স্টাফ রিপোর্টার, চকরিয়া :পাহাড়ি ও সমতল বেষ্টিত জনপদ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এবং উত্তর হারবাং ইউনিয়নে মিষ্টি পান চাষে অর্থনৈতিক বিপ্লব শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে এই দুই ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে পানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে। প্রথাগত ফসলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভ হওয়ায় এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে হারবাংয়ের মিষ্টি পান এখন গুণগত মানে অনন্য হয়ে উঠেছে। এই পানের চাহিদা চকরিয়া ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে সমাদৃত হচ্ছে।

উপজেলার সবচেয়ে বড় পানের জোগান এখন আসছে হারবাং ও উত্তর হারবাং ইউনিয়ন থেকে। উর্বর পাহাড়ি ঢালু জমি ও সমতলের মাটি মিষ্টি পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে এখানে বরজের (পান খেত) সংখ্যা বাড়ছে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, এখানকার পানের পাতা বেশ বড়, রসালো এবং স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর আলাদা কদর রয়েছে। দৈনিক লাখ লাখ টাকার পান এই দুই ইউনিয়ন থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান হচ্ছে।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় মিষ্টি পানে অভাবনীয় লাভ দেখে ভাগ্য ফিরছে স্থানীয় চাষিদের। হারবাং ইউনিয়নের সফল পান চাষী এবাদুল্লাহ বলেন, আগে ধান বা সবজি চাষ করে অনেক সময় খরচের টাকাই উঠত না। কিন্তু এবার তিন কানি (বিঘা) জমিতে মিষ্টি পানের বরজ করে আমার পুরো ভাগ্য ঘুরে গেছে। বাজারে আমাদের হারবাংয়ের পানের চাহিদা অনেক বেশি। এবার ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়ায় সব খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকবে।

একই সুর উত্তর হারবাং ইউনিয়নের প্রবীণ পান চাষী ওসমান গনির কণ্ঠেও। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, মিষ্টি পান চাষে একবার বরজ ঠিকমতো দাঁড় করাতে পারলে বছরজুড়ে নিয়মিত আয় করা সম্ভব। তবে মাঝে মাঝে রোগ বালাইয়ের কারণে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ি। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে সময়মতো ওষুধ ও সুষম সার দেওয়ায় পানের চেহারা খুব সুন্দর হয়েছে। যদি সরকারিভাবে আমাদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হতো,তবে আমরা বরজের পরিধি আরও বড় করতে পারতাম।

মিষ্টি পানের এই বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের ফলে হারবাং অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বরজ তৈরি,পানের লতা সুতা দিয়ে বাঁধা, খেত থেকে পান সংগ্রহ এবং তা সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে বাজারে বিক্রির উপযোগী করার কাজে যুক্ত হয়েছেন এলাকার শত শত বেকার যুবক ও দিনমজুর নারী-পুরুষ। এর ফলে স্থানীয় বাজারগুলোতেও নগদ টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরোক্ষভাবে গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে।

মিষ্টি পান চাষের এই নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, চকরিয়া উপজেলার মধ্যে হারবাং এবং উত্তর হারবাং ইউনিয়ন মিষ্টি পান চাষের জন্য অন্যতম সম্ভাবনাময় জোন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের জন্য চমৎকার। আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বরজে গিয়ে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, সুষম সারের ব্যবহার এবং রোগবালাই দমনে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের আধুনিক চাষ পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করায় পানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন করেন, মিষ্টি পান শুধু স্থানীয় অর্থনীতি সচল করছে না, বরং এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক ক্যাশ ক্রপ (অর্থকরী ফসল) হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। আমরা চাষিদের আরও বেশি সহযোগিতা দিতে এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করতে কাজ করছি। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যদি পান সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার তৈরি এবং বিদেশে রপ্তানির সরাসরি চেইন গড়ে তোলা যায়,তবে চকরিয়ার এই মিষ্টি পান জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখতে পারবে।

এই জনপদের মিষ্টি পান শুধু দেশের বাজারেই নয়, গুণগত মানের কারণে এটি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে পানের পচনশীলতা রোধে উন্নত প্যাকেজিং, হিমাগার স্থাপন এবং সরাসরি রপ্তানির সুনির্দিষ্ট চ্যানেল গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আগামী দিন গুলোতে চকরিয়ার মিষ্টি পান চাষ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত হবে।

স্টাফ রিপোর্টার, চকরিয়া :পাহাড়ি ও সমতল বেষ্টিত জনপদ কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার হারবাং এবং উত্তর হারবাং ইউনিয়নে মিষ্টি পান চাষে অর্থনৈতিক বিপ্লব শুরু হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়া ও উর্বর মাটির কারণে এই দুই ইউনিয়নে বাণিজ্যিকভাবে পানের বাম্পার ফলন হয়েছে। যা স্থানীয় কৃষকদের মাঝে নতুন আশার আলো ছড়াচ্ছে। প্রথাগত ফসলের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি লাভ হওয়ায় এই অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

