চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি : কক্সবাজারের চকরিয়ায় শেভরণ হাসপাতালে জান্নাতুল মাওয়া লুচি (২২) নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। স্বজনদের দাবী, চিকিৎসায় অবহেলা ও অনিয়মের কারণে প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে মারা যান ওই প্রসূতি। জান্নাতুল মাওয়া লুচি চকরিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাকারা এলাকার বাসিন্দা শেফায়েত মাসুমের স্ত্রী।
আজ শনিবার (২৯ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) শফিউল আলম শেভরণ হাসপাতালের নানা অনিয়ম ও অনুমোদনের কাগজপত্র না থাকায় ৭০ হাজার টাকা অর্থদন্ড দিয়েছেন। জরিমানার টাকা অনাদায়ে তিনমাসের কারাদন্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমান আদালত।
স্বজনদের দাবি, লুচিকে চকরিয়া শেভরণ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শুক্রবার (২৮ আগস্ট) দুপুর পর্যন্ত তিনি স্বাভাবিক ছিলেন। তাকে রক্ত দেওয়ার সময় হঠাৎ শরীরে খিঁচুনি শুরু হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে একপর্যায়ে তিনি সন্ধ্যার দিকে মারা যান।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর পর তারা রোগীকে দেওয়া রক্তের ব্যবহৃত ব্লাড ব্যাগ দেখতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে তাদের মধ্যে সন্দেহ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
তাদের আরও অভিযোগ, হাসপাতালে পর্যাপ্ত গাইনি বিশেষজ্ঞ ও এনেসস্তিয়া চিকিৎসকের ব্যবস্থা না থাকা সত্ত্বেও প্রসূতির সিজারিয়ান অপারেশন করা হয়েছে। তারা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে চিকিৎসা অবহেলা ও গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন।
ঘটনার পর হাসপাতালের অফিস বন্ধ করে কর্তৃপক্ষের লোকজন সরে যান বলেও অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরে সেভরণ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুরুল কবিরের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এদিকে সর্বশেষ প্রসূতি মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ও বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়। নিহতের স্বজনরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রসূতির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: জয়নুল আবেদীন বলেন, মৃত্যুর বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও চকরিয়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি)শফিউল আলম জানান, শেভরণ হাসপাতালটি অবৈধভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছে। পরিচালনার জন্য বৈধ কোন কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। হাসপাতাল পরিদর্শন করে ৭০হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অনাদায়ে আরও তিনমাসের জেল দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত বৈধ কাগজপত্র নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।




