সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: সাতকানিয়া উপজেলায় দুই চাচাতো বোন স্কুল ফাঁকি দিয়ে মৎস্য প্রজেক্টে বেড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে আপন চাচাতো ছোট বোনের সামনেই ছুরির ভয় দেখিয়ে ১৬ বছর বয়সী স্কুল ছাত্রী বড় বোনকে দলবদ্ধ হয়ে পালাক্রমে গণ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এসময় তার (ধর্ষিতা) সাথে থাকা অপর ছোট বোন যৌন নিপীড়নের শিকার হন। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর ওই ছাত্রীকে মুখে প্লাস্টিকের বস্তা ঢুকিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টাও হয়েছিল বলে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানান।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটি নবম শ্রেণি ও ছোট বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা উভয়েই উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের কেফায়েত উল্লাহ-কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যয়নরত।

বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া সহুদের নাল ও ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যাপাড়ার পরে মুরগির খামারের ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রথমে ধর্ষিতা ছাত্রীটি গোপন রাখতে চাইলেও অসুস্থ হয়ে পড়লে মা-বাবার কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে বিকাল ৩ টার দিকে এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

থানা পুলিশ ৯৯৯ এ ফোন পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বুধবার মধ্য রাতে জনতার সহায়তায় ঘটনায় জড়িত চারজনকে ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্দুপ্যা পাড়ার পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যা পাড়া কালা মিয়ার বাড়ির মো.শাহ আলমের ছেলে মো.রাকিব (২০), একই ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যা পাড়া মুন্সির বাড়ির মো.নাসিরের ছেলে মো.মানিক ইসলাম (২০), একই ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যা পাড়া মোক্তারের বাড়ির আবদুল মজিদের ছেলে আবদুর রহিম (১৮) ও একই ওয়ার্ডের উত্তর পাহাড় শামসু মাঝির বাড়ির মো.ওসমান গণির ছেলে মো.সৈয়দ (১৫)। এ ঘটনায় জড়িত আরও তিনজন পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

ঘটনায় জড়িত সাত জনের মধ্যে চারজন মুরগি খামারের শ্রমিক ও অপর তিনজন বখাটে বলে জানা গেছে। ঘটনার শিকার দুই আপন চাচাতো বোনের বাড়ি ছদাহা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফজুর পাড়ার ফজল বৈদ্যের বাড়ি এলাকায়।

এ ঘটনায় বুধবার (১৩মে) গভীর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে ৭ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ছদাহা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.তৌহিদুল ইসলাম, স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, গণধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী এবং অষ্টমশ্রেণি পড়ুয়া আপন চাচাতো বোন মিলে বুধবার স্কুলে যায়। পরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সকাল ১১টার দিকে

ছদাহা ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী বাজালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাহালিয়া গ্রামের সহুদের নালা ও ছদাহার পাহাড়ি মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় বেড়াতে যায়। মৎস্য খামারের আশ-পাশ এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখে কয়েকজন মুরগির খামারের শ্রমিক ও কয়েকজন বখাটে তাদের পিছু নেয়। বিষয়টি টের পেয়ে প্রথমে তারা পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। লুকানো অবস্থা থেকে মৎস্য খামার ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় শ্রমিক ও বখাটে সাত জন মিলে তারা দু’জনকে ধরে জোরপূর্বক মুরগির খামারের ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা প্রথমে ছোট বোনকে যৌন নিপীড়ন ও ভয় দেখিয়ে দাড় করিয়ে রাখে। পরে ছোট বোনের সামনে নবমশ্রেণি পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীকে ছুরি দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে চলে যায়।

এদিকে শুধু তাই নয়, গণ ধর্ষণের পর ওই ছাত্রীকে ধর্ষকরা মুখে প্লাস্টিকের বস্তা ঢুকিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টাও চালায় বলে ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

আরও জানা যায়, ওই দুই স্কুল ছাত্রী বাড়িতে ফিরে প্রথমে বিষয়টি চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করে। পরে দুপুরের দিকে ধর্ষিতা ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা-বাবা অসুখের কারণ জানতে চাইলে ছাত্রীটি তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। পরে মা ও বাবা এলাকাবাসীকে ঘটনা সম্পর্কে জানালে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘটনার শিকার দুই ছাত্রীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসময় তারা (দুই ছাত্রী) ঘটনায় জড়িত দুই জনকে দেখিয়ে দিলে এলাকাবাসী ওই দুই জনকে ধরে পিটুনি দেয়। পরে তাদের নিয়ে ঘটনায় জড়িত আরও দুই জনকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বিষয়টি অনেক তদন্ত করে রাত ১২ টার দিকে স্থানীয়দের হাতে আটককৃতদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

