নিজস্ব প্রতিবেদক: রান্নায় ব্যবহৃত গ্যাসের (এলপিজি) বাজারে অস্থিরতা যেন থামছেই না। সরকার নির্ধারিত দামকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা বেশি আদায় করছেন খুচরা বিক্রেতারা। সাধারণ নিম্নমধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর মাসিক খরচের বাজেটে বড় ধরনের ধাক্কা লেগেছে। এই নৈরাজ্যের পেছনে সিন্ডিকেটকে দায়ী করেছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা।
তাদের ভাষ্য, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে এই ব্যবসা নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে দাম বেড়েছে অস্বাভাবিকভাবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) চলতি মাসে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করলেও চট্টগ্রাম মহানগরীর পাথরঘাটার বিভিন্ন এলপিজি’র খুচরা বাজারে তা পাওয়া যাচ্ছে না।
সরেজমিনে শহরের পাথরঘাটা,আন্দরকিল্লা,ফিরিঙ্গীবাজার, বংশাল রোড,রহমতগঞ্জ,চেরাগীপাহাড়সহ বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে:
• বিইআরসি নির্ধারিত দাম: ১,৭২৮ টাকা।
• বর্তমান বাজার দর: ১,৯৫০ টাকা থেকে ২,০০০ টাকা।
• অতিরিক্ত আদায়: ৫০০ থেকে ৫৫০ টাকা (গত মাসের তুলনায়)।
আফমী রঙ্গম টাওয়ারের জনৈক বাসিন্দা বলেন, “এক মাসের ব্যবধানে সিলিন্ডার প্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা। আমাদের আয় তো বাড়েনি, কিন্তু জীবনযাত্রার খরচ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।”
একই ক্ষোভ প্রকাশ করেন ফিরিঙ্গীবাজারের বাসিন্দা মমতাজ বেগম। তার ৮ সদস্যের পরিবারে মাসে দু’টি সিলিন্ডার লাগে, যার পেছনে এখন তাকে গুণতে হচ্ছে ৪ হাজার টাকা।
খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, তারা নিজেরা নিরুপায়। তাদের দাবি— কোম্পানিগুলোই ডিলারদের কাছে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস সরবরাহ করছে। এর সাথে যুক্ত হচ্ছে পরিবহন খরচ ও দোকান ভাড়া। ফলে ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনে ১ হাজার ৭২৮ টাকায় বিক্রি করা তাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চট্টগ্রামএলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর সমিতির সভাপতি জানিয়েছেন, “আন্তর্জাতিক বাজার ও যুদ্ধ পরিস্থিতির অজুহাতে কোম্পানিগুলো দাম বাড়িয়েছে। আমরা বেশি দামে কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে প্রশাসনের জরিমানার শিকার হচ্ছি। বাজারে শৃঙ্খলা ফেরাতে বড় কোম্পানিগুলোর ওপর নজরদারি প্রয়োজন।”
বাজারের এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ জানানো হয়েছে।
ডিলারদের দাবি, খুচরা পর্যায়ে অভিযান না চালিয়ে মূল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণ করলে তবেই সাধারণ মানুষ সুফল পাবে।




