নূর মোহাম্মদ হৃদয়,খাগড়াছড়িঃ খাগড়াছড়ি জেলাধীন দীঘিনালা উপজেলা থানা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শাহ মোফাচ্ছেল হকের বিরুদ্ধে নানান অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।একাধিক ক্ষতিগ্রস্ত, হয়রানির শিকার হিল আনসার ও ভিডিপির সদস্য এবং সাধারণ ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এবং হয়রানীর শিকার মিলন শীল পেশায় তিনি একজন নাপিত।
তিনি জানান, আমার ছেলে টিপলু শীলের অঙ্গীভুত হিল আনসার হিসেবে চাকুরি হয়। চাকুরী দেওয়ার জন্য সুপারিশ করেছেন বলে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন আনসার কর্মকর্তা শাহ মোফাচ্ছেল হক। উক্ত টাকা দেওয়ার পরেও পরবর্তীতে আমার নিকট আরো ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন তিনি। আমি দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় তিনি আমাকে তার অফিস থেকে আসতে দেয় নাই। অনেকটা আটকে রাখে। তখন আমি নিরুপায় হয়ে আমার বাড়িতে ফোন করে বসত ভিটার দলিল জমা রেখে সেখান থেকে উদ্ধার হই। পরবর্তীতে রেশন কার্ড বন্ধক রেখে ১ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা অফিসারের প্রতিনিধি আনসার সদস্য বাবলু গাজীর হাতে তুলে দেই। কিন্তু টাকা দেওয়ার পরেও আমার বসত ভিটার দলিল ফেরত দেয় নাই।
মিলন শীল আরো জানান, এ বিষয়ে স্থানীয় সাংবাদিক কাদের সাহেবের সহযোগীতা চাইলে,আনসার অফিসার বিষয়টি জানতে পেরে ১২ মে রাত সোয়া বারোটার দিকে আমার বাড়িতে সশস্ত্র অবস্থায় বাবলু গাজীসহ অন্যান্য সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে এসে ভয়ভীতি দেখান এবং আমাকে যেকোনো সময় তুলে নিয়ে গায়েব করার হুমকি দেন। তাদের এই হুমকিতে আমার স্ত্রী ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। এখনো তার চিকিৎসা চলছে। আমি ও আমার পরিবার জীবনের ভয়ে আতঙ্কিত অবস্থায় দিনযাপন করছি। ফলে জেলা আনসার ভিডিপি কমান্ড্যান্ট অফিসার বরাবরে অভিযোগ দিতে বাধ্য হয়েছি।
এছাড়াও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হিল ভিডিপির এক পিসি জানান,”দীর্ঘদিন এক জায়গায় থেকে স্থানীয় প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় রাতকে দিন, দিনকে রাত করে যাচ্ছেন শাহ মোফাচ্ছেল হক। তার অনিয়ম আর অপকর্মে অতিষ্ঠ দীঘিনালা হিল আনসার ও ভিডিপির প্রায় সদস্য। টাকার বিনিময়ে সিনিয়রদের বাদ দিয়ে জুনিয়র/ অযোগ্যদের পদায়নের সুপারিশ, আনসার ভিডিপির সদস্যদের নামীয় রেশন কার্ড টাকার বিনিময়ে অন্যজন কে হস্তান্তর, আনসার সদস্যদের ৫৯ বছরের পরেও চাকুরীতে বহাল রাখার আশ্বাস সহ নানান অভিযোগ উঠছে শাহ মোফাচ্ছেল হকের বিরুদ্ধে”।
এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত অফিসার শাহ মোফাচ্ছেল হক বলেন, “কয়েকজনের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তদন্ত চলছে”।
খাগড়াছড়ি জেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোঃ আরিফুর রহমান (পিপিএম) জানান,”অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে।প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে”।