কেফায়েত উল্লাহ-কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ফেসবুকে দেখেছি আমার স্কুলের দুই ছাত্রী মৎস্য খামারে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমি বুধবার এসএসসি পরীক্ষার ডিউটিতে সাতকানিয়া মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রে ছিলাম। মেয়েগুলোর নামও আমি এখন জানি না। স্কুলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। আসলে স্কুলে আসার পথে শিক্ষার্থী কোথায় যায় তা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। যেহেতু স্কুলে এসে পালিয়ে গেছে বলছেন বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। এব্যাপারে অভিভাবকদের মিটিং করে অনেক বার সতর্ক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়াও দুই স্কুল ছাত্রীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তাররা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি ৩ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ছাত্রীদের ১২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ধর্ষিতাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: সাতকানিয়া উপজেলায় দুই চাচাতো বোন স্কুল ফাঁকি দিয়ে মৎস্য প্রজেক্টে বেড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার পথে আপন চাচাতো ছোট বোনের সামনেই ছুরির ভয় দেখিয়ে ১৬ বছর বয়সী স্কুল ছাত্রী বড় বোনকে দলবদ্ধ হয়ে পালাক্রমে গণ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে সাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এসময় তার (ধর্ষিতা) সাথে থাকা অপর ছোট বোন যৌন নিপীড়নের শিকার হন। শুধু তাই নয়, ধর্ষণের পর ওই ছাত্রীকে মুখে প্লাস্টিকের বস্তা ঢুকিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টাও হয়েছিল বলে স্থানীয় এক ইউপি সদস্য জানান।

ধর্ষণের শিকার ছাত্রীটি নবম শ্রেণি ও ছোট বোন অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তারা উভয়েই উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের কেফায়েত উল্লাহ-কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজে অধ্যয়নরত।

বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের মাহালিয়া সহুদের নাল ও ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যাপাড়ার পরে মুরগির খামারের ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় এ ঘটনা ঘটে। ঘটনাটি প্রথমে ধর্ষিতা ছাত্রীটি গোপন রাখতে চাইলেও অসুস্থ হয়ে পড়লে মা-বাবার কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করলে বিকাল ৩ টার দিকে এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

থানা পুলিশ ৯৯৯ এ ফোন পেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে বুধবার মধ্য রাতে জনতার সহায়তায় ঘটনায় জড়িত চারজনকে ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্দুপ্যা পাড়ার পাহাড় ও সমতলের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যা পাড়া কালা মিয়ার বাড়ির মো.শাহ আলমের ছেলে মো.রাকিব (২০), একই ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যা পাড়া মুন্সির বাড়ির মো.নাসিরের ছেলে মো.মানিক ইসলাম (২০), একই ওয়ার্ডের সিন্ধুপ্যা পাড়া মোক্তারের বাড়ির আবদুল মজিদের ছেলে আবদুর রহিম (১৮) ও একই ওয়ার্ডের উত্তর পাহাড় শামসু মাঝির বাড়ির মো.ওসমান গণির ছেলে মো.সৈয়দ (১৫)। এ ঘটনায় জড়িত আরও তিনজন পলাতক রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছেন।

ঘটনায় জড়িত সাত জনের মধ্যে চারজন মুরগি খামারের শ্রমিক ও অপর তিনজন বখাটে বলে জানা গেছে। ঘটনার শিকার দুই আপন চাচাতো বোনের বাড়ি ছদাহা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ফজুর পাড়ার ফজল বৈদ্যের বাড়ি এলাকায়।

এ ঘটনায় বুধবার (১৩মে) গভীর রাত সাড়ে ৩টার দিকে ধর্ষিতার বাবা বাদী হয়ে ৭ জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সাতকানিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর থেকে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও মানবাধিকার কর্মীরা ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

