ঈদগাঁও প্রতিনিধি: ৪৮ তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারি সার্জন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে নিয়োগপ্রাপ্ত ৮ জন কক্সবাজার জেলার ঈদগাঁও উপজেলায় যোগদান করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার(১৯ ফেব্রুয়ারি) তাঁরা ঈদগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মোহাম্মদ মঈনুদ্দীন মোর্শেদের কাছে যোগদান পত্র প্রদান করেন।
যোগদানকৃতদের মধ্যে সাতজন সহকারি সার্জন ও একজন সহকারী ডেন্টাল সার্জন রয়েছেন। এদের মধ্যে একজন যোগদান করেছেন ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার পদে। তার নাম ডাঃ উম্মে হাবিবা। ডেন্টাল সার্জন হিসেবে যোগদান করেছেন আসফি জাহান তিশা। পরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা কর্মকর্তা যোগদানকৃতদের সাথে ফুলেল শুভেচ্ছা জ্ঞাপন ও মতবিনিময়ে অংশ নেন। ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের তৃতীয় তলায় সভাকক্ষে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।
যোগদানকৃত অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন ডাঃ আরিফ উল্লাহ, ডাঃ মোহাম্মদ রিয়াদ হোসেন,ডাঃ দেব জ্যোতি বিশ্বাস, ডাঃ জাওয়াদ সিরাজ তাজিন, ডাঃ রওশন জাহান ও ডাঃ আসিফ আহমেদ চৌধুরী। এ সময় হাসপাতালে কর্মরত অন্যরা উপস্থিত ছিলেন। সুপারিশ প্রাপ্তরা যোগদানের ফলে ঈদগাঁওতে স্বাস্থ্যসেবা আরো একধাপ এগিয়ে গেল বলে জানান কর্মরতরা।
জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রের উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার ডাঃ আবু সাদেক জানান, বর্তমানে অত্র স্বাস্থ্য কেন্দ্রে সকল দশটা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত আউটডোরে রোগী দেখা হয়। তবে ভর্তির কোন সুযোগ নেই। বর্তমানে উনারা যে ভবনে সেবা কার্যক্রম পরিচালনা করছেন সেটা হচ্ছে পরিবার- পরিকল্পনা বিভাগের নির্মিত। ভবনটি তিনতলা বিশিষ্ট। ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের দুই তিনটা ভবন পরিত্যক্ত ঘোষিত হওয়ায় পরিবার- পরিকল্পনা বিভাগের ভবনে কার্যক্রম চালাচ্ছেন স্বাস্থ্য বিভাগ নিয়ন্ত্রণাধীন কর্মকর্তা- কর্মচারীরা।
তিনি আরো জানান, ঈদগাঁও উপজেলাতে দুইটি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। এর একটি কার্যক্রম চলে এখানে। যার নাম জালালাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। অপরটি হচ্ছে ইসলামাবাদ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র। তবে কর্মরতদের নিয়ন্ত্রণ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ।
ঈদগাঁও নবগঠিত উপজেলা হলেও স্বাস্থ্য বিভাগের কার্যক্রম এখনো আলাদা হয়নি। তবে এক বছরের অধিককাল পূর্বে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়েছে। কিন্তু তার জন্য এখনো ফেলানীর আলাদা কোড হয়নি।
বর্তমানে ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রে মেডিকেল অফিসার রওশন জাহান, উপ-সহকারী মেডিকেল অফিসার আবু সাদেক, মিডওয়াইফ প্রিয়াংকা সহ আরো বেশ কয়েকজন কর্মরত রয়েছেন। প্রিয়াঙ্কা ডেলিভারি সামগ্রী সহ সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদান করেন।
তবে, উপজেলার আওতাধীন পাঁচটি ইউনিয়নে স্বাস্থ্য সহকারী, স্বাস্থ্য পরিদর্শক, সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক, পরিবার কল্যাণ সহকারী এবং পরিবার পরিকল্পনা ইন্সপেক্টর ২৫/৩০ জন কর্মরত রয়েছেন।
সম্প্রতি আরএমও সুপ্রিয়া দাশ বদলি হয়ে চলে গেছেন।কর্মরত রয়েছেন মেডিকেল অফিসার রোকসানা আফাজ এবং আরিফুল ইসলাম। পরিবার- পরিকল্পনা পরিদর্শিকা নাসরিন আক্তার অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে একবার এখানে অফিস করেন।
সচেতন মহল মনে করছেন, উপজেলা ভিত্তিক অবকাঠামো, মেডিসিন এবং অন্যান্য সহায়ক সাপোর্টিং না দিয়ে নতুন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ দিলেও এলাকাবাসীর কোন সুফল পাবেন না। বরং তাদের নিয়োগটা ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।
তাদের মতে, যোগদানকৃত মেডিকেল অফিসারদের সাপ্তাহিক ভিত্তিতে বিভিন্ন কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শনে পাঠানো হলে প্রান্তিক জনগণ সহজে চিকিৎসা সেবা ও আনুষাঙ্গিক সুবিধা পাবেন।
জানা গেছে, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে ঈদগাঁও উপ- স্বাস্থ্য কেন্দ্রের ভবন।
এক বছরেরও অধিককাল আগে নবসৃষ্ট ঈদগাঁও উপজেলায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার- পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নিয়োগ দেয়া হয়। যদিও তিনি নিয়মিত অফিস করেন না বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।




