প্রদীপ দাশ কক্সবাজার (সদর) প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় রিমাল কক্সবাজারে কোন ক্ষয়-ক্ষতি করতে না পারলেও পরবর্তীতে তান্ডব চালিয়েছে। ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলার পরই কক্সবাজারে শুরু হয় ঝড়ো হওয়া। যে ঝড়ো হওয়ায় উড়ে গেছে সৈকতপাড়ের শতাধিক দোকানপাট। আগ্রাসী সাগরের ভয়ঙ্কর ঢেউয়ে উপড়ে গেছে ঝাউ গাছ। এবং তলিয়ে গেছে জেলার ২৮২ টি মৎস্য ঘের।

ঘূর্ণিঝড় রিমল পরবর্তী কক্সবাজার ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়া চলছে। রবিবার রাত ১০ টা থেকে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণ সোমবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত অব্যাহত আছে। থেমে থেমে চলা এ ভারী বর্ষণের সাথে ঝড়ো হওয়া ও বজ্রপাত। সোমবার সকালে ঝড়ো বাতাস। এসময় সৈকতের ৫ টি পয়েন্টের শতাধিক দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় তুমুল বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাস উপেক্ষা করে দোকান রক্ষার চেষ্টা করছেন অনেকে।
সৈকতের লাবণী পয়েন্টের চায়ের দোকানি তুহিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় কক্সবাজার অতিক্রম করার পর এভাবে তুমুল বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাস আগে কোন দিন দেখিনি। এই প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব স্বচক্ষে দেখলাম। আমার দোকানের ছাউনি বাতাসে উড়ে গেছে আর পানির বোতল থেকে শুরু করে চিপসের প্যাকেট উড়ে কোথায় গেছে জানিনা।

চটপটির দোকানদার আমান উল্লাহ বলেন, লাবনী পয়েন্টের ১০টি দোকানের ছাউনি থেকে শুরু মালামাল উড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বাকি যা আছে তা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।

শামুক-ঝিনুকের ব্যবসায়ী আবু বলেন, ত্রিপল দিয়ে মালামাল রশি দিয়ে বেঁধে ছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে।

বেলা ১১ টার পরপরই শুরু হয় জোয়ার। তান্ডব শুরু করে উপকূলের ঝাউ বনে। উপড়ে ফেলে বেশ কিছু বৃক্ষ। ভয়ঙ্কর ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বেপরোয়া পর্যটকদের সামলাতে হিমসিম খায় কর্তৃপক্ষ। ভয়ঙ্কর ঢেউয়ের মাঝেও সমুদ্রস্নানে নামছেন অনেকে। মাইকিং করেও কোনভাবে সরানো যাচ্ছে না তাদের। শেষমেষ ভয়ংকর ঢেউ থেকে পর্যটকদের জীবন রক্ষায় লাঠি হাতে তুলে নেন বিচ কর্মীরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাসুদ রানা বলেন, গত দুইদিন ধরে পর্যটকদের কাছে বারবার অনুরোধ করেছি, সমুদ্রস্নান থেকে বিরত থাকুন, পানি থেকে উঠে যান। কিন্তু জলোচ্ছাসের সর্বোচ্চ সীমার মাঝেও
সমুদ্রস্নানে পর্যটকরা নামছেন। এই মুহুর্তে তাদের জীবন রক্ষায় আমাদের শক্তি প্রয়োগ করা ছাড়া কিছু বাকি ছিল না। তারপরও বার বার অনুরোধ করছি, কিন্তু কোন কিছুই মানতে চান না এই ভ্রমণপিপাসুরা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উপ সহকারী আবহাওয়াবিদ তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর ১২ টা থেকে সোমবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯৩ মিলিমিটার। আগামি আরও ২/৩ দিন একই ধরণের বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ফলে পাহাড় ধ্বসের আশংকা রয়েছে। সাগরের পানি স্বাভাবিক অবস্থা চেয়ে এখনও ২ ফুট উচ্চতা বেড়ে রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে।

বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের অনন্তত ৩০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধি। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরাটেক, কুতুবদিয়া পাড়া, সমিতি পাড়া, মোস্তাকপাড়া, ফদনার ডেইল, নুনিয়ারছড়া, মহেশখালী উপজেলার ধলাঘাটা ও মাতারবাড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব উপকূলের লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। যাদের রান্না করা খাবার বিতরণ করছে প্রশাসন।

এদিকে, ভূমিধ্বসের আশংকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারিতে নিরাপদে আশ্রয় নিতে প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। আগাম প্রস্তুতির কারণে প্রাণহানি না হলেও জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে জেলার ২৮২টি মাছের ঘের ও ফসলি ক্ষেত। বাড়িঘর ও জনপদ ভাসছে নোনাপানিতে। ঝড়ের সময় উপড়ে গেছে গাছপালা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান জানিয়েছেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও জনপ্রতিনিধি কাজ করছেন। সহজে নিরাপদে আশ্রয় না নিলে জোরপূর্বক সরানো হবে।

প্রদীপ দাশ কক্সবাজার (সদর) প্রতিনিধি: ঘূর্ণিঝড় রিমাল কক্সবাজারে কোন ক্ষয়-ক্ষতি করতে না পারলেও পরবর্তীতে তান্ডব চালিয়েছে। ৯ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলার পরই কক্সবাজারে শুরু হয় ঝড়ো হওয়া। যে ঝড়ো হওয়ায় উড়ে গেছে সৈকতপাড়ের শতাধিক দোকানপাট। আগ্রাসী সাগরের ভয়ঙ্কর ঢেউয়ে উপড়ে গেছে ঝাউ গাছ। এবং তলিয়ে গেছে জেলার ২৮২ টি মৎস্য ঘের।

ঘূর্ণিঝড় রিমল পরবর্তী কক্সবাজার ভারী বর্ষণ ও ঝড়ো হাওয়া চলছে। রবিবার রাত ১০ টা থেকে শুরু হওয়া এই ভারী বর্ষণ সোমবার দুপুর ২ টা পর্যন্ত অব্যাহত আছে। থেমে থেমে চলা এ ভারী বর্ষণের সাথে ঝড়ো হওয়া ও বজ্রপাত। সোমবার সকালে ঝড়ো বাতাস। এসময় সৈকতের ৫ টি পয়েন্টের শতাধিক দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। শেষ সম্বলটুকু রক্ষায় তুমুল বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাস উপেক্ষা করে দোকান রক্ষার চেষ্টা করছেন অনেকে।
সৈকতের লাবণী পয়েন্টের চায়ের দোকানি তুহিন বলেন, ঘূর্ণিঝড় কক্সবাজার অতিক্রম করার পর এভাবে তুমুল বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাস আগে কোন দিন দেখিনি। এই প্রথম ঘূর্ণিঝড়ের তান্ডব স্বচক্ষে দেখলাম। আমার দোকানের ছাউনি বাতাসে উড়ে গেছে আর পানির বোতল থেকে শুরু করে চিপসের প্যাকেট উড়ে কোথায় গেছে জানিনা।

চটপটির দোকানদার আমান উল্লাহ বলেন, লাবনী পয়েন্টের ১০টি দোকানের ছাউনি থেকে শুরু মালামাল উড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। এখন বাকি যা আছে তা রক্ষা করার চেষ্টা করছি।

শামুক-ঝিনুকের ব্যবসায়ী আবু বলেন, ত্রিপল দিয়ে মালামাল রশি দিয়ে বেঁধে ছিলাম। কিন্তু বৃষ্টি আর ঝড়ো বাতাসে সবকিছু নষ্ট হয়ে গেছে। প্রায় ২০ হাজার টাকার মালামাল বৃষ্টিতে নষ্ট হয়েছে।