ছদাহা ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো.তৌহিদুল ইসলাম, স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, গণধর্ষণের শিকার ওই ছাত্রী এবং অষ্টমশ্রেণি পড়ুয়া আপন চাচাতো বোন মিলে বুধবার স্কুলে যায়। পরে স্কুল ফাঁকি দিয়ে সকাল ১১টার দিকে

ছদাহা ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী বাজালিয়া ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মাহালিয়া গ্রামের সহুদের নালা ও ছদাহার পাহাড়ি মৎস্য প্রজেক্ট এলাকায় বেড়াতে যায়। মৎস্য খামারের আশ-পাশ এলাকায় ঘুরাঘুরি করতে দেখে কয়েকজন মুরগির খামারের শ্রমিক ও কয়েকজন বখাটে তাদের পিছু নেয়। বিষয়টি টের পেয়ে প্রথমে তারা পাহাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকে। লুকানো অবস্থা থেকে মৎস্য খামার ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় শ্রমিক ও বখাটে সাত জন মিলে তারা দু’জনকে ধরে জোরপূর্বক মুরগির খামারের ওপরে পাহাড়ের চূড়ায় নিয়ে যায়। সেখানে তারা প্রথমে ছোট বোনকে যৌন নিপীড়ন ও ভয় দেখিয়ে দাড় করিয়ে রাখে। পরে ছোট বোনের সামনে নবমশ্রেণি পড়ুয়া স্কুল ছাত্রীকে ছুরি দিয়ে মেরে ফেলার ভয় দেখিয়ে পালাক্রমে গণধর্ষণ করে চলে যায়।

এদিকে শুধু তাই নয়, গণ ধর্ষণের পর ওই ছাত্রীকে ধর্ষকরা মুখে প্লাস্টিকের বস্তা ঢুকিয়ে দিয়ে হত্যার চেষ্টাও চালায় বলে ইউপি সদস্য তৌহিদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে জানিয়েছেন।

আরও জানা যায়, ওই দুই স্কুল ছাত্রী বাড়িতে ফিরে প্রথমে বিষয়টি চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করে। পরে দুপুরের দিকে ধর্ষিতা ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়লে তার মা-বাবা অসুখের কারণ জানতে চাইলে ছাত্রীটি তার মাকে ঘটনা খুলে বলে। পরে মা ও বাবা এলাকাবাসীকে ঘটনা সম্পর্কে জানালে এলাকাবাসী ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘটনার শিকার দুই ছাত্রীকে নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। এসময় তারা (দুই ছাত্রী) ঘটনায় জড়িত দুই জনকে দেখিয়ে দিলে এলাকাবাসী ওই দুই জনকে ধরে পিটুনি দেয়। পরে তাদের নিয়ে ঘটনায় জড়িত আরও দুই জনকে আটক করে উত্তম-মধ্যম দেওয়া হয়। পরে রাত সাড়ে ৭টার দিকে ৯৯৯ এ খবর পেয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকীর নেতৃত্বে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে। বিষয়টি অনেক তদন্ত করে রাত ১২ টার দিকে স্থানীয়দের হাতে আটককৃতদের গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।

কেফায়েত উল্লাহ-কবির আহমদ স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ জামাল হোসেন বলেন, বিষয়টি আমি আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে ফেসবুকে দেখেছি আমার স্কুলের দুই ছাত্রী মৎস্য খামারে বেড়াতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আমি বুধবার এসএসসি পরীক্ষার ডিউটিতে সাতকানিয়া মডেল হাই স্কুল কেন্দ্রে ছিলাম। মেয়েগুলোর নামও আমি এখন জানি না। স্কুলে গিয়ে খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। আসলে স্কুলে আসার পথে শিক্ষার্থী কোথায় যায় তা আমাদের পক্ষে জানা সম্ভব নয়। যেহেতু স্কুলে এসে পালিয়ে গেছে বলছেন বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখছি। এব্যাপারে অভিভাবকদের মিটিং করে অনেক বার সতর্ক করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ছাড়াও দুই স্কুল ছাত্রীকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। গ্রেপ্তাররা প্রাথমিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছে। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকি ৩ জনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

সাতকানিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের শিকার ছাত্রীদের ১২২ ধারায় জবানবন্দি গ্রহণের জন্য বৃহস্পতিবার সকালে আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ধর্ষিতাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এ পাঠানো হয়েছে। অপরদিকে, গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।