চকরিয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নে একটি প্রতিষ্ঠানের নির্মিত কথিত অপরিকল্পিত বাঁধকে কেন্দ্র করে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। আষাঢ় মাসের টানা বর্ষণে জমে থাকা বৃষ্টির পানি স্বাভাবিকভাবে নিষ্কাশন না হওয়ায় বসতঘর, আঙিনা, কৃষিজমি ও গ্রামীণ সড়ক পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ম্যাক্স নামে একটি প্রতিষ্ঠানের নির্মিত বাঁধে পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বর্ষার পানি আটকে যায়। ফলে কয়েক দিনের বৃষ্টিতেই পুরো এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। অনেক পরিবারের ঘরে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি ঢুকে পড়ে। রান্নাবান্না, শিশু ও বয়স্কদের চলাচল, এমনকি বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
বাসিন্দারা জানান, অতীতেও বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের সমস্যার আশঙ্কার কথা সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এবার আষাঢ়ের শুরুতেই পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। অনেক কৃষকের আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, বাঁধ নির্মাণের আগে যথাযথ পরিবেশগত ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। ফলে প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে বিস্তীর্ণ এলাকা স্থায়ী জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে।
এলাকাবাসী দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রকৃত পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য উপজেলা প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ বা কালভার্ট নির্মাণের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা না হলে সামনের দিনগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত প্রতিষ্ঠান ম্যাক্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে পরিবেশ, প্রাকৃতিক পানিপ্রবাহ এবং জনস্বার্থকে উপেক্ষা করলে এমন দুর্ভোগ বারবার সৃষ্টি হবে। তারা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং স্থায়ী সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।




