নিজস্ব প্রতিবেদক: বছরে ৪ লাখ ৪৫ হাজার একক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর টার্গেট নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) চালু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২১ জুলাই দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নির্মিত নতুন টার্মিনালটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এদিন পাথরবোঝাই একটি জাহাজ ভেড়ানোর পর পণ্য খালাসের মাধ্যমে এ টার্মিনালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, বন্দরের ড্রাই ডক থেকে বোট ক্লাবের মধ্যবর্তী ৩২ একর জায়গায় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পিসিটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের ১৩ জুন প্রকল্পটির অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারিত ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করে আরডিপিপি পাঠানো হয়। টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হলে একসঙ্গে তিনটি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। প্রকল্পে তিনটি কন্টেইনার ও একটি তেল খালাসের জেটি থাকবে। টার্মিনালটি সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় বন্দরের বর্তমান জেটির চেয়ে কম সময়ে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। সাড়ে নয় মিটার ড্রাফটের এবং ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে জাহাজ ভেড়ানো যাবে এই টার্মিনালে। পিসিটি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এটি চালু হওয়ার পর বছরে ৪ লাখ ৪৫ হাজার একক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পিসিটি প্রকল্পটির জন্য আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের উদ্দেশ্যে ‘ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব পিসিটি অন পিপিপি মডেল’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে যার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। টার্মিনাল অপারেশন পরিচালনা ও বিনিয়োগ প্রস্তাবে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, ভারতের আদানি পোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড ও সিঙ্গাপুরের পিএসএ।
জানা গেছে, এ টার্মিনালে বন্দরের মূল জেটির চেয়ে পিসিটিতে কম সময়ে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালের সংখ্যা হবে মোট চারটি। আর বন্দরের মূল জেটির সংখ্যা দাঁড়াবে ২১টি।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ প্রায় ১২ ভাগ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সেই ভাবে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে না। তাই বন্দরে আরও নতুন টার্মিনাল নির্মাণের প্রয়োজন। কিন্তু গত প্রায় ১২ বছরে নতুন কোনো টার্মিনাল নির্মিত হয়নি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল। দীর্ঘদিন নতুন টার্মিনাল ও জেটি নির্মাণ না হওয়ায় পণ্যের প্রবৃদ্ধি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে এই বন্দর। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প বন্দর কর্তৃপক্ষ হাতে নিলেও বে-টার্মিনালের আংশিক ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে। আর এখনও লালদিয়া টার্মিনাল ফাইলপত্রেই সীমাবদ্ধ। এ প্রকল্প দুটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমদ্রপথে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ ভাগ সম্পন্ন হয়। আর মোট কন্টেইনার পরিবহনের ৯৮ ভাগ হয় এই বন্দর দিয়ে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডেলিং হয়েছিল ২৮ লাখ ৮ হাজার একক কন্টেইনার। বৈশ্বিক করোনা মহামারি শুরু হলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয় ২৭ লাখ ৯৭ হাজার একক। এতে এক অর্থবছরের ব্যবধানে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ ১১ হাজার একক কমে যায়। তবে পরবর্তীতে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়লেও ২০২০-২১ অর্থবছরে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং এবং জাহাজ আসার সংখ্যা বেড়ে যায়। এ অর্থবছরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩০ লাখ ৪৬ একক। এক অর্থবছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দর ৩ লাখ ৪৬ একক কন্টেইনার বেশি হ্যান্ডেলিং হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরে ২৯৮টি জাহাজ বেশি এসেছে।

পিসিটির প্রকল্প পরিচালক বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হলে একসঙ্গে তিনটি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এটিতে তিনটি কন্টেইনার ও একটি তেল খালাসের জেটি রয়েছে। টার্মিনালটি সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় বন্দরের বর্তমান জেটির চেয়ে কম সময়ে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। সাড়ে নয় মিটার ড্রাফটের এবং ১৯০ দৈর্ঘ্যরে মিটার জাহাজ ভেড়ানো যাবে এই টার্মিনালে।

