নগর প্রতিবেদক: জেলে পরিবারকে রাষ্ট্রের উন্নয়ন কর্মসূaচির আওতায় আনা হবে।দেশের জেলে পরিবারগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানান প্রতিকূলতার মধ্যেও সমুদ্র ও নদীতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মাছ আহরণ করে জাতীয় অর্থনীতি ও দেশের মানুষের আমিষের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। তাদেরকে কোনোভাবেই অবহেলিত মনে করার সুযোগ নেই। সরকার ঘোষিত বিভিন্ন অগ্রাধিকার কর্মসূচির আওতায় জেলে পরিবারগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আজ শুক্রবার(২৮ আগস্ট) নগরীর ইপিজেড থানার আকমল আলী ঘাট স্বপ্নীল মডেল একাডেমিতে জেলা তথ্য অফিস,চট্টগ্রামের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত অগ্রাধিকার ভিত্তিক কর্মসূচি ফ্যামিলি কার্ড, খাল খনন, কৃষি ঋণ মওকুফ, বৃক্ষরোপণ, নারীর জন্য গাড়িসহ সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে বর্ণিত বিষয় সমূহ এবং বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রচার কার্যক্রমের আওতায় ফ্যামিলি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোঃ আবদুল জলিল এসব কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, আকমল আলী ঘাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে তিন শতাধিক জেলে পরিবার বসবাস করছে। নদীভাঙন ও প্রকৃতির নানা প্রতিকূলতার কারণে তাদের বারবার স্থান পরিবর্তন করতে হয়। ফলে অনেকের জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র নেই,বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
তিনি বলেন, ভূমি থাকুক বা না থাকুক, প্রত্যেক ব্যক্তি এদেশের নাগরিক এবং নাগরিক হিসেবে তার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। জেলে পরিবারের যেসব সদস্য এখনো জন্মনিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্রের আওতায় আসেননি, তাদের দ্রুত নিবন্ধনের উদ্যোগ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরো বলেন,সরকার ঘোষিত ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির মাধ্যমে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলে পরিবারগুলো যেহেতু অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত, তাই তারা যাতে সরকারি বিভিন্ন সহায়তা ও উন্নয়ন কর্মসূচির সুবিধা পায়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে হবে।
আব্দুর জলিল বলেন, বাংলাদেশ একটি বহুজাতিক ও বহুধর্মীয় সমাজ। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্ম,গোত্র,বর্ণ ও সম্প্রদায় মিলেই বাংলাদেশ। ধর্ম, বর্ণ, জাতি বা পেশার ভিত্তিতে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়। সবাইকে সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই বাংলাদেশের সৌন্দর্য; সবাইকে নিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও সমঅধিকারভিত্তিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরো উল্লেখ করেন, শুধু সরকারের ওপর নির্ভর করে থাকলে চলবে না। সরকার মানুষের পাশে থাকবে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে; তবে নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে চেষ্টা করতে হবে। জেলে পরিবারের মধ্য থেকেও অনেকেই নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করেছেন। তাদের অনুসরণ করে অন্যদেরও শিক্ষা, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।
বর্ষাকালে জেলে পল্লীর চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উপর গুরুত্বারোপ করে মহাপরিচালক বলেন, বিভিন্ন পরিত্যক্ত প্লাস্টিক, ডাবের খোসা ও অন্যান্য পাত্রে পানি জমে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাড়ির আঙিনা ও আশপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে এবং প্রতিবেশীদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে।
গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক মীর মোহাম্মদ আসলাম উদ্দীনের সভাপতিত্বে গণযোগাযোগ অধিদপ্তরের পরিচালক ডালিয়া ইয়াসমিন, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আলী সিকদার বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।
ফ্যামিলি সমাবেশ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা ও জেলে পরিবারের সদস্যগন এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।




