্রাধান্য/অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে উল্লেখ করেন। ব্লু ইকোনমিতে বেসরকারি খাতের মূল সম্ভাবনাসমূহ চিহ্নিত করা এবং এ সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানোর জন্য কি কি ধরণের সহায়ক নীতিমালা ও তথ্য দরকার তা চিহ্নিত করার পাশাপাশি এখান থেকে উঠে আসা প্রস্তাবনাসমূহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে প্রেরণ করা হবে বলে তিনি জানান।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রশাসন ও পরিকল্পনা) জাফর আলম সভায় ব্লু ইকোনমির বিভিন্ন দিক উল্লেখ করে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং নিম্নোক্ত সুপারিশসমূহ পেশ করেন-১) চিটাগাং চেম্বার ব্লু ইকোনমির উপর একটি আরএন্ডডি সেল গঠন করতে পারে যা ৮ম পঞ্চ বার্ষিকী পরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনের বাস্তবায়ানযোগ্য প্রকল্পসমূহ চিহ্নিত করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি এই সেল পোর্ট এন্ড শিপিং এর বিভিন্ন সাব গ্রুপের সাথে পোর্ট এন্ড মেরিটাইম সাপ্লাই চেইন এ বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করবে। ২) ব্লু ইকোনমি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বতর্মান শিপিং পলিসিকে আরো যুগোপযোগী করে তুলতে সরকারকে প্রস্তাবনা প্রদান। ৩) মেরিটাইম ট্রেডকে প্রমোট করতে অংশীজনদের সম্পৃক্ততার মাধ্যমে প্রাইভেট পোর্ট পলিসি তৈরিতে চেম্বার সরকারকে প্রস্তাবনা দিতে পারে। ৪) রাজধানীর কাছাকাছি পিপিপি’র আওতায় আইসিডি নির্মাণে চেম্বার প্রেসার গ্রুপ হিসেবে কাজ করতে পারে। ৫) বঙ্গবন্ধু শিল্প নগর থেকে বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ী বন্দরের সাথে সড়ক, নৌ ও রেলপথ সংযোগ স্থাপন করা। ৬) চট্টগ্রাম বিভাগে চকরিয়ার কাছাকাছি আইসিডি নির্মাণের সম্ভাব্যতা যাচাই করা ইত্যাদি।

সাবেক নৌ-প্রধান ও বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ এসোসিয়েশন (বিএমএফএ)’র ১ম সহ-সভাপতি ভাইস এডমিরাল (অব.) জহিরুল উদ্দিন আহমেদ বলেন-সিঙ্গাপুর, আমেরিকাসহ উন্নত দেশগুলো সমুদ্রকে ব্যবহার করে এগিয়ে যাচ্ছে। আমরা বিপুল সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বে এখনো গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য বিনিয়োগে উৎসাহী হয়ে উঠছি না। কারণ পর্যাপ্ত তথ্য ও গবেষণা না থাকায় এ খাতে কেউ বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না। গভীর সমুদ্র থেকে মাছ ধরে তা বিক্রয় করার ক্ষেত্রেও ভ্যালুয়েশন করা যাচ্ছে না। তাই এ সেক্টরে কোন কোন খাতে বিনিয়োগ করলে তা রিটার্ন আসবে সেই বিষয়ে নেই কোন উল্লেখযোগ্য গবেষণা। এছাড়া টুনা মাছ বিশ্বব্যাপী চাহিদা থাকলেও এ বিষয়ে পর্যাপ্ত কোন তথ্য নেই আমাদের কাছে। ফলে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এই মাছ আহরণে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হচ্ছে না বিনিয়োগকারীরা।

কক্সবাজার চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র সভাপতি আবু মোর্শেদ চৌধুরী (খোকা) উপকূলীয় অঞ্চল নির্ভর মাল্টিডাইমেনশনাল ট্যুরিজম উন্নয়ন, ব্যবসায়ীদের জন্য অনবোট ফিশ প্রিজার্ভেশন ও অর্গানিক ড্রাইফিশ প্রসেসিং এর প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা, কোস্টাল লাইনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে লবণ উৎপাদন, নিষেধাজ্ঞার সময়ে জেলেদের জন্য বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করা, ৬০-৭০ নটিকেল মাইলের অধিক গভীরে গিয়ে মাছ শিকারের জন্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জেলেদের ভর্তুকি প্রদান করা, খাতওয়্যারী নীতিমালা ও ৩-৫ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ব্লু ডাটা ব্যাংক ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস পয়েন্ট চালু করার সুপারিশ করেন।

চিটাগাং চেম্বার সিনিয়র সহ-সভাপতি তরফদার মোঃ রুহুল আমিন বলেন-বাংলাদেশ থেকে গত ১০ বছরে ফ্রেইট ও অন্যান্য চার্জ বাবদ প্রায় ৯৫ বিলিয়ন ডলার দেশের বাইরে চলে গেছে। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নৌপথগুলোকে কাজে লাগাতে ব্যবসায়ীদের জন্য জরুরী ভিত্তিতে সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ তহবিল প্রয়োজন। তাই ব্লু ইকোনমিতে বিনিয়োগের অর্থ সংস্থানের জন্যও নীতিমালা প্রয়োজন। বাংলাদেশে ২৪ হাজার কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ নৌপথ রয়েছে। এই নৌপথকে নেভিগেশনের আওতায় আনা গেলে সড়ক পরিবহনের উপর যেমন চাপ কমবে তেমন সময় ও অর্থ সাশ্রয় হবে। একটি মাত্র সেল দিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না। এজন্য একটি মন্ত্রণালয় গঠন করে তাদের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার দিয়ে কাজগুলো করতে হবে। বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ব্লু ইকোনমির ফসল। কিন্তু বে-টার্মিনাল ও মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দরের সব কাজ দেওয়া হচ্ছে বিদেশীদের। যদি এসব কাজ দেশীয় বিনিয়োগকারীদের মাধ্যমে করা যেত তাহলে সব টাকা দেশেই থাকত। এসব বিষয়গুলো সরাসরি ব্লু ইকোনমির সাথে জড়িত। আমাদের ব্লু ইকোনমিকে কাজে লাগাতে হলে ৫-১০ বছরের প্রায়রিটি প্রজেক্ট গ্রহণ করতে হবে।

কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স লিঃ’র চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার আবদুর রশিদ বলেন-বাংলাদেশের আয়তনের প্রায় সমপরিমাণ জলসীমা থাকলেও এর জন্য আলাদা কোন কর্তৃপক্ষ নেই। সমুদ্রপথে ভ্রমণ বা পর্যটনকে সম্প্রসারিত করার মত পর্যাপ্ত অবকাঠামো আমরা নিশ্চিত করতে পারি নাই। যদি কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় জেটি নির্মাণ করা যায় তবে সমুদ্রপথে ভ্রমণ বৃদ্ধির পাশাপাশি মেরিন ট্যুরিজমকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব। তিনি সমুদ্রপথে হজ্ব যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনার কথাও জানান।

রিলায়েন্স শিপিং এন্ড লজিস্টিক লিঃ’র চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রাশেদ বর্তমানে ১৯টি আইসিডি রয়েছে যা কমপক্ষে ২৫টিতে উন্নীত করা প্রয়োজন উল্লেখ করে চট্টগ্রাম বন্দরের প্রবেশপথ সম্প্রসারিত যানজট করা ও যানজট নিয়ন্ত্রণের উপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি মেরিন এ্যাম্বুলেন্স, হেলিকপ্টার এবং ইমার্জিন্সী উদ্ধারকারী দল সংযোজন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

প্রান্তিক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মোঃ গোলাম সারওয়ার বলেন-জাহাজ নির্মাণ ও সংস্কারের ক্ষেত্রে বর্তমানে আমাদের যথেষ্ট সক্ষমতা রয়েছে। পাশাপাশি জাহাজের ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট এর সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টাও চলছে। তিনি সমুদ্রগামী জাহাজ নির্মাণের ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ ইন্ডাষ্ট্রি নেই উল্লেখ করে এ বিষয়ে উন্নয়নের উপর গুরুত্বারোপ করেন।

চেম্বার পরিচালক মোঃ শাহরিয়ার জাহান বলেন-দেশের ফরেন কারেন্সী রিজার্ভ মেইনটেইন করার জন্য পোশাকশিল্প ও জনশক্তি রপ্তানির উপর নির্ভর না করে বৈদেশিক মুদ্রা আনতে সক্ষম সরকার এমন খাতগুলো খুঁজে বের করতে সরকারের উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারে। বাংলাদেশ থেকে শুধুমাত্র পণ্য আমদানি রপ্তানির জাহাজ ভাড়া বাবদ বাৎসরিক প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার এর মতো খরচ হয়। যার মাত্র ৮-১০% দেশীয় জাহাজ আয় করে। সেই হিসেবে আমাদের রিজার্ভ থেকে প্রতি বছর শুধুমাত্র জাহাজ ভাড়াতেই প্রায় ৯ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়। দেশে বর্তমানে ৮০টির মত জাহাজ রয়েছে এবং সম্মিলিতভাবে এইসব জাহাজ থেকে গত বছর প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। যদি নিজেদের এক হাজার জাহাজ তৈরি করতে পারি তাহলে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব হতে পারে। সরকার সম্প্রতি ফ্রেইট আর্নিং এর উপর যে ৩% কর ছিল তা অব্যাহতি দিয়েছে, যা এই শিল্পের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক এবং এ খাতে ৫০ হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব তা আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন।

চেম্বার পরিচালক ও সিসিসিআই রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট ট্রেনিং সাব-কমিটির ডাইরেক্টর ইনচার্জ ইঞ্জিনিয়ার ইফতেখার হোসেন জানান সাব-কমিটির বিভিন্ন সভায় ব্যবসায়ী সদস্যদের মূল্যবান মতামতের উপর ভিত্তি করে এই আয়োজন। আমরা পোর্ট অপারেশন, শিপিং ও লজিস্টিকস, শিপ ব্রেকিং ও রিসাইক্লিং, ডীপ সী ফিশিং, লবণ উৎপাদন, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় পর্যটনের মতো কয়েকটি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার খাতের উপর আমরা বিশেষ আলোকপাত করতে যাচ্ছি। এই কারণে এসব খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীবৃন্দকে আমরা এই প্যানেল আলোচনায় আমন্ত্রণ জানিয়েছি। বাংলাদেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে ব্লু ইকোনমিতে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতের যথেষ্ট চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এ আয়োজনের উদ্দেশ্য হলো ব্লু ইকোনমিতে এ সকল খাতের সম্ভাবনাগুলো চিহ্নিত করা এবং সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগানোর জন্য কি ধরণের নীতিমালাগত তথ্য ও আর্থিক প্রণোদনা প্রয়োজন সেই বিষয়ে আলোচনা করা।

সিসিসিআই রিসার্চ ডেভেলাপমেন্ট ট্রেনিং সাব-কমিটির কনভেনর মোঃ সালাউদ্দিন ইউসুফ ব্লু ইকোনমি ও এ সংশ্লিষ্ট খাতে বিনিয়োগ সম্পর্কে ব্যবসায়ীদের মাঝে সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি প্রাইভেট সেক্টরের সাথে গ্যাপ দূরীভূত করে মিনিস্ট্রিতে এড্রেস করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।