চকরিয়ায় ইউপি’র গোদী নিলামে অনিয়মের অভিযোগ
চকরিয়া অফিস : কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের ১৪৩১ বাংলা সনের গোদী নিলাম ডাক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান নীতিমালা লঙ্ঘন করে সর্বোচ্চ নিলাম ডাককারীকে গোদী ইজারা না দিয়ে অবৈধ উপায়ে তার পছন্দের জনৈক ইজারাদারকে গোদী পাইয়ে দিতে অপচেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগী।
এ ঘটনায় আজ রোববার (৩১ মার্চ) সর্বোচ্চ নিলাম ডাককারী ইজারাদার মনছুর উদ্দিন বাদি হয়ে ইউপি চেয়ারম্যানের অবৈধ কর্মকাণ্ডের ফিরিস্তি দিয়ে চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগে মনছুর উদ্দিন উল্লেখ করেন, তিনি ১৪৩১ বাংলা সনে বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক গত ২০ মার্চ প্রচারিত বিজ্ঞপ্তির আলোকে পরিষদের ১ নম্বর গোদী বমুর মুখ বাঁশ বাজার, ২ নম্বর গোদী বমু পুকুরিয়া খোলা খেয়াঘাট, ৩ নম্বর গোদী ছোট বমুর মুখ খেয়াঘাট ইজারা পেতে ফরম সংগ্রহ করে জমা দিয়ে নিলাম কার্যক্রমে অংশ নেন।
গত ২৮ মার্চ ইউনিয়ন পরিষদের নিলামে তিনি ( ভুক্তভোগী মনছুর উদ্দিন) তিনটি গোদী ৭ লাখ পাঁচ হাজার টাকায় সর্বোচ্চ নিলাম ডাককারী হিসেবে মনোনীত হন। যদিও সরকার নির্ধারিত ইজারা মুল্য বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়নি।
মনছুর উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, নিলাম অনুষ্ঠানে পছন্দের লোক গোদী ইজারা না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক ওই সময় ইউপি চেয়ারম্যান মনজুরুল কাদের কৌশল অবলম্বন করে নিলাম বাতিল ঘোষণা করে পুনরায় পরবর্তী তারিখ দিয়ে নতুন ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন। এ অবস্থায় আমি নিরুপায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের এই ধরনের অনিয়মের বিরুদ্ধে আইনী প্রতিকার কামনা করেছি।
জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে একই গোদী সমুহ ১৪২৯ বাংলা সনে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা, ১৪৩০ বাংলা সনে ৯ লাখ টাকায় আবু শামা নামের জনৈক ইজারাদারকে ইজারা দেওয়া হয়। তবে গেল দু’বছরের গোদী নিলাম বাবত ইউনিয়ন পরিষদের তহবিলে উল্লেখিত টাকা জমা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করে বমুবিলছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনজুরুল কাদের বলেন, প্রথম নিলামে পরিষদের কাঙ্ক্ষিত ইজারা মুল্য না উঠায় ওইদিনের নিলাম বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। একইদিন দ্বিতীয় দফায় ইজারা ডাক দেওয়া হয়েছে। যাতে পরিষদের কাঙ্ক্ষিত ইজারা মুল্য পাওয়া যায়। এখানে আমার প্রচেষ্ঠা হচ্ছে পরিষদের রাজস্ব আয় নিশ্চিত করা।
ভুক্তভোগী সর্বোচ্চ ডাককারীর লিখিত অভিযোগটি পেয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো.ফখরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, গোদী নিলামে ইউনিয়ন পরিষদের এখতিয়ার রয়েছে। কিন্তু ১৪৩১ বাংলা সনের দেওয়া নিলাম বিজ্ঞপ্তিতে ইউনিয়ন পরিষদ কর্তৃক ইজারা দেওয়া গোদীর কাঙ্খিত মুল্য নির্ধারণ করা হয়নি। সেখানে কিছুটা বিচ্যুতি দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু গোদী নিলাম নিয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাই তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




