আনোয়ারা প্রতিনিধি: আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে এক কনসার্টের আয়োজন করা হয়। কনসার্টের প্রধান আকর্ষণ ছিল মুক্তিযুদ্ধে আনোয়ারা’র প্রামাণ্যচিত্র, নিশিতা বড়ুয়া ও ‘শিরোনামহীন’ ব্যান্ড দল। অনুষ্টানটির শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত জাতীয় সংগীত ও দেশাত্ববোধক কোন ধরনের গান না থাকায় উপজেলাসহ চট্টগ্রামের আনাচে কানাচে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র নিন্দাসহ সমালোচনার ঝড় বইছে। গতকাল সোমবার (২৮ মার্চ) বিকাল সাড়ে চারটা থেকে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক ডকুমেন্টারি ও গান পরিবেশন শুরু হয়। এরপর সন্ধ্যে সাতটায় শিল্পী নিশিতা বড়ুয়া ও দেশের জনপ্রিয় ব্যান্ডদল “শিরোনামহীন’ অংশগ্রহণ করেন।
কনসার্টের শুরুতেই ছিল নিশিতা বড়ুয়ার কণ্ঠে ‘মধু হই হই বিষ খাওয়াইলা’ গান দিয়ে। এতে তখন শ্রোতাদের মধ্যে গুঞ্জন শুরু হলেও যার প্রকাশ ঘটে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে।
মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের এমন ব্যতিক্রম আয়োজনে জনমনে সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। সারাদেশের অন্যান্য স্থানে স্বাধীনতার সুবৰ্ণজয়ন্তী ও মুজিববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্টানে জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের মাধ্যমে শুরু হলেও আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্টানে ব্যতিক্রম চিত্র।
দেশের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তীতে প্রশাসন কতৃক এমন আয়োজনে ক্ষুদ্ধ হয়ে স্থানীয় সংবাদকর্মী জসিম উদ্দিন তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রাত নয়টার নাগাদে একটি প্রতিবাদমূলক পোস্ট করেন। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘আনোয়ারা-চট্টগ্রামের ঘটনাটি যদি সত্যি হয় তাহলে প্রশাসনের ভিতরে ঘাপটি মেরে বসে থাকা রাজাকার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে হবে । কনসার্টের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা অপচয়ের জবাবও দিতে হবে । আনোয়ারা উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে স্বাধীনতার সূবর্ণজয়ন্তী উৎসব ও কনসার্টে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়নি ? আমি শতভাগ নিশ্চিত। তাহলে ওই অনুষ্ঠানে রাজাকার, আলবদর ও আলশামস বংশধরদের উপস্থিতি ছিল বলে মনে হয় ! আইনি নোটিশ পাঠিয়ে জবাব চাওয়া হবে।’
এই বিষয়ে মেধাবি শিক্ষার্থী এম চৌধুরী রাফি বলেন, অনুষ্টানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমি ছিলাম। একটি ডকুমেন্টারি দেখানো হয়েছে মুক্তিযুদ্ধে আনোয়ারা নিয়ে। এরপর কয়েকজন বক্তব্য রাখলেন, এরপরে ‘মধু হই হই—‘ দিয়ে গান শুরু করছে।
দেশাত্মবোধক গান ছিল কি’না এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘জাতীয় সংগীত বা দেশীয় গান ছিল না। আঞ্চলিক গান ছিল।’
একজন সচেতন শিক্ষার্থী হিসেবে এই বিষয়ে প্রতিবাদ না করে নীরবতা কেন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ”কে করবে? তাদের প্রতিবাদ করার মত মানসিকতা থাকতে হবে। যে সকল মানুষ স্বাধীনতা কি জিনিস জানে না, তারা কিভাবে এইটার দাম বুঝবে? আমি এখনো শিক্ষার্থী। আমি এখনও সেই অবস্থাতে যায় নি যে দেশের মানুষ আমার কথায় দাম দিবে। কিন্তু আমার ভয় হয়, এই দেশ কতদিন স্বাধীন থাকবে আমাদের মত যুব সমাজের হাতে।’
মানিক আকতার কামাল নামে একজন লিখেছেন, ‘জাতীয় সংগীত গাওয়া হয়নি। যেকোনো কনসার্ট বা অনুষ্ঠানে গান শুরু করে দেশাত্মবোধক সংগীতের মাধ্যমে, অথচ সুবর্ণজয়ন্তীতে গান শুরু করলো মধুর ভিতর বিষ দিয়ে!”
ফেসবুকে মো. আলাউদ্দীন তালুকদার লিখেছেন, ‘আসলে দিন দিন দেশপ্রেমিক মানুষ কমে যাচ্ছে, দেশদ্রোহীরা দেশপ্রেমিক সেজে বসে আছে!!’
আয়োজিত অনুষ্টানে জাতীয় সংগীত ও দেশাত্মবোধক গানের অনুপস্থিতিতি নিয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জোবায়ের আহমেদ বলেন, ‘এটি একটি সামাজিক অনুষ্টান ছিল। জাতীয় সংগীত কেন গাইবে? যারা সমালোচনা করছে তাদের জাতীয় সংগীত বিধিমালা – ১৯৭৮ দেখতে হবে। ‘
এই বিষয়ে ভূমি কর্মকর্তা তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, ‘মুজিববর্ষ ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্টানে জাতীয় সংগীত গাইতে হবে এমন বাধ্যবাধকতা আছে না-কি? আমরা অনুষ্টানের শুরুতে মুক্তিযোদ্ধার উপস্থিতিতে মুক্তিযুদ্ধের প্রামাণ্যচিত্রের মাধ্যমে অনুষ্টান শুরু করেছি। জাতীয় সংগীত গাইতেই হবে এইরকম কোন বাধ্যবাধকতা নেই। কনসার্টের প্রোগ্রাম শুরু হয়েছে সন্ধ্যার পরে, তাই ফ্ল্যাগ তুলতে পারিনি, তাই জাতীয় সংগীত গাওয়ার সুযোগ ছিল না।’
প্রশাসন কতৃক আয়োজিত কনসার্টে ‘মধু হই হই বিষ’ এর মত গানের উপস্থিতি, দেশাত্মবোধক গানের অনুপস্থিতিতের কারন জানতে চাইলে জবাবে তিনি আরো বলেন, ‘শিরোনামহীন তো দেশের গান গায় না। শিরোনামহীন কি দেশের গান গাইবে? নিশিতা বড়ুয়া দেশের গান দিয়ে শুরু করছে।



