রাঙামাটি প্রতিনিধি: পাহাড়ি সর্পিল পথে দাপুটে যানবাহন হিসেবে বেশ নাম আছে চাঁদের গাড়ির (জীপ)। গণপরিবহণের অপ্রতুলতার সুযোগে গাড়ির ভেতরে, চালকের পাশে, পা-দানী এমনকি ছাঁদেও যাত্রি বহনে পটু এর চালক-হেলপার। ১২ জনের বসার স্বাভাবিক ব্যবস্থা থাকলেও ৩০ থেকে ৩৫ জন নিয়ে দিব্যি চলাচল করে এ বাহন। এতে পাহাড়ি সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহানীর সাথে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিও আছে।
এমন ঝুঁকি সত্বেও রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার উপজেলার আমতলী ও দূর্গম সাজেক ইউনিয়নের বেশকটি স্কুলের কর্তৃপক্ষ খরচ বাঁচাতে এই পথেই হেঁটেছেন। করোনার টিকা নিতে কয়েকশো শিক্ষার্থিকে গাদাগাদি করে টিকাকেন্দ্রে হাজির করেছেন তারা। বাদুরঝোলা হয়ে অনেকটা ভয় নিয়েই গতকাল বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে টিকা নিয়েছেন শিক্ষার্থিরা।
দীর্ঘসময় ধরে কড়া রোদে দীর্ঘলাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অনেক শিক্ষার্থিই বিগড়ে গিয়েছিলেন। সেচ্ছসেবকদের সঙ্গেও করেছেন অনেকেই খারাপ আচরণ। হিমশিম খেতে হয়েছে টিকা সংশ্লিষ্টদেরও।
বাঘাইছড়ির ৮ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা মিলে মাধ্যমিক, নিম্ন মাধ্যমিক, ২টি দাখিল মাদ্রাসা এবং ২টি কলেজসহ মোট ৩১ টি প্রতিষ্ঠানের ৮ হাজার শিক্ষার্থিকে টিকার আওতায় আনতে কাজ করে যাচ্ছে উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে বয়স কম হওয়ায় হাজের খানেক শিক্ষার্থি বাদ পড়ছে এ কার্যক্রম থেকে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নুর মোহাম্মদ জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১৬ জানুয়ারী থেকে ২৩ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত ৭ হাজার ৬৬৪ জন প্রথম ডোজ ও ৫ হাজার ১৪৮ জন শিক্ষার্থি দ্বিতীয় ডোজ টিকা পেয়েছে। তবে বয়স ১২ বছর পূর্ণ নাহওয়ায় ৩১ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আরও প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থি বাদ পড়ছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষাক বলেন, ‘ঝুঁকি আছে সত্য। কিন্তু উপায় ছিলনা। যাতায়াত খরচ কমাতে জীপ গাড়ি ভাড়া করতে হয়েছে’।
টিকা কার্যক্রমে যুক্ত রেডক্রিসেন্ট সেচ্ছসেবক আহসান উল্লাহ (তাহসিন) বলেন, ‘অনেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে অস্থির হয়ে আমাদের সাথে খারাপ আচরন করেছে। তারপরও আমরা সেবা অব্যাহত রেখেছি’।
টিকা কেন্দ্রের দায়িত্ব প্রাপ্ত মেডিকেল অফিসার ডা. রনি আলম বলেন, ‘একসাথে এতো শিক্ষার্থীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তবুও সকল শিক্ষার্থী যাতে টিকা পায় সেদিকে কড়া নজরদারি রেখেছি’।
উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক গিয়াসউদ্দিন মামুন বলেন, ‘বাঘাইছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স টিকা সংরক্ষণের উপযোগী ছিলনা। ১৪৪ কিলোমিটার দূরে রাঙামাটি জেলা সদরে গিয়ে টিকা নিতে নির্দেশনা দিয়েছিল স্বাস্থ্য বিভাগ। এতে শিক্ষক ও অভিভাবক মহলে হতাশা দেখা দেয়। তবে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদার ও জেলাপরিষদ থেকে এ সমস্যার সমাধান করা হয়েছে’।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বয়স জনিত কারণে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী টিকা নিতে পারছে না। দূর্গম অঞ্চলের শিক্ষার্থিদের টিকা নিতে কিছুটা কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। তবে উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের আন্তরিকতার কোন ঘাটতি নেই’।