নিজস্ব প্রতিবেদক: বছরে ৪ লাখ ৪৫ হাজার একক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এর টার্গেট নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) চালু হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার ২১ জুলাই দেশীয় প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো নির্মিত নতুন টার্মিনালটি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। এদিন পাথরবোঝাই একটি জাহাজ ভেড়ানোর পর পণ্য খালাসের মাধ্যমে এ টার্মিনালে পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু হবে।
চট্টগ্রাম বন্দরের তথ্যমতে, বন্দরের ড্রাই ডক থেকে বোট ক্লাবের মধ্যবর্তী ৩২ একর জায়গায় ১ হাজার ৮৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে পিসিটি প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ২০১৭ সালের ১৩ জুন প্রকল্পটির অনুমোদনের পর বাস্তবায়নে সময়সীমা নির্ধারিত ছিল ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এরপর চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে প্রাক্কলিত ব্যয় ১ হাজার ৩৯৩ কোটি ৪১ লাখ টাকা এবং প্রকল্পের মেয়াদ ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করে আরডিপিপি পাঠানো হয়। টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হলে একসঙ্গে তিনটি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। প্রকল্পে তিনটি কন্টেইনার ও একটি তেল খালাসের জেটি থাকবে। টার্মিনালটি সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় বন্দরের বর্তমান জেটির চেয়ে কম সময়ে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। সাড়ে নয় মিটার ড্রাফটের এবং ১৯০ মিটার দৈর্ঘ্যরে জাহাজ ভেড়ানো যাবে এই টার্মিনালে। পিসিটি প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছে সেনাবাহিনীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ। এটি চালু হওয়ার পর বছরে ৪ লাখ ৪৫ হাজার একক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।
জানা গেছে, পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে পিসিটি প্রকল্পটির জন্য আন্তর্জাতিক মানের বেসরকারি অপারেটর নিয়োগের উদ্দেশ্যে ‘ইকুইপ, অপারেট অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স অব পিসিটি অন পিপিপি মডেল’ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে যার নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। টার্মিনাল অপারেশন পরিচালনা ও বিনিয়োগ প্রস্তাবে কয়েকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে- সৌদি আরবের রেড সি গেটওয়ে টার্মিনাল, দুবাইয়ের ডিপি ওয়ার্ল্ড, ভারতের আদানি পোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল ইকোনমিক জোন লিমিটেড ও সিঙ্গাপুরের পিএসএ।
জানা গেছে, এ টার্মিনালে বন্দরের মূল জেটির চেয়ে পিসিটিতে কম সময়ে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এটি চালু হলে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনালের সংখ্যা হবে মোট চারটি। আর বন্দরের মূল জেটির সংখ্যা দাঁড়াবে ২১টি।
বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে কন্টেইনার হ্যান্ডলিংয়ের পরিমাণ প্রায় ১২ ভাগ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে সেই ভাবে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ছে না। তাই বন্দরে আরও নতুন টার্মিনাল নির্মাণের প্রয়োজন। কিন্তু গত প্রায় ১২ বছরে নতুন কোনো টার্মিনাল নির্মিত হয়নি। সর্বশেষ ২০০৭ সালে নির্মাণ করা হয়েছিল নিউমুরিং কন্টেইনার টার্মিনাল। দীর্ঘদিন নতুন টার্মিনাল ও জেটি নির্মাণ না হওয়ায় পণ্যের প্রবৃদ্ধি মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে এই বন্দর। প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প বন্দর কর্তৃপক্ষ হাতে নিলেও বে-টার্মিনালের আংশিক ভূমি অধিগ্রহণ হয়েছে। আর এখনও লালদিয়া টার্মিনাল ফাইলপত্রেই সীমাবদ্ধ। এ প্রকল্প দুটি ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ পতেঙ্গা কন্টেইনার টার্মিনালের ওপরই বেশি জোর দিচ্ছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের ট্রাফিক বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে সমদ্রপথে দেশের মোট আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৯২ ভাগ সম্পন্ন হয়। আর মোট কন্টেইনার পরিবহনের ৯৮ ভাগ হয় এই বন্দর দিয়ে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে হ্যান্ডেলিং হয়েছিল ২৮ লাখ ৮ হাজার একক কন্টেইনার। বৈশ্বিক করোনা মহামারি শুরু হলে ২০১৯-২০ অর্থবছরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয় ২৭ লাখ ৯৭ হাজার একক। এতে এক অর্থবছরের ব্যবধানে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিংয়ের পরিমাণ ১১ হাজার একক কমে যায়। তবে পরবর্তীতে করোনার সংক্রমণ আরও বাড়লেও ২০২০-২১ অর্থবছরে কন্টেইনার হ্যান্ডেলিং এবং জাহাজ আসার সংখ্যা বেড়ে যায়। এ অর্থবছরে কন্টেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে ৩০ লাখ ৪৬ একক। এক অর্থবছরের ব্যবধানে চট্টগ্রাম বন্দর ৩ লাখ ৪৬ একক কন্টেইনার বেশি হ্যান্ডেলিং হয়েছে। শুধু তাই নয়, ২০২০-২১ অর্থবছরে তার আগের অর্থবছরের তুলনায় চট্টগ্রাম বন্দরে ২৯৮টি জাহাজ বেশি এসেছে।

পিসিটির প্রকল্প পরিচালক বন্দরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিজানুর রহমান সরকার বলেন, টার্মিনালটির অপারেশনাল কার্যক্রম শুরু হলে একসঙ্গে তিনটি জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। এটিতে তিনটি কন্টেইনার ও একটি তেল খালাসের জেটি রয়েছে। টার্মিনালটি সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় বন্দরের বর্তমান জেটির চেয়ে কম সময়ে জাহাজ ভেড়ানো সম্ভব হবে। সাড়ে নয় মিটার ড্রাফটের এবং ১৯০ দৈর্ঘ্যরে মিটার জাহাজ ভেড়ানো যাবে এই টার্মিনালে।