মৃত্যু সুকান্ত বিকাশ ধর, সাতকানিয়া: সাতকানিয়া উপজেলা থেকে অপহরণের পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে মারধরে গুরুতর আহত হয়ে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন থাকার ৪ দিন পর নুরুল ইসলাম (৩৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার (২৮জুন) চট্টগ্রাম নগরীর চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
গত ২৪ জুন সাতকানিয়ার বাজালিয়া ইউনিয়ন এলাকা থেকে নুরুল ইসলামকে অপহরণ করে বান্দরবান সদর উপজেলার একটি ব্রিজের নিচে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় নিহতদের মামা উম্মত আলী আজ সোমবার(২৯ জুন) থানায় এজাহার দায়ের করবেন বলে এ প্রতিবেদককে নিশ্চিত করেছেন।
নিহত নুরুল ইসলাম উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব বড়দুয়ারা সিকদার পাড়ার মৃত উলা মিয়ার পুত্র। তিনি হলুদিয়া উদ্দুরিক্যা পাড়ায় বন বিভাগের জায়গায় বসতঘর নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করছেন।
নিহতের পরিবার সূত্রে জানা যায়, চলতি মাসের ২৪ জুন রাতে নুরুল ইসলাম সাতকানিয়া উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়নের হলুদিয়া থেকে পূর্ব বড়দুয়ারা সিকদার পাড়া নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে ফরেস্ট অফিস মাঠ এলাকা থেকে অপহরণের শিকার হন। এরপর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বান্দরবান সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের মাঝের পাড়া এলাকার একটি ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। পরেরদিন (২৫ জুন) সকালে বান্দরবান সদর থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করান। পরে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চমেকে আইসিইউ না পেয়ে নগরীর মা ও শিশু হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। রোববার চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
নিহতের মামা উম্মত আলী বলেন, আমার ভাগিনা মৃত্যুর পূর্বে তাকে অপহরণ ও মারধর করে পার্বত্য জেলা বান্দরবান সীমান্ত এলাকার একটি ব্রিজের নিচে ফেলে দেওয়া হয়। মারা যাওয়ার আগে নুরুল ইসলাম ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত বেশ কয়েকজনের নাম বলে গেছেন। এ ঘটনায় আজ (সোমবার) আমরা থানায় এজাহার দায়ের করব।
তিনি আরও বলেন, ভাগিনা নুরুল ইসলাম বেশ কয়েক বছর আগে বন বিভাগের পিএফ (সরকারি জমি) এর জায়গায় পরিবার-পরিজন নিয়ে বসবাস করে আসছে। একটা কুচক্রীমহল ওই জায়গাগুলো তাদের দখলে নেওয়ার জন্য নুরুলের বসতঘর পুড়িয়ে দিয়েছে। এ ঘটনার কয়েকদিন আগে নুরুলকে মারধরও করে ওই চক্র। আমার ধারণা নুরুলকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিয়ে জায়গাগুলো দখলে নেওয়ার জন্য তারা নুরুলকে মেরে ফেলেছে। আমরা তার হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।
বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহেদ পারভেজ বলেন, মুমূর্ষূ অবস্থায় আমরা তাকে উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে নেয়ার পর সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি। আমাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরামর্শ করে মামলা বান্দরবান সদর নাকি সাতকানিয়া থানায় হবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, আমাদের কাছে অপহরণের কোনো সংবাদ নেই। তথাপিও ঘটনাস্থল যেহেতু বান্দরবান সেহেতু বান্দরবান সদর থানায় মামলা হবে। এক্ষেত্রে বান্দরবান সদর থানাকে আমাদের পক্ষ থেকে সকল ধরনের আইনগত সহায়তা প্রদান করা হবে।




