দি ক্রাইম ডেস্ক: চট্টগ্রামে আজিজ উদ্দিন নামের এক ব্যক্তিকে মুঠোফোনে হত্যার হুমকি দেওয়ার একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আজিজ উদ্দিনের দাবি, তাকে হুমকি দিয়েছেন চট্টগ্রামের ‘সন্ত্রাসী’ মোবারক হোসেন ওরফে ইমন।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে বলা হয়, ‘৫০ হাজার পুলিশ নিয়ে থাকলেও ঘরে গিয়ে মেরে ফেলব। তোর ভাইকে যেমন ১০ হাজার মানুষের মাঝখানে গুলি করে মেরেছি।’ আজিজ উদ্দিনের অভিযোগ, এই হুমকির পর তিনি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
আজিজ উদ্দিন চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানা শ্রমিক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি চট্টগ্রামে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণায় গুলিতে নিহত সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলার ছোট ভাই। আজিজের ভাষ্য অনুযায়ী, গত রোববার তার হোয়াটসঅ্যাপে এই হুমকির অডিও পাঠানো হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অডিওটির দৈর্ঘ্য প্রায় ২ মিনিট ৩০ সেকেন্ড। এতে চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় আজিজ উদ্দিনকে উদ্দেশ করে অশ্লীল গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, প্রশাসনের নিরাপত্তা দীর্ঘদিন কার্যকর থাকবে না এবং তাকে ঘরে গিয়েই হত্যা করা হবে।
গত বছরের ৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার খন্দকারপাড়া এলাকায় বিএনপির প্রার্থী এরশাদ উল্লাহর গণসংযোগ চলাকালে গুলি চালায় সন্ত্রাসীরা। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন সরোয়ার হোসেন ওরফে বাবলা। তিনি অন্তত ১৫টি মামলার আসামি ছিলেন। ওই ঘটনায় বিএনপি প্রার্থীসহ আরও চারজন আহত হন।
এ ঘটনায় করা মামলায় পুলিশ ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করলেও সরোয়ারকে কে গুলি করেছে, তা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। তবে পুলিশ জানিয়েছে, বাঁহাতি কোনো শুটার তাকে হত্যা করেছে।
আজিজ উদ্দিন বলেন, ‘আমার ভাই সরোয়ারকে গুলি করে মারার পর থেকে আমাকে প্রায়ই হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সর্বশেষ গত রোববার হুমকি পেয়েছি। আমি নিরাপত্তাহীনতায় আছি।’ তিনি জানান, বিষয়টি মৌখিকভাবে বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এবং নগর পুলিশের কমিশনারকে অবহিত করেছেন।
বায়েজিদ বোস্তামী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদুল কবির বলেন, ‘সন্ত্রাসী মোবারককে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। বিদেশি নম্বরের হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করে তিনি হুমকি দেওয়াসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত।’
মোবারক পলাতক থাকায় ছড়িয়ে পড়া অডিও সম্পর্কে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
কে এই মোবারক
পুলিশের তথ্যমতে, মোবারক হোসেন ফটিকছড়ির কাঞ্চনগরের মো. মুসার ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়া এক্সেস রোডে জোড়া খুন, পতেঙ্গায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ মোট সাতটি মামলার আসামি।
পুলিশ জানায়, অস্ত্র ব্যবহারে মোবারক পারদর্শী। তার ১৫–২০টি অস্ত্র বহনের ছবি পুলিশের কাছে রয়েছে। জোড়া খুনের ঘটনায় সন্ত্রাসী ও মোটরসাইকেল ভাড়া করে এনেছিলেন তিনিই।
মোবারক চট্টগ্রামের আলোচিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। ছোট সাজ্জাদ আবার বিদেশে পলাতক সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী। বড় সাজ্জাদের বিরুদ্ধে হত্যা, অস্ত্র ও চাঁদাবাজিসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। তার পক্ষে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী, পাঁচলাইশ, চান্দগাঁও ও হাটহাজারী এলাকায় অপরাধ সংঘটিত করতেন ছোট সাজ্জাদ।
গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকায় গ্রেপ্তার হন ছোট সাজ্জাদ। তবে তার বাহিনীর কার্যক্রম থামেনি। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বাহিনীর নেতৃত্বে এখন রয়েছেন মোবারক ও মোহাম্মদ রায়হান। এই দুজন এখনো পলাতক।




