পেকুয়া প্রতিনিধি: কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলায় এক শিক্ষককে জোরপূর্বক অহপহরণ করে শারীরিক নির্যাতন চালিয়ে খালী স্টাম্প ও ব্যাংকের চেকে স্বাক্ষর নিয়েছেন সংঘবদ্ধ দূর্বূত্তরা। ভূক্তভোগী শিক্ষকের নাম মো: মনির উদ্দিন। তিনি উপজেলার শেখেরকিল্লা ঘোনা গ্রামের মৃত সাহাব উদ্দিনের ছেলে এবং টইটং বটতলীয় শফিকিয়া দাখিল মাদ্রাসার বিএসসি শিক্ষক। ঘটনাটি ঘটেছে, গত ২৬ এপ্রিল রাত ৮ঘটিকার দিকে উপজেলার টইটং ইউনিয়নের টইটং বাজার এলাকায়।
এ ঘটনায় ভূক্তভোগী শিক্ষক মোহাম্মদ মনির উদ্দিন বাদী হয়ে গতকাল ২৮ এপ্রিল অপহরণকারী দূর্বূত্তদের বিরুদ্ধে পেকুয়া থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ দায়ের এর পর পেকুয়া থানার ওসি সেটি তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছেন থানার এস আই শামসুদ্দিনকে।
পেকুয়া থানায় দায়েরকৃত অভিযোগে ভূক্তভোগী শিক্ষক মনির উদ্দিন দাবি করেছেন, গত ২৬ এপ্রিল রাত আনুমানিক ৮টায় সিএনজি যোগে পেকুয়া থেকে দিনি চট্টগ্রাম শহরে যাওয়ার সময় দিদারুল ইসলাম (৪৫), পিতা হাজী জাফর আলম সাং- ভারুয়াখালী, ১নং ওয়ার্ড, ইউনিয়ন- বারবাকিয়া, থানা- পেকুয়া, জেলা- কক্সবাজার এর নেতৃত্বে আরো অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জন সন্ত্রাসী নিয়ে তাদের হাতে থাকা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আমাকে পথরোধ করে হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে অপহরণ করে এবং আমার মুখ বন্ধ করে সিএনজি যোগে পেকুয়া বাজারস্থ পেকুয়া ইসলামী ব্যাংকের পার্শ্বে মেহের আলী বিল্ডিং এ দিদারের বাসায় নিয়ে এসে একটি কক্ষে আটকিয়ে রাখে।
তিনি বলেন,এরপর আমার হাতে থাকা ব্যাগের ভিতরে থাকা আমার সন্তানদের সেমিষ্টার ফি ও অন্যান্য খরচ বাবদ নগদ এক লাখ দশ হাজার টাকা, আমার ব্যবহৃত একটি এন্ড্রয়েট মোবাইল সেট কেড়ে নেয়। মোবাইল সেটের মূল্য ১৭ হাজার টাকা এবং আমার হাত ব্যাগে থাকা আমার নামীয় পেকুয়া ইসলামী ব্যাংক পিএলসির পেকুয়া শাখার চেক বহি থেকে একটি খালি চেকের মধ্যে স্বাক্ষর প্রদান করতে বললে, আমি স্বাক্ষর প্রদান করতে অনিহা প্রকাশ করলে দিদারের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীগণ আমাকে অতর্কিত ভাবে লাথি, কিল, ঘুষি মেরে মারাত্মক ভাবে জখম করে। এরপর আমাকে হত্যার ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক একশত টাকা মূল্যেমানের তিনটি নন-জুড়িসিয়াল স্ট্যাম্পে ও ১টি খালি চেকে স্বাক্ষর দিতে বাধ্য করেন। যাহার চেক নং- ৮০৫৪৭৪৬। এরপর তারা আমাকে ছেড়ে দেয় এবং উক্ত ঘটনা কাউকে বললে বা আইনের আশ্রয় নিলে আমাকে ভবিষ্যতে প্রাণে মেরে ফেলবে বলে হুমকি দেয়।
ভূক্তভোগী শিক্ষক মনির উদ্দিন বলেন, দিদার নামের ওই সন্ত্রাসী আমার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে উল্টো হয়রানি করবে এবং আমার শিক্ষকতা পেশা থেকে সরিয়ে দেবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে। তাই প্রতিকার চেয়ে আমি পেকুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।




