দি ক্রাইম ডেস্ক: আনোয়ারায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ঘর থেকে গৃহবধূ ও তার দুই বছর বয়সী কন্যাসন্তানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা হয়েছে।
গ্রেপ্তার স্বামী মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে (২৮) আজ (বুধবার) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে ঘটনার পর থেকে মামলার দ্বিতীয় আসামি নিহতের শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে মিজানুর রহমানকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
নিহতরা হলেন– সুমি আকতার (১৯) ও তার দুই বছর বয়সী কন্যা ওয়াজিহা আক্তার।
পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বৈরাগ ইউনিয়নের গুয়াপঞ্চক আশ্রয়ণ প্রকল্পে নিজ বসতঘরের রান্নাঘর থেকে গত মঙ্গলবার বিকেলে মা-মেয়ের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্ত শেষে আজ বুধবার বিকেলে তাদের মরদেহ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহত সুমির ভাই নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে আনোয়ারা থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলায় সুমির স্বামী মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ও শাশুড়ি রিজিয়া বেগমকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করলেও অপর আসামি রিজিয়া বেগম পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাসির উদ্দিন।
বাদী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘আমার বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে আমরা মনে করি। এ কারণেই স্বামী ও শাশুড়িকে আসামি করে মামলা করেছি। আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই।’
আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুনায়েদ চৌধুরী বলেন, ‘ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।’
প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহের জেরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।




