নাটোর প্রতিনিধি: মিল এলাকায় কৃষকদের মাঠে এখনো প্রায় ১০ হাজার মেট্রিক টন আখ দণ্ডায়মান রয়েছে। অথচ আখের অভাবে নির্ধারিত সময়ের আগেই মাত্র ৬৭ কার্যদিবসে ৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদন করে বন্ধ হয়ে গেছে লালপুর উপজেলার গোপালপুরের নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল।
গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে চিনিকলটি বন্ধ হয়ে গেছে। ২০২১-২২ আখমাড়াই মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার অর্ধেক চিনিও উৎপাদন করতে পারেনি চিনিকলটি। চিনিকলে পর্যাপ্ত আখ না পাওয়ার কারণ হিসেবে চিনিকল এলাকায় অবৈধভাবে চালিত পাওয়ার ক্রাশারকে (যন্ত্রচালিত আখমাড়াই কল) দায়ী করছে চিনিকল সংশ্লিষ্টরা।
তাদের দাবি চিনিকল এলাকায় অবৈধভাবে চালিত পাওয়ার ক্রাশার প্রায় ৯০ হাজার মেট্রিক টন আখমাড়াই করেছে। নর্থ বেঙ্গল সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, ২০২১-২০২২ আখ মাড়াই মৌসুমে ১ লাখ ৭০ হাজার মেট্রিক টন আখমাড়াই করে ১৩ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ২৬ নভেম্বর আখমাড়াই শুরু হয়। মাত্র ১ লাখ ২ হাজার ২২২ মেট্রিক টন আখমাড়াই করে ১ ফেব্রুয়ারি চিনিকলটি বন্ধ হয়ে যায়।
এ ব্যাপারে উত্তরবঙ্গ চিনিকল আখচাষি সমিতির সভাপতি আনছার আলী দুলাল গণমাধ্যমকে বলেন, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলে আখের মূল্য প্রতি মণ ১৪০ টাকা অথচ পাওয়ার ক্রাশার মালিকরা আখ কিনছে ২০০ টাকা মণ দরে। ফলে অধিক লাভের আশায় চাষিরা পাওয়ার ক্রাশার মালিকদের কাছে আখ বিক্রি করেছেন।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক কৃষিবিদ হুমায়ুন কবীর গণমাধ্যমকে বলেন, গুড় তৈরি ছাড়াও আখ কাটার শ্রমিক সংকটের অজুহাতে কৃষকরা তাদের আখ মিলে সরবরাহ করেননি। এ কারণে চলতি মাসের ১ তারিখ থেকে সুগার মিলটি বন্ধ হয়ে গেছে।