কৃষি বিভাগের সঠিক দিকনির্দেশনা এবং চাষিদের অক্লান্ত পরিশ্রমে হারবাংয়ের মিষ্টি পান এখন গুণগত মানে অনন্য হয়ে উঠেছে। এই পানের চাহিদা চকরিয়া ছাড়িয়ে দেশের বিভিন্ন বড় বড় শহরে সমাদৃত হচ্ছে।

উপজেলার সবচেয়ে বড় পানের জোগান এখন আসছে হারবাং ও উত্তর হারবাং ইউনিয়ন থেকে। উর্বর পাহাড়ি ঢালু জমি ও সমতলের মাটি মিষ্টি পান চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে এখানে বরজের (পান খেত) সংখ্যা বাড়ছে।

স্থানীয় চাষিরা জানান, এখানকার পানের পাতা বেশ বড়, রসালো এবং স্বাদে অত্যন্ত মিষ্টি হওয়ায় বাজারে এর আলাদা কদর রয়েছে। দৈনিক লাখ লাখ টাকার পান এই দুই ইউনিয়ন থেকে চট্টগ্রাম, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চালান হচ্ছে।

অন্যান্য ফসলের তুলনায় মিষ্টি পানে অভাবনীয় লাভ দেখে ভাগ্য ফিরছে স্থানীয় চাষিদের। হারবাং ইউনিয়নের সফল পান চাষী এবাদুল্লাহ বলেন, আগে ধান বা সবজি চাষ করে অনেক সময় খরচের টাকাই উঠত না। কিন্তু এবার তিন কানি (বিঘা) জমিতে মিষ্টি পানের বরজ করে আমার পুরো ভাগ্য ঘুরে গেছে। বাজারে আমাদের হারবাংয়ের পানের চাহিদা অনেক বেশি। এবার ফলন ও দাম দুটোই ভালো পাওয়ায় সব খরচ বাদ দিয়েও লাভ থাকবে।

একই সুর উত্তর হারবাং ইউনিয়নের প্রবীণ পান চাষী ওসমান গনির কণ্ঠেও। তিনি নিজের অভিজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, মিষ্টি পান চাষে একবার বরজ ঠিকমতো দাঁড় করাতে পারলে বছরজুড়ে নিয়মিত আয় করা সম্ভব। তবে মাঝে মাঝে রোগ বালাইয়ের কারণে আমরা দুশ্চিন্তায় পড়ি। এবার কৃষি অফিসের পরামর্শ মেনে সময়মতো ওষুধ ও সুষম সার দেওয়ায় পানের চেহারা খুব সুন্দর হয়েছে। যদি সরকারিভাবে আমাদের জন্য কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হতো,তবে আমরা বরজের পরিধি আরও বড় করতে পারতাম।

মিষ্টি পানের এই বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের ফলে হারবাং অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। বরজ তৈরি,পানের লতা সুতা দিয়ে বাঁধা, খেত থেকে পান সংগ্রহ এবং তা সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে বাজারে বিক্রির উপযোগী করার কাজে যুক্ত হয়েছেন এলাকার শত শত বেকার যুবক ও দিনমজুর নারী-পুরুষ। এর ফলে স্থানীয় বাজারগুলোতেও নগদ টাকার প্রবাহ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা পরোক্ষভাবে গ্রামীণ ব্যবসা-বাণিজ্যকে আরও চাঙ্গা করে তুলেছে।

মিষ্টি পান চাষের এই নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা নিয়ে চকরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানাজ ফেরদৌসী বলেন, চকরিয়া উপজেলার মধ্যে হারবাং এবং উত্তর হারবাং ইউনিয়ন মিষ্টি পান চাষের জন্য অন্যতম সম্ভাবনাময় জোন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া পান চাষের জন্য চমৎকার। আমাদের মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের বরজে গিয়ে নিয়মিত কারিগরি পরামর্শ, সুষম সারের ব্যবহার এবং রোগবালাই দমনে আধুনিক প্রযুক্তির সঠিক দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। এবার আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং কৃষকদের আধুনিক চাষ পদ্ধতিতে উদ্বুদ্ধ করায় পানের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন করেন, মিষ্টি পান শুধু স্থানীয় অর্থনীতি সচল করছে না, বরং এটি একটি অত্যন্ত লাভজনক ক্যাশ ক্রপ (অর্থকরী ফসল) হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। আমরা চাষিদের আরও বেশি সহযোগিতা দিতে এবং সহজ শর্তে কৃষি ঋণের ব্যবস্থা করতে কাজ করছি। সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে যদি পান সংরক্ষণের জন্য আধুনিক হিমাগার তৈরি এবং বিদেশে রপ্তানির সরাসরি চেইন গড়ে তোলা যায়,তবে চকরিয়ার এই মিষ্টি পান জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় অবদান রাখতে পারবে।

এই জনপদের মিষ্টি পান শুধু দেশের বাজারেই নয়, গুণগত মানের কারণে এটি মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে পানের পচনশীলতা রোধে উন্নত প্যাকেজিং, হিমাগার স্থাপন এবং সরাসরি রপ্তানির সুনির্দিষ্ট চ্যানেল গড়ে তোলা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। যথাযথ সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আগামী দিন গুলোতে চকরিয়ার মিষ্টি পান চাষ এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তিতে পরিণত হবে।