নিজস্ব প্রতিবেদক: নগরীর জিমনেসিয়াম মাঠে অমর একুশে বইমেলা দর্শনার্থীদের ভীড়ে জমে উঠেছে। তবে বইমেলায় দর্শনার্থীদের ভীড় বাড়লেও সেই পরিমাণে বাড়েনি ক্রেতার সংখ্যা।
২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই মেলা চলবে ১০ মার্চ পর্যন্ত। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আয়োজনে মেলায় চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন প্রকাশনীর শতাধিক স্টল অংশ নিয়েছে।
মেলায় বাতিঘর, প্রথমা, চন্দ্রবিন্দু, খড়িমাটির স্টলের বিক্রয়কর্মীদের সাথে কথা বলে জানা যায় দর্শনার্থী থাকলেও বই বিক্রি এখনো আশানুরূপ পরিমাণে হচ্ছে না।
বই বিক্রি কম হওয়া এবং ক্রেতা বাড়লেও সেই পরিমাণে পাঠক তৈরি না হওয়ার সমালোচনাকে স্বীকার করে মেলার ইতিবাচক দিক টেনে সংস্কৃতিকর্মী এবং গল্পকার মাজহারুল আলম তিতুমির বলেন,“আমাদের চারিদিকে যে খারাপ সময়, খারাপ পরিবেশ এসব কিছুকে মেনে নিয়ে, এরমধ্য থেকে সুন্দর কিছু সময় বের করে নিতে হবে। বইমেলায় ক্রেতা কম থাকুক অথবা সিরিয়াস পাঠক সৃষ্টি না হোক, কিছু মানুষ যে অন্তত অবসরে এসে মেলায় ঘুরে অসংখ্য বইয়ের মলাট উল্টিয়ে অল্প কিছু লাইন পড়ছে, এটা মেলার সবচেয়ে সুন্দর অর্জন”।
চট্টগ্রামের বইমেলায় ইসলামী বই নিষিদ্ধের অভিযোগ এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেলা বয়কটের একটা প্রচারণা চললেও সেই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে মেলার আহবায়ক ড. নিছার উদ্দিন আহমেদ মঞ্জু বলেন, বইমেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাধীনতাবিরোধী এবং জঙ্গীবাদকে উৎসাহিত করে এমন বই প্রদর্শন এবং বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বইমেলায় কোনভাবেই ইসলামী বই নিষিদ্ধ নয়, ইসলামী বই অবাধে প্রদর্শন এবং বিক্রয় করা যাচ্ছে।
সরেজমিনে মেলা প্রাঙ্গনে আলোচিত কিছু ইসলামী প্রকাশনার স্টল দেখা না গেলেও বায়তুশ শরফ, আঞ্জুমান এবং মাইজভাণ্ডার একাডেমির ইসলামী বইয়ের স্টল দেখা যায়।
উল্লেখ্য, চট্টগ্রামে বিক্ষিপ্তভাবে বিভিন্ন প্রকাশনী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো ভিন্ন ভিন্ন স্থানে বইমেলার আয়োজন করতো, যেগুলোতে খুব একটা জনসমাগম দেখা যেতো না। ২০১৯ সালে তৎকালীন সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের উদ্যোগে চট্টগ্রামে প্রথমবারের মতো ঢাকার মতো সমন্বিতভাবে এক ভেন্যুতে বইমেলার আয়োজন করে, যেটি চট্টগ্রামের বইপ্রেমীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠে।



