চকরিয়া অফিস : কক্সবাজারের চকরিয়ায় মাতামুহুরী নদীর ভাঙনের শিকার হয়ে বসতি হারানো একটি পরিবার দীর্ঘকাল ধরে বনভূমিতে আশ্রয় নিয়ে বসবাস করে আসছে। সম্প্রতি ঘূর্নিঝড় রিমালের আঘাতে লন্ডভন্ড এই পরিবারটি বসতবাড়ি সংস্কার করতে গিয়ে চাঁদাবাজ চক্রের বাধার মুখে পড়ে। দাবীকৃত চাঁদা না দেওয়ায় হামলা ও লুটপাটের শিকার হয়েছে। উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামনগর মাদরাসা পাড়াস্থ সংরক্ষিত বনভূমিতে এই ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, বনভূমিতে দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে বসবাস করে আসছে মাতামুহুরী নদী ভাঙ্গনে বসত-ভিটা হারানো নেছারুল হকের অসহায় পরিবার। কিন্তু নলবিলা বনবিটের গেইটমান ইবরাহীম খলিল ও সাইফুল ইসলাম মানিকের নেতৃেত্ব ৮/১০ জন লাঠিয়াল মহিলা নিয়ে অসহায় বৃদ্ধের কাছ থেকে ৫ লক্ষ টাকা চাঁদার দাবীতে হামলা চলায়। ১ জুন থেকে ৪ জুন বিকেল পর্যন্ত বাড়ি সংস্কার কাজ চলাকালে নির্মাণ সামগ্রী লুট ও ভাংচুর চালায়। এক পর্যায়ে বৃদ্ধার স্ত্রী এগিয়ে গেলে তাকে মারধর করে।
উল্লেখ, নলবিলা বিটের গেইটম্যান ইবরাহিম ও তার ভাই সাইফুল ইসলাম মানিক দীর্ঘদিন ধরে সরকারি জমি বিক্রয় করে অসহায় ও গরীব লেকদের কাছ থেকে বিভিন্নভাবে অন্তত অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তারই ধারবাহিকতায় বিগত কিছুদিন যাবৎ অসহায় বৃদ্ধের কাছ থেকে অন্যায়ভাবে বসতি উচ্ছেদের হুমকি দেয়। সম্প্রতি ঘূর্নিঝড় রিমালে লন্ডভন্ড হয়ে যাওয়ার কৌশলকে ব্যবহার করে বাড়ি সংস্কারে বাধা দিয়ে তারা এঘটনা ঘটিয়েছে। এ বিষয়ে জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করার পর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বর্তমানে অসহায় পরিবার উদ্বেগ আতঙ্ক ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভোগছে বলে জানিয়েছেন। ইতিপূর্বে তাদের বিরুদ্ধে বিজ্ঞ সিনিয়র জুড়িশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত চকরিয়ায় মামলা (নং- ৫১২/২১) দায়ের করা হয়। উক্ত মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।
গৃহকর্তা নেছারুল হক জানান, মাতামুহুরী নদীর ভাঙ্গনের কবলে পড়ে তার বাড়িসহ অসংখ্য বসতবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়ে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েন। এরপর কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ইসলামনগর মাদরাসা পাড়ায় কয়েকজনের কাছ থেকে দথলীয় ২০ শতাংশ বনভূমি ২ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় ননজুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তির মাধ্যমে ক্রয় করে দীর্ঘকাল ধরে বসতি স্থাপন করে আসছেন।
চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, এ ধরনের একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




