ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বিলম্ব ফি পরিশোধের একটি প্রাচীন নিয়ম নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। গ্রন্থাগার থেকে নেওয়া বই নির্ধারিত সময়ে ফেরত দিতে বিলম্ব হলে নির্ধারিত জরিমানার পরিমাণ মাত্র এক টাকা। তবে সেই সামান্য পরিমাণ জরিমানা জমা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন জনতা ব্যাংকের শাখায় এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকিং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা হকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূজার ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে সায়েন্স লাইব্রেরিতে বই জমা দিতে না পারায় তাঁকে মাত্র এক টাকা জরিমানা করা হয়। উক্ত জরিমানা ব্যাংকে জমা দেওয়ার একটি ফরমের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যেখানে গত ৩ নভেম্বর গ্রন্থাগারের একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে। এই বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে নাবিলা হক বলেন, "এক টাকার জন্য ব্যাংকের দিকে যাওয়াটাই বিরক্তিকর।" উল্লেখ্য, বাজারে এক টাকার কাগুজে নোট এখন তেমন দেখা যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৯ মে নতুন নকশার নোট ছাপানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল, সেখানেও এক টাকার নোট ছিল না; যদিও এক টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েন এখনো প্রচলিত রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স লাইব্রেরি বা বিজ্ঞান পাঠাগার মূলত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অধীনে পরিচালিত হয়, যদিও বিভিন্ন হল ও বিভাগের গ্রন্থাগারগুলো চলে তাদের নিজস্ব নীতিমালায়। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে নিয়মিত পড়াশোনা করা শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মোস্তাকিম বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এই অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি সহজে অনলাইনের আওতায় আনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সেবা যেখানে এখন ডিজিটাল মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেখানে মাত্র এক টাকা জমা দিতে ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের জন্য অনাবশ্যক ভোগান্তি ও সময় নষ্ট করার নামান্তর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে জরিমানা সংক্রান্ত তথ্যে মারাত্মক অসঙ্গতিও দেখা গেছে। ওয়েবসাইটের 'ফাইন ডিটেইলস' অংশে লেখা আছে, বই ফেরত দিতে বিলম্বের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০ পয়সা, তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে এক টাকা এবং পঞ্চম সপ্তাহ থেকে তিন টাকা হারে জরিমানা হবে। তবে এই দর প্রতি সপ্তাহের হিসাব নাকি নির্দিষ্ট সময়ের মোট জরিমানা, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। অপরদিকে, একই ওয়েবসাইটে থাকা গ্রন্থাগারের অধ্যাদেশভিত্তিক নীতিমালার ১৪ নম্বর বিধিতে বলা রয়েছে, প্রতি সপ্তাহের বা সপ্তাহের অংশের বিলম্বের জন্য প্রতি বইয়ে ২৫ পয়সা হারে জরিমানা হিসাব দপ্তরে সরাসরি নগদে আদায় করা হবে। ওয়েবসাইট অনুযায়ী এই ক্যাশ সংগ্রহের বিধান থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাঠানো হচ্ছে ব্যাংকে। এছাড়া নিয়ম পরিবর্তনের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে নেই। অথচ ২০২৫ সালের ১৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ব্যাংকমুখী না হয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে কিংবা অনলাইনে ভর্তি, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হলের জামানত ফি জমা দিতে পারবেন।

ক্ষুদ্র এই জরিমানার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিষয়টিকে পুরোপুরি 'অযৌক্তিক' বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক। তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর বা তারও আগে থেকে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার এই নিয়মটি অপরিবর্তিতভাবে চলে আসছে। বর্তমানে জরিমানার টাকা জমা নেওয়ার অন্য কোনো পদ্ধতি চালু না থাকলেও, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে ছোট পরিমাণের জরিমানার জন্য বিকল্প কোনো সহজ ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, ব্যাংককেন্দ্রিক এই প্রক্রিয়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল করার একটি কৌশল রয়েছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হওয়ায় বই ফেরতের জরিমানাও ব্যাংকেই জমা পড়ে। এই ঝামেলার মুখোমুখি হলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আর ইচ্ছাকৃতভাবে বই ফেরতে বিলম্ব করবেন না এবং সতর্ক থাকবেন। তবে বর্তমান সময়ে এই পুরোনো ব্যবস্থা বদলে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গ্রন্থাগারের লেনদেনগুলো দ্রুত অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড ব্যবহার করে জরিমানার টাকা সহজে পরিশোধ করতে পারেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল সেবা সম্প্রসারণের মধ্যেই কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের বিলম্ব ফি পরিশোধের একটি প্রাচীন নিয়ম নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। গ্রন্থাগার থেকে নেওয়া বই নির্ধারিত সময়ে ফেরত দিতে বিলম্ব হলে নির্ধারিত জরিমানার পরিমাণ মাত্র এক টাকা। তবে সেই সামান্য পরিমাণ জরিমানা জমা দেওয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের যেতে হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি) সংলগ্ন জনতা ব্যাংকের শাখায় এবং দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ব্যাংকিং আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হচ্ছে।

সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নাবিলা হকের একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পূজার ছুটির কারণে নির্ধারিত সময়ে সায়েন্স লাইব্রেরিতে বই জমা দিতে না পারায় তাঁকে মাত্র এক টাকা জরিমানা করা হয়। উক্ত জরিমানা ব্যাংকে জমা দেওয়ার একটি ফরমের ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়, যেখানে গত ৩ নভেম্বর গ্রন্থাগারের একজন কর্মকর্তার স্বাক্ষর রয়েছে। এই বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে নাবিলা হক বলেন, "এক টাকার জন্য ব্যাংকের দিকে যাওয়াটাই বিরক্তিকর।" উল্লেখ্য, বাজারে এক টাকার কাগুজে নোট এখন তেমন দেখা যায় না। বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৫ সালের ২৯ মে নতুন নকশার নোট ছাপানোর যে ঘোষণা দিয়েছিল, সেখানেও এক টাকার নোট ছিল না; যদিও এক টাকার ধাতব মুদ্রা বা কয়েন এখনো প্রচলিত রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সায়েন্স লাইব্রেরি বা বিজ্ঞান পাঠাগার মূলত কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অধীনে পরিচালিত হয়, যদিও বিভিন্ন হল ও বিভাগের গ্রন্থাগারগুলো চলে তাদের নিজস্ব নীতিমালায়। কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে নিয়মিত পড়াশোনা করা শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ মোস্তাকিম বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাইলে এই অর্থ সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি সহজে অনলাইনের আওতায় আনতে পারে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বহু সেবা যেখানে এখন ডিজিটাল মাধ্যমে সরবরাহ করা হচ্ছে, সেখানে মাত্র এক টাকা জমা দিতে ব্যাংকের লাইনে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের জন্য অনাবশ্যক ভোগান্তি ও সময় নষ্ট করার নামান্তর।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে জরিমানা সংক্রান্ত তথ্যে মারাত্মক অসঙ্গতিও দেখা গেছে। ওয়েবসাইটের 'ফাইন ডিটেইলস' অংশে লেখা আছে, বই ফেরত দিতে বিলম্বের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহে ৫০ পয়সা, তৃতীয় ও চতুর্থ সপ্তাহে এক টাকা এবং পঞ্চম সপ্তাহ থেকে তিন টাকা হারে জরিমানা হবে। তবে এই দর প্রতি সপ্তাহের হিসাব নাকি নির্দিষ্ট সময়ের মোট জরিমানা, তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। অপরদিকে, একই ওয়েবসাইটে থাকা গ্রন্থাগারের অধ্যাদেশভিত্তিক নীতিমালার ১৪ নম্বর বিধিতে বলা রয়েছে, প্রতি সপ্তাহের বা সপ্তাহের অংশের বিলম্বের জন্য প্রতি বইয়ে ২৫ পয়সা হারে জরিমানা হিসাব দপ্তরে সরাসরি নগদে আদায় করা হবে। ওয়েবসাইট অনুযায়ী এই ক্যাশ সংগ্রহের বিধান থাকলেও বাস্তব ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের পাঠানো হচ্ছে ব্যাংকে। এছাড়া নিয়ম পরিবর্তনের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা ওয়েবসাইটে নেই। অথচ ২০২৫ সালের ১৩ মে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছিল যে, ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীরা ব্যাংকমুখী না হয়ে সরাসরি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে কিংবা অনলাইনে ভর্তি, বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও হলের জামানত ফি জমা দিতে পারবেন।

ক্ষুদ্র এই জরিমানার টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার বিষয়টিকে পুরোপুরি 'অযৌক্তিক' বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের ভারপ্রাপ্ত গ্রন্থাগারিক অধ্যাপক কাজী মোস্তাক গাউসুল হক। তিনি জানান, আজ থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ বছর বা তারও আগে থেকে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার এই নিয়মটি অপরিবর্তিতভাবে চলে আসছে। বর্তমানে জরিমানার টাকা জমা নেওয়ার অন্য কোনো পদ্ধতি চালু না থাকলেও, শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ কমাতে ছোট পরিমাণের জরিমানার জন্য বিকল্প কোনো সহজ ব্যবস্থা চালু করা যায় কি না, সে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, ব্যাংককেন্দ্রিক এই প্রক্রিয়ার পেছনে শিক্ষার্থীদের দায়িত্বশীল করার একটি কৌশল রয়েছে বলে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী। তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত আর্থিক লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হওয়ায় বই ফেরতের জরিমানাও ব্যাংকেই জমা পড়ে। এই ঝামেলার মুখোমুখি হলে শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে আর ইচ্ছাকৃতভাবে বই ফেরতে বিলম্ব করবেন না এবং সতর্ক থাকবেন। তবে বর্তমান সময়ে এই পুরোনো ব্যবস্থা বদলে ফেলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, গ্রন্থাগারের লেনদেনগুলো দ্রুত অনলাইনভিত্তিক করার উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা কিউআর কোড ব্যবহার করে জরিমানার টাকা সহজে পরিশোধ করতে পারেন।