বেলা ১১ টার পরপরই শুরু হয় জোয়ার। তান্ডব শুরু করে উপকূলের ঝাউ বনে। উপড়ে ফেলে বেশ কিছু বৃক্ষ। ভয়ঙ্কর ঢেউয়ের তোড়ে তলিয়েছে শহর রক্ষা বাঁধ। এমন দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে বেপরোয়া পর্যটকদের সামলাতে হিমসিম খায় কর্তৃপক্ষ। ভয়ঙ্কর ঢেউয়ের মাঝেও সমুদ্রস্নানে নামছেন অনেকে। মাইকিং করেও কোনভাবে সরানো যাচ্ছে না তাদের। শেষমেষ ভয়ংকর ঢেউ থেকে পর্যটকদের জীবন রক্ষায় লাঠি হাতে তুলে নেন বিচ কর্মীরা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট (পর্যটন সেল) মো. মাসুদ রানা বলেন, গত দুইদিন ধরে পর্যটকদের কাছে বারবার অনুরোধ করেছি, সমুদ্রস্নান থেকে বিরত থাকুন, পানি থেকে উঠে যান। কিন্তু জলোচ্ছাসের সর্বোচ্চ সীমার মাঝেও
সমুদ্রস্নানে পর্যটকরা নামছেন। এই মুহুর্তে তাদের জীবন রক্ষায় আমাদের শক্তি প্রয়োগ করা ছাড়া কিছু বাকি ছিল না। তারপরও বার বার অনুরোধ করছি, কিন্তু কোন কিছুই মানতে চান না এই ভ্রমণপিপাসুরা।

কক্সবাজার আবহাওয়া অফিসের উপ সহকারী আবহাওয়াবিদ তোফায়েল আহমেদ জানিয়েছেন, রবিবার দুপুর ১২ টা থেকে সোমবার দুপুর ১২ টা পর্যন্ত ২৪ ঘন্টায় কক্সবাজারে বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৯৩ মিলিমিটার। আগামি আরও ২/৩ দিন একই ধরণের বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। ফলে পাহাড় ধ্বসের আশংকা রয়েছে। সাগরের পানি স্বাভাবিক অবস্থা চেয়ে এখনও ২ ফুট উচ্চতা বেড়ে রয়েছে। ফলে সাগরবর্তী এলাকায় জোয়ারের পানি প্রবেশ করবে।

বৃষ্টি এবং জোয়ারের পানিতে কক্সবাজারের অনন্তত ৩০ গ্রাম প্লাবিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধি। এর মধ্যে কক্সবাজার পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের নাজিরাটেক, কুতুবদিয়া পাড়া, সমিতি পাড়া, মোস্তাকপাড়া, ফদনার ডেইল, নুনিয়ারছড়া, মহেশখালী উপজেলার ধলাঘাটা ও মাতারবাড়ি ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা এবং সেন্টমার্টিন দ্বীপের কিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব উপকূলের লোকজন আশ্রয় কেন্দ্রে রয়েছেন। যাদের রান্না করা খাবার বিতরণ করছে প্রশাসন।

এদিকে, ভূমিধ্বসের আশংকায় পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারিতে নিরাপদে আশ্রয় নিতে প্রচারণা চালাচ্ছে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও পৌরসভা। আগাম প্রস্তুতির কারণে প্রাণহানি না হলেও জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে জেলার ২৮২টি মাছের ঘের ও ফসলি ক্ষেত। বাড়িঘর ও জনপদ ভাসছে নোনাপানিতে। ঝড়ের সময় উপড়ে গেছে গাছপালা।

কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহিন ইমরান জানিয়েছেন, পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণদের নিরাপদে আশ্রয় নিতে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ও জনপ্রতিনিধি কাজ করছেন। সহজে নিরাপদে আশ্রয় না নিলে জোরপূর্বক সরানো হবে।