মিজবাউল হক, চকরিয়া : চকরিয়ায় একটি বন্যহাতিকে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার মরদেহ গুম করার এক অভিনব ও চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। উপজেলার কাকারা ইউনিয়নের দুর্গম বনাঞ্চলে হাতিটিকে হত্যা করে মাটি চাপা দেওয়ার পর ঘটনাটি ধামা চাপা দিতে তার ওপর একটি অস্থায়ী ঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে শেষ রক্ষা হয়নি,পচা মরদেহের দুর্গন্ধে বনবিভাগের টহল দলের কাছে ধরা পড়ে যায় এই নিষ্ঠুরতা।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুরে বনবিভাগ,পুলিশ ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মরদেহের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেছে।
স্থানীয় ও বনবিভাগ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক মাস আগে কাকারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মুসলিম নগর ও করিম্মা কাটার ঘোনা এলাকার বনের গভীরে আনুমানিক ১০ বছর বয়সী একটি হাতিকে হত্যা করা হয়। অপরাধীরা এতটাই চতুর ছিল যে, হাতিটিকে গর্তে পুঁতে রাখার পর কেউ যেন সন্দেহ না করে, সেজন্য ঠিক তার ওপরে একটি ছোট কাঁচা ঘর তৈরি করে দেয়। যেন বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় সেখানে কেউ বসবাস করছে বা বন পাহারার ঘর।
গত কয়েকদিন ধরে ওই এলাকায় প্রচণ্ড দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। বনবিভাগের নলবিলা বনবিটের স্টাফরা নিয়মিত টহল দেওয়ার সময় দুর্গন্দের উৎস খুঁজতে গিয়ে ওই ঘরটির নিচে মরদেহের সন্ধান পান। বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের একটি দল সেখানে পৌঁছায়।
সরেজমিনে গিয়ে আলামত সংগ্রহে অংশ নেন-ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সাদেকুর রহমান,ডুলাহাজারা সাফারি পার্কের ভেটেরিনারি সার্জন ডা. মোস্তাফিজু রহমান,চকরিয়া থানা ও ফাইতং ফাঁড়ি পুলিশ,নলবিলা ও ফাইতং বনবিটের কর্মকর্তারা।
বন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা,হাতিটিকে হয় সরাসরি গুলি করে অথবা হাতি হত্যা করেছে।
বন কর্মকর্তাদের প্রাথমিক ধারণা,হাতিটিকে হয় সরাসরি গুলি করে অথবা জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ (ইলেক্ট্রিক শক) দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পচন বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হতে ল্যাব টেস্টের সহায়তা নেওয়া হবে।
ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ সাদেকুর রহমান বলেন,বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। অজ্ঞাতনামা বা চিহ্নিত অপরাধীদের বিরুদ্ধে মামলার প্রক্রিয়া চলমান।
পরিবেশবাদীরা এই ঘটনাকে নজিরবিহীন নৃশংসতা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তাদের মতে,ঘর তৈরি করে মরদেহ গুম করার চেষ্টা প্রমাণ করে যে একটি সুসংগঠিত চক্র পাহাড়ের বন্যপ্রাণী নিধনে সক্রিয় রয়েছে।
বিদ্যুৎ সংযোগ (ইলেক্ট্রিক শক) দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পচন বেশি হওয়ায় বিষয়টি নিশ্চিত হতে ল্যাব টেস্টের সহায়তা নেওয়া হবে।




