মিরসরাই প্রতিনিধি: মিরসরাই উপজেলার সাহেরখালী ইউনিয়নের ৬ বার নির্বাচিত ৩নং ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেম (৬৫) সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে মৃত্যু ররণ করেন।
মঙ্গলবার (০১ ফেব্রুয়ারি) রাত ৩ টায় হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়েছে। তিনি ৬ দিন মৃত্যুর হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়েছেন।
নিহতের স্ত্রী মিরসরাই থানায় মামলা দায়ের করার পর তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
দীর্ঘ ৩০ বছর সুনামের সাথে ইউপি মেম্বার হিসেবে দায়িত্বপালন করে শেষ বয়সে সন্ত্রাসীদের চুরিকাঘাতে নির্মমভাবে খুন হন আবুল কাশেম। তাঁর মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসির মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। খুনীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি উঠেছে এলাকায়।
এই ঘটনায় স্থানীয় ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বেলাল হোসেনকে প্রধান আসামী করে ৬ জনের নাম উল্লেখ্য সহ অজ্ঞাত আরো ৫-৬ জনের নামে মিরসরাই থানায় সোমবার রাতে আবুল কাশেমের স্ত্রী বিবি ফাতেমা বাদি হয়ে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত বেলালের ছেলে ফাহাদ, নজরুল ও সিরাজুল ইসলাম নামে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পুলিশ তাদের থানায় জিজ্ঞাসাবাদ করছে বলে জানা গেছে।
এর আগে বুধবার (২৬ জানুয়ারি) উপজেলার দক্ষিণ মঘাদিয়া ঘোনা এলাকার খালের কাদা মাটি থেকে আবুল কাশেমকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ওইদিন সন্ধ্যা ৬ টা থেকে নিখোঁজ হন তিনি। পরে রাত ১০টায় ছুরিকাহত রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (চমেক) ভর্তি করানো হয়েছে। হাসাপাতালে ৩ বার অপারেশনের পর তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন। সোমবার রাত ৩টায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কাশেমের ছেলে বদরুদৌজা তারেক গণমাধ্যমকে জানান, হাসপাতালে দীর্ঘ ৬দিন বাবাকে নিয়ে রীতিমত যুদ্ধ করেছি। আমাদের সকল চেষ্টা ব্যর্থ বাবাকে বাঁচাতে পারলাম না।
তারেক আরো বলেন, আমার বাবা সারাটা জীবন মানুষের জন্য অর্থ সম্পদ দিয়ে নিজেকে উজাড় করে দিয়েছেন। ৩০ বছর ইউপি মেম্বার ছিলেন, শেষ বয়সে সন্ত্রাসীরা আমার বাবাকে খুন করলো। আমি খুনী বেলালসহ জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্ত শাস্তি দাবী করছি।
আবুল কাশেমের স্ত্রী বিবি ফাতেমা অভিযোগ করেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে আমার স্বামী আবুল কাশেমের সাথে স্থানীয় শাহের খালী ইউপি’র ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেলাল হোসেনের সাথে বিরোধ চলে আসছিলো। এর আগে কয়েকবার হত্যার হুমকি দিয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর বিরুদ্ধে আদালতে একটি মামলা রয়েছে। আমাদের ধারণা এ ঘটনা বেলালের নির্দেশে আমার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাহের খালী ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য বেলাল হোসেন বলেন, ‘কাশেম সাহেব গত নির্বাচনে আমার প্রতিপক্ষও ছিলো না। তাঁর সাথে কোনকালে আমার কোন বিরোধ ছিলো না। হয়তো বা আমার কোন বিরোধী পক্ষ কাশেম সাহেবের পরিবারকে ভুল বুঝাচ্ছে।’
এদিকে মঙ্গলবার সকালে মিরসরাই থানার ওসি (তদন্ত) মো. অলি উল্ল্যাহ বলেন, হামলার ঘটনায় সোমবার রাতে মিরসরাই থানায় একটি মামলা হয়েছে। আবুল কাশেম মারা যাওয়ায় তা এখন হত্যা মামলা হবে। ইতোমধ্যে মামলায় ৩ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।
এ রিপোর্ট লেখার সময় মঙ্গলবার ১টায় আবুল কাশেমের লাশ চমেক হাসপাতালে মর্গে রাখা হয়েছে। লাশের ময়নাতদন্ত শেষে বাড়ি আনার পর নিজ গ্রামে জানাযা শেষে দাফন করা হবে বলে পারিবারিক সুত্রে জানা গেছে।



