মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, পেকুয়া: চট্টগ্রাম দক্ষিন বন বিভাগের পেকুয়ার বারবাকিয়া রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তার বিরূদ্ধে আবারো একজোট হচ্ছে বালু, গাছ ও পাহাড় খেকোরা! বিগত দিন গুলোতে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে গাছ, বালু ও পাহাড় খেকোদের চোখের ঘুম হারাম করে দেন তিনি। বিগত সময়ে সফল অভিযান চালিয়ে পেকুয়া উপজেলার আশপাশের এলাকা থেকে আসা গর্জন, সেগুন সহ বিবিধ প্রজাতির গোল ও চিরাইকৃত প্রায় ৪৫০০ ঘনফুট কাঠ জব্দ করা হয় এবং প্রায় ৫ লাখ ঘনফুট পাহাড়ি বালু জব্দ করে আইনগত ব্যাবস্থা নেওয়া হয়।
পাশাপাশি অবৈধ গাছ পরিবহন, বালু, পাহাড়ের মাটি কাটাসহ ইত্যাদি অপরাধে স্কেভেটরসহ অর্ধ শতাধিক যানবাহন আটক করে বিধি মোতাবেক ব্যাবস্থা গ্রহন করে। কিছু দিন পুর্ব হতে বালু খেকো একটি সিন্ডিকেট জব্দকৃত বালু পাহাড় থেকে সরানোর অপচেষ্টা শুরু করে। অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি এসবে জড়িত। যে সকল ব্যক্তি এসব অপরাধের সাথে জড়িত তাদের আসামী করে শতাধিক বন মামলা দায়ের করেন। গত মৌসুমে বারবাকিয়া রেঞ্জের সাঁড়াশি অভিযানে কাঠ পাচারকারী সিন্ডিকেট, পাহাড়খেকো,ভুমিদস্যুসহ অবৈধ বালি পাচারাকারীরা একট্টা হয়ে এ মৌসুমে যেন নির্বিঘ্নে তাদের অপরাধ কার্মকান্ড পরিচালনা করতে পারে সে জন্য কৌশল পরিবর্তন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গাছ বালু ও পাহাড়খেকো সিন্ডিকেট নামে বেনামে বিভিন্ন দপ্তরে মিথ্যা অভিযোগ নামা দাখিল করেছেন। তাকে সরাতে পারলে মধুখালীর বালু বের করে দুই কোটি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে খাবে। তাদের এই ভাগবাটোয়ারা প্রধান বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রেঞ্জা কর্মকতা হাবিবুল হক। সাংবাদিকদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে ভূয়া সংবাদ পরিবেশন করিয়ে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে অন্যত্র বদলী বা চাকরির ক্ষতি করার জন্য একটা চিহ্নিত মহল উঠেপড়ে লেগেছে। বাতাসে খবর ছড়িয়েছে উপর মহলের ইন্ধন আছে এই গভীর ষড়যন্ত্রে। এছাড়া বিভিন্ন ভাবে হুমিক প্রদর্শন করা হচ্ছে রেঞ্জ কর্মকর্তাকে। প্রশাসনের একটা পক্ষ তাদেরকে প্রকাশ্য অপ্রকাশ্য সাপোর্ট দিচ্ছে।
গোপন সূত্রে আরো জানায়, এমন কি সিন্ডিকেটের কাজে বাধা দিলে রেঞ্জ কর্মকতা, বিট কর্মকর্তা, জীবন নাশ সহ বনবিভাগের অস্থিত্ব বিলিন করে দেওয়া হবে। যে কোন সময় রেঞ্জ কর্মকতা হাবিবুল হককে শারীরিক ভাবে হামলা করতে পারে।
চট্টগ্রাম দক্ষিণ বনবিভাগের সহকারী বন সংরক্ষক (এফিএফ) দেলোয়ার হোসেন বলেন, এখানে আমাদের কারোও সাথে কোন রেশারেশি নাই। বালু প্রকৃতি ও পরিবেশ রক্ষার স্বার্থে আমারা আমাদের এ চেষ্টা। আমরা আমাদের মত চেষ্টা করছি এটা কোন ভাবেই যেন নিলাম দিতে না পারে। আমরা কোর্টের পারমিশন এনে স্পটে সেটা ডিসমিস করে ফেলব। যদি আমাদের কর্মকতাদের কেউ শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করা বা ক্ষতি করার চেষ্টা করলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্রতি বছর মৌসুম শুরুতেই যেমন গাছ, বালু, পাহাড় খেকোদের প্রবল ষড়যন্ত্র শুরু হয় বারবাকিয়া রেঞ্জ অফিসার মোঃ হাবিবুল হকের বিরূদ্ধে তার চলমান অভিযান ব্যাহত করার জন্য। বিপরীতে রেঞ্জ কর্মকর্তাও সেই চ্যালেঞ্জ গ্রহন করে একের পর এক সফল অভিযান পরিচালনা করে তার জবাব দেন।
জানা যায়, ২১/০৪/২০২৪ ইং তারিখ ভোর ৬টায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে টইটং সীমান্ত ব্রীজ এলাকায় এক অভিযান পরিচালনা করে বাশখালী এলাকা হতে আসা তিনটি ট্রলি সহ অনুমানিক ১শ’ঘনফুট আকাশমনি চিরাই কাঠ অবৈধভাবে পাচার কালে জব্দ করেন। এসময় বারবাকিয়া ও টইটং বিটের স্টাফ রা তার সংগে ছিলেন। অপরদিকে গত কয়েক দিন পূর্বে রেঞ্জ কর্মকর্তা বারবাকিয়া রেঞ্জের নির্দেশে হারবাং এলাকা থেকে আসা আকাশমনি বল্লী সহ একটি ট্রলি গাড়ি সালাউদ্দিন ব্রীজ নামক এলাকা হইতে আটক করে পাহাড়চান্দা বিটকর্মকর্তা ও স্টাফরা।




